বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

স্কুটার আরোহী দুই হামলাকারীর গুলিতে প্রাণ হারালেন কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক রাও দানিশ আলী; তদন্তে নেমেছে পুলিশের ৬টি বিশেষ দল

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে গুলি করে হত্যা: ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে গুলি করে হত্যা: ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক

ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) চত্বরে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষক রাও দানিশ আলী। বুধবার রাতে অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছাত্র-শিক্ষক এবং স্থানীয় জনমনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

নিহত রাও দানিশ আলী (৩০) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত 'এবিকে হাই স্কুলে' কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে দানিশ আলী তার দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনেডি অডিটোরিয়ামের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন।

এ সময় একটি স্কুটারে করে দুই ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। হামলাকারীদের একজন চিৎকার করে বলে, "তুই এখনো আমাকে চিনিসনি, এবার চিনবি," এবং পরপর দুই রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি দানিশের মাথায় লাগে এবং তিনি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলীগড় জেলা পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট (এসএসপি) নীরাজ জাদন জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের ৬টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও কুয়াশা ও অন্ধকারের কারণে তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অন্যান্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিধানসভায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ধরনের হামলা পুলিশের সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রক্টর মোহাম্মদ ওয়াসিম আলী জানান, নিহত দানিশ আলী একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষককে গুলি করে হত্যা: ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভারতের ঐতিহ্যবাহী আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) চত্বরে এক ভয়াবহ সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষক রাও দানিশ আলী। বুধবার রাতে অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছাত্র-শিক্ষক এবং স্থানীয় জনমনে গভীর নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

নিহত রাও দানিশ আলী (৩০) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত 'এবিকে হাই স্কুলে' কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে দানিশ আলী তার দুই সহকর্মীর সঙ্গে কেনেডি অডিটোরিয়ামের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন।

এ সময় একটি স্কুটারে করে দুই ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে। হামলাকারীদের একজন চিৎকার করে বলে, "তুই এখনো আমাকে চিনিসনি, এবার চিনবি," এবং পরপর দুই রাউন্ড গুলি চালায়। একটি গুলি দানিশের মাথায় লাগে এবং তিনি সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলীগড় জেলা পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট (এসএসপি) নীরাজ জাদন জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের ৬টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও কুয়াশা ও অন্ধকারের কারণে তা স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশ ব্যক্তিগত শত্রুতা ও অন্যান্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।

মর্মান্তিক এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিধানসভায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি করছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে এ ধরনের হামলা পুলিশের সক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রক্টর মোহাম্মদ ওয়াসিম আলী জানান, নিহত দানিশ আলী একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ছিলেন। এই ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত