বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বর্তমানে পাকিস্তান সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (GHQ) বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় পক্ষই আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং পেশাদার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন।
পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) তথ্যমতে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
একই দিনে ইসলামাবাদে নৌ সদর দপ্তরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ। সেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পেশাদার প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধানের বাংলাদেশ সফরের পর এই বৈঠকটি সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে উন্নত প্রযুক্তির 'জেএফ-১৭ থান্ডার' (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ২০২৬ সালে পাকিস্তানের ফাতাহ-৫ (Fatah 5) ভেরি লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট পরীক্ষার বিষয়টিও বাংলাদেশের সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং যৌথ সামরিক মহড়ার মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাচ্ছে।
১৯৭৪ সালে দুই দেশের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক রূপ পেলেও ১৯৭১ সালের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পর্ক দীর্ঘকাল স্থবির ছিল। তবে ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর এবং আমান-২০২৫ (Aman-2025) এর মতো বহুজাতিক মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উভয় দেশই এখন স্বাধীন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়তে আগ্রহী। এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বর্তমানে পাকিস্তান সফরে রয়েছেন, যেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (GHQ) বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান পাকিস্তানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় পক্ষই আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং পেশাদার সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করেন।
পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (ISPR) তথ্যমতে, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী সম্পর্কের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
একই দিনে ইসলামাবাদে নৌ সদর দপ্তরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ। সেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং পেশাদার প্রশিক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান নৌবাহিনী প্রধানের বাংলাদেশ সফরের পর এই বৈঠকটি সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। গুঞ্জন রয়েছে যে, বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে উন্নত প্রযুক্তির 'জেএফ-১৭ থান্ডার' (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ২০২৬ সালে পাকিস্তানের ফাতাহ-৫ (Fatah 5) ভেরি লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট পরীক্ষার বিষয়টিও বাংলাদেশের সামরিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং যৌথ সামরিক মহড়ার মতো বিষয়গুলো এখন আলোচনার টেবিলে প্রাধান্য পাচ্ছে।
১৯৭৪ সালে দুই দেশের সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক রূপ পেলেও ১৯৭১ সালের উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পর্ক দীর্ঘকাল স্থবির ছিল। তবে ২০২৫ সাল থেকে শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর এবং আমান-২০২৫ (Aman-2025) এর মতো বহুজাতিক মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উভয় দেশই এখন স্বাধীন নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়তে আগ্রহী। এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন