বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ রুখতে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।
ভারতের প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি গত রোববার বার্তা সংস্থা এএনআই-এর (ANI) সাথে আলাপকালে ময়মনসিংহে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যখন কোনো মুসলিম এই ধরণের কাজ করে, তখন আমাদের মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। কোনো সভ্য সমাজে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসলামে কারো ওপর হামলা বা কাউকে অপমান করার কোনো স্থান নেই। যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধও করে থাকে, তবে তাকে শাস্তি দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে ভুক্তভোগী যদি অমুসলিম হন এবং হামলাকারী মুসলিম হন, তবে সেই অপরাধের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ব্লাসফেমির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বার্তায় জানান যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমদ্ধে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে র্যাব ৭ জনকে এবং পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, ময়মনসিংহের এই ঘটনার পাশাপাশি ঢাকায় শরীফ ওসমান হাদি নামে এক সক্রিয় কর্মীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাহমুদ মাদানি সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে উগ্রবাদের যে বিস্তার ঘটছে তা অবিলম্বে দমন করা না গেলে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ মাদানি। তিনি এই ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ এবং ‘ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উগ্রবাদ রুখতে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।
ভারতের প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা মাহমুদ মাদানি গত রোববার বার্তা সংস্থা এএনআই-এর (ANI) সাথে আলাপকালে ময়মনসিংহে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “যখন কোনো মুসলিম এই ধরণের কাজ করে, তখন আমাদের মাথা লজ্জায় নত হয়ে যায়। কোনো সভ্য সমাজে মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসলামে কারো ওপর হামলা বা কাউকে অপমান করার কোনো স্থান নেই। যদি কোনো ব্যক্তি অপরাধও করে থাকে, তবে তাকে শাস্তি দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে ভুক্তভোগী যদি অমুসলিম হন এবং হামলাকারী মুসলিম হন, তবে সেই অপরাধের ভয়াবহতা আরও বৃদ্ধি পায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে ব্লাসফেমির অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে তার মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বার্তায় জানান যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতিমদ্ধে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে র্যাব ৭ জনকে এবং পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে।
এদিকে, ময়মনসিংহের এই ঘটনার পাশাপাশি ঢাকায় শরীফ ওসমান হাদি নামে এক সক্রিয় কর্মীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। মাহমুদ মাদানি সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে উগ্রবাদের যে বিস্তার ঘটছে তা অবিলম্বে দমন করা না গেলে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

আপনার মতামত লিখুন