শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

ইরান পরিস্থিতির উত্তেজনার মুখে ইসরায়েলকে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও সৌদি আরবকে প্যাট্রিয়ট মিসাইল দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মাঝেই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্র চুক্তি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মাঝেই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্র চুক্তি

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান মিত্র ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এই বিক্রয় প্রস্তাবের গ্রিন সিগন্যাল দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ৩.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হালকা ট্যাকটিক্যাল যান ক্রয় করবে। গাজায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই অনুমোদনের খবর এলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, "যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলকে একটি শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

অন্যদিকে, সৌদি আরবের জন্য ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মূলত আকাশপথে আগত হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হবে। গত নভেম্বরে সৌদি আরবকে 'মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই' বা প্রধান অ-ন্যাটো সহযোগী হিসেবে ঘোষণা করার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক চুক্তি। এছাড়া সৌদি আরবকে এফ-৩৫ ফাইটার জেট দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে আঞ্চলিক নীতি অনুযায়ী, এই বিমানগুলো ইসরায়েলের ব্যবহৃত বিমানের তুলনায় কিছুটা কম উন্নত হবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহর ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা এই অস্ত্র ক্রয় করছে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এখন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অস্ত্র সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য সৌদি আরব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মাঝেই ইসরায়েল ও সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল অস্ত্র চুক্তি

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রধান মিত্র ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথক এই বিক্রয় প্রস্তাবের গ্রিন সিগন্যাল দেয়।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা এবং মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ৩.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৩০টি অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং ১.৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের হালকা ট্যাকটিক্যাল যান ক্রয় করবে। গাজায় চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই অনুমোদনের খবর এলো।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, "যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলকে একটি শক্তিশালী ও প্রস্তুত আত্মরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা মার্কিন জাতীয় স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"

অন্যদিকে, সৌদি আরবের জন্য ৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মূলত আকাশপথে আগত হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হবে। গত নভেম্বরে সৌদি আরবকে 'মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই' বা প্রধান অ-ন্যাটো সহযোগী হিসেবে ঘোষণা করার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক চুক্তি। এছাড়া সৌদি আরবকে এফ-৩৫ ফাইটার জেট দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে আঞ্চলিক নীতি অনুযায়ী, এই বিমানগুলো ইসরায়েলের ব্যবহৃত বিমানের তুলনায় কিছুটা কম উন্নত হবে।

উল্লেখ্য যে, গত বছর ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বহর ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। যদিও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা এই অস্ত্র ক্রয় করছে।

হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এখন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল অস্ত্র সরবরাহ মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত