বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

অবকাঠামো সংকট ও শিক্ষক স্বল্পতার অজুহাতে ৫০ আসনের এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি প্রত্যাহার; বিপাকে শিক্ষার্থীরা

মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি বিতর্কে জম্মুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস অনুমোদন প্রত্যাহার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি বিতর্কে জম্মুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস অনুমোদন প্রত্যাহার

জম্মু-কাশ্মীরের শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স-এ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম বিতর্কের মুখে প্রতিষ্ঠানটির এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিল করেছে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC)। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য অনুমোদিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৬টিতেই মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের পর এই সিদ্ধান্ত এলো। বর্তমানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) গত মঙ্গলবার এক আদেশের মাধ্যমে জম্মুর শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স-এর এমবিবিএস কার্যক্রমের অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৫০টি আসন নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম ব্যাচেই ৪৬ জন মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানটি শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ডের অনুদানে এবং হিন্দুদের দানে পরিচালিত, তাই এখানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকার থাকা উচিত। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এনএমসি কলেজটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

এনএমসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবকাঠামোগত ঘাটতি, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ম্যাটেরিয়ালের অভাব এবং পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও আবাসিক চিকিৎসকের সংকটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষজ্ঞ দল আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সেগুলোকে 'গুরুতর ত্রুটি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এনএমসি জানিয়েছে, মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের অন্য মেডিকেল কলেজে 'সুপারনিউমারারি' (অতিরিক্ত) আসনে স্থানান্তর করতে।

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা, খেলাধুলা ও খাদ্যভ্যাসে সাম্প্রদায়িক নীতি প্রয়োগের অভিযোগ আনেন। তিনি অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজে সরিয়ে নিয়ে এই বিতর্কিত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন।

বিষয় : জম্মু কাশ্মীর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি বিতর্কে জম্মুর মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস অনুমোদন প্রত্যাহার

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

জম্মু-কাশ্মীরের শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স-এ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম বিতর্কের মুখে প্রতিষ্ঠানটির এমবিবিএস কোর্সের অনুমতি বাতিল করেছে ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC)। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য অনুমোদিত ৫০টি আসনের মধ্যে ৪৬টিতেই মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া নিয়ে স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের পর এই সিদ্ধান্ত এলো। বর্তমানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভারতের ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (NMC) গত মঙ্গলবার এক আদেশের মাধ্যমে জম্মুর শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল এক্সিলেন্স-এর এমবিবিএস কার্যক্রমের অনুমতিপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ৫০টি আসন নিয়ে কলেজটির যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম ব্যাচেই ৪৬ জন মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলোর দাবি ছিল, যেহেতু এই প্রতিষ্ঠানটি শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী শ্রাইন বোর্ডের অনুদানে এবং হিন্দুদের দানে পরিচালিত, তাই এখানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ কোটা বা অগ্রাধিকার থাকা উচিত। এই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এনএমসি কলেজটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।

এনএমসি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অবকাঠামোগত ঘাটতি, পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ম্যাটেরিয়ালের অভাব এবং পূর্ণকালীন অভিজ্ঞ শিক্ষক ও আবাসিক চিকিৎসকের সংকটের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একটি বিশেষজ্ঞ দল আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সেগুলোকে 'গুরুতর ত্রুটি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এনএমসি জানিয়েছে, মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষা বজায় রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাদের অন্য মেডিকেল কলেজে 'সুপারনিউমারারি' (অতিরিক্ত) আসনে স্থানান্তর করতে।

এদিকে, জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা, খেলাধুলা ও খাদ্যভ্যাসে সাম্প্রদায়িক নীতি প্রয়োগের অভিযোগ আনেন। তিনি অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের অন্য কলেজে সরিয়ে নিয়ে এই বিতর্কিত পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত