উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে একটি মসজিদের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিতব্য শৌচাগার ও সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগ এই পদক্ষেপ নেয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ বন্ধ করতে এবং মসজিদের পবিত্রতা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা এখন বাধার মুখে পড়েছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলা কালেক্টরেট সংলগ্ন 'কাছারি মসজিদ'-এ এই ঘটনাটি ঘটে। লখিমপুর সদর কোতোয়ালি এলাকার অন্তর্গত এই মসজিদে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদের মোয়াজ্জিন জানান, ড্রেন সংলগ্ন একটি জায়গায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করত, যা মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করছিল। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থা দূর করতে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে সেখানে একটি ছোট দেয়াল ও ইউরিনাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।
তবে গত বুধবার স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠন এই নির্মাণ কাজকে 'অবৈধ' দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই একজন রাজস্ব লেখপাল (Lekhpal) এবং একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন মোয়াজ্জিন নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিচয় লিখে নেয় এবং শ্রমিকদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
তদন্তকারী রাজস্ব কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে এই মসজিদ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরে বর্তমানে কোনো প্রকার নির্মাণ কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, এটি কোনো নতুন সম্প্রসারণ নয় বরং এটি ছিল মসজিদের ভেতরে সাধারণ স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন মাত্র।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মানুষের ইজ্জত রক্ষার জন্য একটি সাধারণ শৌচাগার নির্মাণেও যদি সাম্প্রদায়িক বাধা আসে, তবে তা দুঃখজনক। এটি ধর্মীয় কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।"
অন্যদিকে, অভিযোগকারী সংগঠনের সদস্যরা দাবি করেছেন যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় কোনো অনুমতি ছাড়াই এই কাজ চলছিল, যা আইনত দণ্ডনীয়। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে একটি মসজিদের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নির্মিতব্য শৌচাগার ও সীমানা প্রাচীরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ও রাজস্ব বিভাগ এই পদক্ষেপ নেয়। মসজিদ কর্তৃপক্ষের দাবি, উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ বন্ধ করতে এবং মসজিদের পবিত্রতা রক্ষায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা এখন বাধার মুখে পড়েছে।
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলা কালেক্টরেট সংলগ্ন 'কাছারি মসজিদ'-এ এই ঘটনাটি ঘটে। লখিমপুর সদর কোতোয়ালি এলাকার অন্তর্গত এই মসজিদে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছিলেন মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মসজিদের মোয়াজ্জিন জানান, ড্রেন সংলগ্ন একটি জায়গায় সাধারণ মানুষ প্রায়ই প্রকাশ্যে প্রস্রাব করত, যা মসজিদের পরিবেশ নষ্ট করছিল। এই অস্বাস্থ্যকর অবস্থা দূর করতে এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতে সেখানে একটি ছোট দেয়াল ও ইউরিনাল তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল।
তবে গত বুধবার স্থানীয় একটি হিন্দু সংগঠন এই নির্মাণ কাজকে 'অবৈধ' দাবি করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায়। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই একজন রাজস্ব লেখপাল (Lekhpal) এবং একদল পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রশাসনের কর্মকর্তারা যখন মসজিদে প্রবেশ করেন, তখন মোয়াজ্জিন নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিচয় লিখে নেয় এবং শ্রমিকদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়।
তদন্তকারী রাজস্ব কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রায় ছয় মাস আগে এই মসজিদ সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরে বর্তমানে কোনো প্রকার নির্মাণ কাজ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির দাবি, এটি কোনো নতুন সম্প্রসারণ নয় বরং এটি ছিল মসজিদের ভেতরে সাধারণ স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন মাত্র।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মানুষের ইজ্জত রক্ষার জন্য একটি সাধারণ শৌচাগার নির্মাণেও যদি সাম্প্রদায়িক বাধা আসে, তবে তা দুঃখজনক। এটি ধর্মীয় কাজে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।"
অন্যদিকে, অভিযোগকারী সংগঠনের সদস্যরা দাবি করেছেন যে, প্রশাসনের নাকের ডগায় কোনো অনুমতি ছাড়াই এই কাজ চলছিল, যা আইনত দণ্ডনীয়। বর্তমানে সেখানে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন