বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও বৈশ্বিক বাজারের লক্ষ্য নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সরকারের

মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হচ্ছে দেশের প্রথম ‘সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল’


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হচ্ছে দেশের প্রথম ‘সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল’

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পূর্বে প্রস্তাবিত ও পরবর্তীতে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় এখন গড়ে তোলা হবে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল। সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেডে) প্রায় ৮৫০ একর জমি এখন থেকে ব্যবহৃত হবে সামরিক শিল্প বিকাশে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এই ৮৫০ একর জায়গা গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। চুক্তিটি বাতিল হওয়ার পর খালি পড়ে থাকা এই জমিকে প্রতিরক্ষা শিল্পের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমন্বিত আলোচনার ফসল এই প্রকল্প।

সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে মূলত আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদিত হবে। আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম বেশ কয়েকটি দেশের সাথে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম তৈরি হবে তা জানানো হয়নি, তবে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করাই হবে এই জোনের মূল লক্ষ্য।

গভর্নিং বোর্ডের সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (Free Trade Zone): চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬০০-৬৫০ একর জমির ওপর দেশের প্রথম কার্যকর ফ্রি ট্রেড জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বছরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক বাস্তবায়নের স্তরে পৌঁছাতে পারে।

কুষ্টিয়া শিল্পপার্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রায় ২০০ একর জমিকে একটি আধুনিক শিল্পপার্কে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পৌরসভার ভেতরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বাধা থাকলেও কৃষিজমি রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশের ৩৩১টি পৌরসভার অভ্যন্তরে থাকা বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোতেও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।

বিষয় : বেজা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হচ্ছে দেশের প্রথম ‘সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পূর্বে প্রস্তাবিত ও পরবর্তীতে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় এখন গড়ে তোলা হবে দেশের প্রথম ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল। সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেডে) প্রায় ৮৫০ একর জমি এখন থেকে ব্যবহৃত হবে সামরিক শিল্প বিকাশে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এই ৮৫০ একর জায়গা গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত ছিল। চুক্তিটি বাতিল হওয়ার পর খালি পড়ে থাকা এই জমিকে প্রতিরক্ষা শিল্পের মাস্টারপ্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমন্বিত আলোচনার ফসল এই প্রকল্প।

সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চলে মূলত আন্তর্জাতিক মানের অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদিত হবে। আশিক চৌধুরী জানান, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম বেশ কয়েকটি দেশের সাথে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট সরঞ্জাম তৈরি হবে তা জানানো হয়নি, তবে নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করাই হবে এই জোনের মূল লক্ষ্য।

গভর্নিং বোর্ডের সভায় আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (Free Trade Zone): চট্টগ্রামের আনোয়ারায় প্রায় ৬০০-৬৫০ একর জমির ওপর দেশের প্রথম কার্যকর ফ্রি ট্রেড জোন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বছরের শেষ নাগাদ প্রাথমিক বাস্তবায়নের স্তরে পৌঁছাতে পারে।

কুষ্টিয়া শিল্পপার্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কুষ্টিয়া চিনিকলের প্রায় ২০০ একর জমিকে একটি আধুনিক শিল্পপার্কে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে বিদ্যমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পৌরসভার ভেতরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বাধা থাকলেও কৃষিজমি রক্ষায় নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দেশের ৩৩১টি পৌরসভার অভ্যন্তরে থাকা বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোতেও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা হবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত