বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

মুসলিম বন্ধুদের প্রভাব, কোরআন ও সিরাত পাঠের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ

নাস্তিক্যবাদ থেকে ইসলাম গ্রহণ করা অ্যাডেলিনের অভিজ্ঞতা: ইসলাম আমার কাছে শান্তির ধর্ম


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাস্তিক্যবাদ থেকে ইসলাম গ্রহণ করা অ্যাডেলিনের অভিজ্ঞতা: ইসলাম আমার কাছে শান্তির ধর্ম

এক নাস্তিক পরিবারে বড় হয়েও জীবনের কঠিন পরীক্ষা আর আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা থেকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন ফরাসি নারী অ্যাডেলিন। ১৪ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করা এই নারী বর্তমানে দুই সন্তানের জননী এবং এক তুর্কি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সহধর্মিণী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণামূলক গল্প এবং জীবন দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন।

ফ্রান্সের ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে বসবাসকারী অ্যাডেলিন (যিনি বর্তমানে 'মেলেক' নামে পরিচিত) এক সময় ধর্মের কোনো ধারণা ছাড়াই বড় হয়েছিলেন। তার পরিবার ছিল নাস্তিক, তাই 'বিশ্বাস' বিষয়টি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। তবে নিয়তি তাকে পরিচিত করে তোলে মুসলিম বন্ধুদের সাথে, যাদের জীবনযাত্রা এবং ইবাদত তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অ্যাডেলিন জানান, শৈশবে তার বাবার একটি দুর্ঘটনা তাদের পুরো পরিবারকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়। সেই কঠিন সময়ে তার এক মুসলিম বন্ধু তাকে বলেছিলেন— "প্রত্যেক পরীক্ষার মাঝেই কোনো না কোনো কল্যাণ (খায়ের) লুকিয়ে থাকে।" এই কথাটি অ্যাডেলিনের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের প্রতিটি বাধা আসলে স্রষ্টার পক্ষ থেকে একেকটি পরীক্ষা।

শুরুতে ইন্টারনেটে গবেষণা এবং ফরাসি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ পড়তে শুরু করেন অ্যাডেলিন। তবে কেবল অনুবাদে সবটুকু উপলব্ধি করতে না পেরে তিনি কুরআনের তাফসির (ব্যাখ্যা) পড়া শুরু করেন। তিনি বলেন, "তাফসির পড়ার পর আয়াতের গভীর অর্থগুলো আমার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। এরপর আমি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী (সিরাত) অধ্যয়ন করি। তার জীবন প্রতিটি পদে পদে শিক্ষণীয়।"

অ্যাডেলিনের মতে, ইসলাম মানুষকে এক আল্লাহর অধীনে প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। তিনি বলেন,

ইসলাম গ্রহণ করা মানে একটি ধবধবে সাদা পাতায় নতুন করে জীবন শুরু করা। এটি এমন এক পথ যা মানুষকে শেখায় যে সম্পদ বা দারিদ্র্য সবই সাময়িক। আমাদের প্রতিটি অবস্থায় স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

বর্তমানে তিনি তুর্কি ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠেছেন এবং তার দুই সন্তানকে ইসলামের নৈতিক শিক্ষায় বড় করছেন। তার এই দীর্ঘ ১৪ বছরের যাত্রা প্রমাণ করে যে, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলার এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।

বিষয় : ফ্রান্স

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নাস্তিক্যবাদ থেকে ইসলাম গ্রহণ করা অ্যাডেলিনের অভিজ্ঞতা: ইসলাম আমার কাছে শান্তির ধর্ম

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

এক নাস্তিক পরিবারে বড় হয়েও জীবনের কঠিন পরীক্ষা আর আধ্যাত্মিক তৃষ্ণা থেকে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছেন ফরাসি নারী অ্যাডেলিন। ১৪ বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করা এই নারী বর্তমানে দুই সন্তানের জননী এবং এক তুর্কি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সহধর্মিণী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ইসলাম গ্রহণের অনুপ্রেরণামূলক গল্প এবং জীবন দর্শনের কথা তুলে ধরেছেন।

ফ্রান্সের ইল-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে বসবাসকারী অ্যাডেলিন (যিনি বর্তমানে 'মেলেক' নামে পরিচিত) এক সময় ধর্মের কোনো ধারণা ছাড়াই বড় হয়েছিলেন। তার পরিবার ছিল নাস্তিক, তাই 'বিশ্বাস' বিষয়টি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। তবে নিয়তি তাকে পরিচিত করে তোলে মুসলিম বন্ধুদের সাথে, যাদের জীবনযাত্রা এবং ইবাদত তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অ্যাডেলিন জানান, শৈশবে তার বাবার একটি দুর্ঘটনা তাদের পুরো পরিবারকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয়। সেই কঠিন সময়ে তার এক মুসলিম বন্ধু তাকে বলেছিলেন— "প্রত্যেক পরীক্ষার মাঝেই কোনো না কোনো কল্যাণ (খায়ের) লুকিয়ে থাকে।" এই কথাটি অ্যাডেলিনের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, জীবনের প্রতিটি বাধা আসলে স্রষ্টার পক্ষ থেকে একেকটি পরীক্ষা।

শুরুতে ইন্টারনেটে গবেষণা এবং ফরাসি ভাষায় কুরআনের অনুবাদ পড়তে শুরু করেন অ্যাডেলিন। তবে কেবল অনুবাদে সবটুকু উপলব্ধি করতে না পেরে তিনি কুরআনের তাফসির (ব্যাখ্যা) পড়া শুরু করেন। তিনি বলেন, "তাফসির পড়ার পর আয়াতের গভীর অর্থগুলো আমার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। এরপর আমি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনী (সিরাত) অধ্যয়ন করি। তার জীবন প্রতিটি পদে পদে শিক্ষণীয়।"

অ্যাডেলিনের মতে, ইসলাম মানুষকে এক আল্লাহর অধীনে প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। তিনি বলেন,

ইসলাম গ্রহণ করা মানে একটি ধবধবে সাদা পাতায় নতুন করে জীবন শুরু করা। এটি এমন এক পথ যা মানুষকে শেখায় যে সম্পদ বা দারিদ্র্য সবই সাময়িক। আমাদের প্রতিটি অবস্থায় স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

বর্তমানে তিনি তুর্কি ভাষায় দক্ষ হয়ে উঠেছেন এবং তার দুই সন্তানকে ইসলামের নৈতিক শিক্ষায় বড় করছেন। তার এই দীর্ঘ ১৪ বছরের যাত্রা প্রমাণ করে যে, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং এটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলার এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত