বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সংলাপ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম, নারী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা আর নয়। কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে যেতে চাই না। আমাদের মাঝে মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। আলোচনার টেবিলে বসে যেকোনো বিষয়ে কথা হতে পারে। বিভেদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।”
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সদ্য বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বক্তব্য।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আসার পর সাভারসহ কয়েকটি এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। সেখানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তিনি একটি স্পষ্ট প্রত্যাশা ও আশার বার্তা দেখতে পেয়েছেন। তার ভাষায়, “১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—এই তিনটি ঐতিহাসিক অধ্যায় সামনে রেখে যদি আমরা দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করি, তাহলে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।”
তিনি তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এ জন্য কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “নারী ও পুরুষ—উভয়েরই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” তিনি জানান, ভবিষ্যৎ নীতিতে সব নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সচ্ছলদের মধ্যে যাদের এটির প্রয়োজন নেই, তারা স্বাভাবিকভাবেই এটি গ্রহণ করবেন না।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে এবং নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়।
অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, “আইটি পার্কের নামে দুর্নীতি হয়েছে।” তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে এবং বিদেশি পেমেন্ট ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সব পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত জরুরি, যাতে মানুষের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।
বিষয় : বিএনপি তারেক রহমান

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় গণমাধ্যম সম্পাদকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি সংলাপ, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্ম, নারী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা আর নয়। কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে যেতে চাই না। আমাদের মাঝে মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে পরিণত না হয়। আলোচনার টেবিলে বসে যেকোনো বিষয়ে কথা হতে পারে। বিভেদের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না।”
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে পত্রিকা, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সদ্য বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ্য বক্তব্য।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ফিরে আসার পর সাভারসহ কয়েকটি এলাকায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তার। সেখানে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তিনি একটি স্পষ্ট প্রত্যাশা ও আশার বার্তা দেখতে পেয়েছেন। তার ভাষায়, “১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—এই তিনটি ঐতিহাসিক অধ্যায় সামনে রেখে যদি আমরা দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করি, তাহলে সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।”
তিনি তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, তাদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। এ জন্য কর্মমুখী শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “নারী ও পুরুষ—উভয়েরই নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।” তিনি জানান, ভবিষ্যৎ নীতিতে সব নারীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, সচ্ছলদের মধ্যে যাদের এটির প্রয়োজন নেই, তারা স্বাভাবিকভাবেই এটি গ্রহণ করবেন না।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে এবং নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কর্মমুখী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়।
অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, “আইটি পার্কের নামে দুর্নীতি হয়েছে।” তিনি জানান, এসব ক্ষেত্রে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে এবং বিদেশি পেমেন্ট ব্যবস্থার জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সব পর্যায়ে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত জরুরি, যাতে মানুষের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন