বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

নাওয়াদার পর এবার মধুবাণীতে উগ্রবাদী হামলার শিকার এক দিনমজুর

বিহারে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মুসলিম শ্রমিককে গণপিটুনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুরশিদ আলম


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিহারে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মুসলিম শ্রমিককে গণপিটুনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুরশিদ আলম

ভারতের বিহারে ফের এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে উগ্রবাদী এক দল জনতা। গত ১ জানুয়ারি মধুবাণী জেলায় মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম নামে এক ব্যক্তিকে 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে প্রায় ৫০ জন মিলে নৃশংসভাবে মারধর করে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

বিহারের নাওয়াদায় সাম্প্রতিক সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই মধুবাণী জেলায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম সুপল জেলার বীরপুর থানা এলাকার শঙ্করপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি কাজের সন্ধানে মধুবাণীতে এসেছিলেন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মুর্শিদ জানান, পহেলা জানুয়ারি রাতে তিনি দোকান থেকে কিছু সওদা করতে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে 'বাংলাদেশি' বলে গালিগালাজ শুরু করে। মুর্শিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে মারধর করতে থাকে। তিনি প্রাণভয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় ৫০ জনের একটি উগ্র মব তাকে ধরে ফেলে এবং তার ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

মুর্শিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় একটি কালি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে 'বলি' দেওয়ার হুমকি দেয়। নৃশংসভাবে মারধর করার পর তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এই ঘটনায় বিহারের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এআইএমআইএম (AIMIM) এর জাতীয় মুখপাত্র আদিল হাসান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি বলে মারধর করা মানবতার ওপর চরম আঘাত। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ২০২৫ সাল থেকে বিহারে মুসলিমদের ওপর গণপিটুনির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নাওয়াদায় আতহার হোসেন এবং আলতাফ আনসারির মতো ব্যক্তিদেরও একইভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে একই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে—প্রথমে 'বাংলাদেশি' বা 'বহিরাগত' তকমা দেওয়া এবং পরে দলবদ্ধভাবে হামলা চালানো।

রাজিনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে একটি এফআইআর (FIR) দলিল করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


বিহারে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে মুসলিম শ্রমিককে গণপিটুনি, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মুরশিদ আলম

প্রকাশের তারিখ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ভারতের বিহারে ফের এক মুসলিম শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে উগ্রবাদী এক দল জনতা। গত ১ জানুয়ারি মধুবাণী জেলায় মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম নামে এক ব্যক্তিকে 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে প্রায় ৫০ জন মিলে নৃশংসভাবে মারধর করে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

বিহারের নাওয়াদায় সাম্প্রতিক সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই মধুবাণী জেলায় এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটল। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মুর্শিদ আলম সুপল জেলার বীরপুর থানা এলাকার শঙ্করপুর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি কাজের সন্ধানে মধুবাণীতে এসেছিলেন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মুর্শিদ জানান, পহেলা জানুয়ারি রাতে তিনি দোকান থেকে কিছু সওদা করতে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে 'বাংলাদেশি' বলে গালিগালাজ শুরু করে। মুর্শিদ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা তাকে মারধর করতে থাকে। তিনি প্রাণভয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। প্রায় ৫০ জনের একটি উগ্র মব তাকে ধরে ফেলে এবং তার ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়।

মুর্শিদের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাকে স্থানীয় একটি কালি মন্দিরে নিয়ে গিয়ে 'বলি' দেওয়ার হুমকি দেয়। নৃশংসভাবে মারধর করার পর তাকে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এই ঘটনায় বিহারের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এআইএমআইএম (AIMIM) এর জাতীয় মুখপাত্র আদিল হাসান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশি বলে মারধর করা মানবতার ওপর চরম আঘাত। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।"

মানবাধিকার কর্মীদের মতে, ২০২৫ সাল থেকে বিহারে মুসলিমদের ওপর গণপিটুনির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। নাওয়াদায় আতহার হোসেন এবং আলতাফ আনসারির মতো ব্যক্তিদেরও একইভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে একই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে—প্রথমে 'বাংলাদেশি' বা 'বহিরাগত' তকমা দেওয়া এবং পরে দলবদ্ধভাবে হামলা চালানো।

রাজিনগর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে একটি এফআইআর (FIR) দলিল করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত