আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর ফলে দলটির জন্য বরাদ্দ রাখা ৪৭টি আসন এখন জোটের বাকি শরিকদের মধ্যে নতুন করে বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে ইসলামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী জোট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলন জোটে আসবে ধরে নিয়ে তাদের জন্য ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছিল। যেহেতু তারা এখন আর জোটে নেই, তাই সমঝোতার ভিত্তিতে ওই আসনগুলো বর্তমান শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়, তাকেই জোটের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী ছিল ১৭৯ জন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে এনসিপিকে ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি আসন দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ রাখা ৪৭টি আসন এখন নতুন সমীকরণে যুক্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মাওলানা মামুনুল হক আশা প্রকাশ করেন যে, এই সময়ের আগেই আসন বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং জোটের একক প্রার্থীর বাইরে বাকিরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, "এই মুহূর্তে দলটির সাথে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে এবং কোনো ষড়যন্ত্র নয় বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবই হয়তো এই বিচ্ছেদের কারণ। জামায়াত শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না—ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এগোতে হয়, যা বাস্তবসম্মত।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এই অবস্থান নির্বাচনী মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
বিষয় : নির্বাচনী জোট

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এর ফলে দলটির জন্য বরাদ্দ রাখা ৪৭টি আসন এখন জোটের বাকি শরিকদের মধ্যে নতুন করে বণ্টনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে ইসলামপন্থী দলগুলোর নির্বাচনী জোট। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মাওলানা মামুনুল হক জানান, ইসলামী আন্দোলন জোটে আসবে ধরে নিয়ে তাদের জন্য ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছিল। যেহেতু তারা এখন আর জোটে নেই, তাই সমঝোতার ভিত্তিতে ওই আসনগুলো বর্তমান শরিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যে আসনে যে দলের প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী ও জনপ্রিয়, তাকেই জোটের একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে জামায়াতের নিজস্ব প্রার্থী ছিল ১৭৯ জন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে এনসিপিকে ৩০টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০টি আসন দেওয়া হয়েছিল। ইসলামী আন্দোলনের জন্য বরাদ্দ রাখা ৪৭টি আসন এখন নতুন সমীকরণে যুক্ত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। মাওলানা মামুনুল হক আশা প্রকাশ করেন যে, এই সময়ের আগেই আসন বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং জোটের একক প্রার্থীর বাইরে বাকিরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন।
ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, "এই মুহূর্তে দলটির সাথে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই, তবে বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, জোটের ঐক্য অটুট রয়েছে এবং কোনো ষড়যন্ত্র নয় বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবই হয়তো এই বিচ্ছেদের কারণ। জামায়াত শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না—ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এগোতে হয়, যা বাস্তবসম্মত।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের এই অবস্থান নির্বাচনী মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন