পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভারতের রাজস্থান রাজ্য সরকার কারাগারে বন্দি মুসলিম কয়েদিদের জন্য ইফতার ও সেহরির খাবার সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংস্থা এখন থেকে সরাসরি কয়েদিদের জন্য খাবার সরবরাহ করতে পারবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজস্থানের কারা সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক সাম্প্রতিক আদেশে জানানো হয়েছে, রমজান মাসে মুসলিম কয়েদিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার কারাগারের ভেতরে অবস্থিত অনুমোদিত 'কনজিউমার স্টোর' থেকে ক্রয় করতে হবে। বাইরের কোনো তৈরি খাবার বা ফলমূল এখন থেকে আর কারাগারের সীমানায় গ্রহণ করা হবে না।
এই আদেশটি রাজ্যের ৮টি কেন্দ্রীয় কারাগার, ২৮টি জেলা কারাগার, উপ-কারাগার, মহিলা সংশোধন কেন্দ্র, উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার এবং কিশোর সংশোধন কেন্দ্রসহ সব ধরণের বন্দিশালার জন্য কার্যকর করা হয়েছে।
আগে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন সরাসরি ফল, খেজুর এবং প্যাকেটজাত খাবার কারাগারে পৌঁছে দিত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দাতা সংস্থা সাহায্য করতে চাইলে তাদের প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্টোরে অর্ডার দিতে হবে। সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে কারা প্রশাসন বন্দিদের মাঝে তা বণ্টন করবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সংস্থাকে খাবার ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রাজস্থানের কারা মহাপরিচালক (ডিজি-প্রিজন) অশোক রাঠোর এই সিদ্ধান্তের পক্ষসমর্থন করে বলেন, "নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে বাইরের খাবারের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না। নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে এখনো সাহায্য করতে পারেন, তবে তা হতে হবে কারাগারের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।"
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। জমিয়তুল কোরেশ-এর সহ-সভাপতি ইলিয়াস কোরেশি বলেন, "আমরা সাধারণত কয়েদিদের জন্য পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় ইফতার সামগ্রী পাঠাই। জেলখানার স্টোর থেকে সেই মান ও বৈচিত্র্য বজায় রাখা সম্ভব হবে না।"
প্রগ্রেসিভ মুসলিম অ্যালায়েন্স-এর সভাপতি আব্দুল সালাম জোহর জানান, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর সেহরি ও ইফতারে বিশেষ পুষ্টির প্রয়োজন হয়। কারাগারের সীমিত রসদ দিয়ে কয়েদিদের এই ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণ হওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।
অনেক মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ধর্মীয় আচার পালনে এই ধরণের কড়াকড়ি বন্দিদের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত। তবে কারা কর্তৃপক্ষ অনড় অবস্থানে থেকে জানাচ্ছে, তারা কেবল সরবরাহের মাধ্যম পরিবর্তন করেছে, ইফতার বন্ধ করেনি।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভারতের রাজস্থান রাজ্য সরকার কারাগারে বন্দি মুসলিম কয়েদিদের জন্য ইফতার ও সেহরির খাবার সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা বেসরকারি সংস্থা এখন থেকে সরাসরি কয়েদিদের জন্য খাবার সরবরাহ করতে পারবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজস্থানের কারা সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক সাম্প্রতিক আদেশে জানানো হয়েছে, রমজান মাসে মুসলিম কয়েদিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব খাবার কারাগারের ভেতরে অবস্থিত অনুমোদিত 'কনজিউমার স্টোর' থেকে ক্রয় করতে হবে। বাইরের কোনো তৈরি খাবার বা ফলমূল এখন থেকে আর কারাগারের সীমানায় গ্রহণ করা হবে না।
এই আদেশটি রাজ্যের ৮টি কেন্দ্রীয় কারাগার, ২৮টি জেলা কারাগার, উপ-কারাগার, মহিলা সংশোধন কেন্দ্র, উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগার এবং কিশোর সংশোধন কেন্দ্রসহ সব ধরণের বন্দিশালার জন্য কার্যকর করা হয়েছে।
আগে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন সরাসরি ফল, খেজুর এবং প্যাকেটজাত খাবার কারাগারে পৌঁছে দিত। কিন্তু নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দাতা সংস্থা সাহায্য করতে চাইলে তাদের প্রথমে কারাগারের নির্ধারিত স্টোরে অর্ডার দিতে হবে। সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে কারা প্রশাসন বন্দিদের মাঝে তা বণ্টন করবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু সংস্থাকে খাবার ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
রাজস্থানের কারা মহাপরিচালক (ডিজি-প্রিজন) অশোক রাঠোর এই সিদ্ধান্তের পক্ষসমর্থন করে বলেন, "নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে বাইরের খাবারের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা যায় না। নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দাতারা চাইলে এখনো সাহায্য করতে পারেন, তবে তা হতে হবে কারাগারের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।"
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন। জমিয়তুল কোরেশ-এর সহ-সভাপতি ইলিয়াস কোরেশি বলেন, "আমরা সাধারণত কয়েদিদের জন্য পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় ইফতার সামগ্রী পাঠাই। জেলখানার স্টোর থেকে সেই মান ও বৈচিত্র্য বজায় রাখা সম্ভব হবে না।"
প্রগ্রেসিভ মুসলিম অ্যালায়েন্স-এর সভাপতি আব্দুল সালাম জোহর জানান, দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর সেহরি ও ইফতারে বিশেষ পুষ্টির প্রয়োজন হয়। কারাগারের সীমিত রসদ দিয়ে কয়েদিদের এই ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা পূরণ হওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।
অনেক মানবাধিকার কর্মী মনে করছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ধর্মীয় আচার পালনে এই ধরণের কড়াকড়ি বন্দিদের মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত। তবে কারা কর্তৃপক্ষ অনড় অবস্থানে থেকে জানাচ্ছে, তারা কেবল সরবরাহের মাধ্যম পরিবর্তন করেছে, ইফতার বন্ধ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন