উত্তরাখণ্ডের বিকাশ নগর এলাকায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি তরুণ। শীতকালীন জীবিকার তাগিদে পরিবারসহ শাল বিক্রি করতে আসা এই তরুণকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে একদল উগ্রবাদী। বর্তমানে তিনি দেহরাদুনের দুন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বিকাশ নগরে কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণ তার পরিবারের সাথে শীতের কাপড় বিক্রি করছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি হঠাৎ তাদের পথরোধ করে এবং তাদের পরিচয় জানতে চায়। যখন তারা জানতে পারে যে পরিবারটি কাশ্মীরি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের, তখনই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (JKSA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে এলোপাথাড়ি ঘুসি এবং রড দিয়ে আঘাত করা হয়। তরুণটিকে বাঁচাতে গেলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও টেনে-হিঁচড়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।
আহত তরুণকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত দেহরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে যেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার বাম হাতটি ভেঙে গেছে। তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।
জেকএসএ (JKSA) এই ঘটনাকে 'সাম্প্রদায়িক প্রোফাইলিং' এবং 'মব ভায়োলেন্স' বা গণপিটুনি হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, জীবিকার সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়া কাশ্মীরি মুসলিমদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা চরম ভীতি সৃষ্টি করছে। শীতের কঠিন সময়ে পরিবারটিকে সাহায্য করতে এসে এই কিশোরকে যে নৃশংসতার শিকার হতে হলো, তা অমানবিক।
সংগঠনটি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, অঞ্চল বা ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা ভারতের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এবং এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
উত্তরাখণ্ডের বিকাশ নগর এলাকায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি তরুণ। শীতকালীন জীবিকার তাগিদে পরিবারসহ শাল বিক্রি করতে আসা এই তরুণকে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে একদল উগ্রবাদী। বর্তমানে তিনি দেহরাদুনের দুন হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বিকাশ নগরে কাশ্মীরি মুসলিম পরিবারের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্যমতে, ১৮ বছর বয়সী ওই তরুণ তার পরিবারের সাথে শীতের কাপড় বিক্রি করছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি হঠাৎ তাদের পথরোধ করে এবং তাদের পরিচয় জানতে চায়। যখন তারা জানতে পারে যে পরিবারটি কাশ্মীরি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের, তখনই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।
জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (JKSA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীরা লোহার রড এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকে এলোপাথাড়ি ঘুসি এবং রড দিয়ে আঘাত করা হয়। তরুণটিকে বাঁচাতে গেলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও টেনে-হিঁচড়ে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।
আহত তরুণকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত দেহরাদুনের দুন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে যেখান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার বাম হাতটি ভেঙে গেছে। তার সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট।
জেকএসএ (JKSA) এই ঘটনাকে 'সাম্প্রদায়িক প্রোফাইলিং' এবং 'মব ভায়োলেন্স' বা গণপিটুনি হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে যে, জীবিকার সন্ধানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়া কাশ্মীরি মুসলিমদের মধ্যে এই ধরনের ঘটনা চরম ভীতি সৃষ্টি করছে। শীতের কঠিন সময়ে পরিবারটিকে সাহায্য করতে এসে এই কিশোরকে যে নৃশংসতার শিকার হতে হলো, তা অমানবিক।
সংগঠনটি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির প্রতি অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, অঞ্চল বা ধর্মের ভিত্তিতে কাউকে লক্ষ্যবস্তু করা ভারতের সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী এবং এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন