সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের হেডফোনে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুরুষদের হরমোনজনিত পরিবর্তন বা ‘নারীসুলভ’ বৈশিষ্ট্য তৈরি এবং স্নায়বিক বিকাশে বাধা দেওয়ার মতো আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। বোস (Bose), স্যামসাং (Samsung), প্যানাসনিক (Panasonic) এবং সেনহাইজার (Sennheiser)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
কী আছে আপনার হেডফোনে?
মধ্য ইউরোপভিত্তিক এনজিওগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত 'ToxFree' প্রকল্পের আওতায় মোট ৮১টি হেডফোন পরীক্ষা করা হয়। চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া এবং অস্ট্রিয়া থেকে সংগ্রহ করা এই পণ্যগুলোর পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শেইন (Shein) এবং টেমু (Temu) থেকে কেনা হেডফোনও ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল:
বিপিএ (BPA) ও বিপিএস (BPS): পরীক্ষার আওতায় থাকা ৯৮% হেডফোনের প্লাস্টিক অংশে বিসফেনল এ (BPA) পাওয়া গেছে। এমনকি বিপিএ-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বিসফেনল এস (BPS) এর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপিএ এবং বিপিএস মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোনের অনুকরণ করে। এর ফলে পুরুষদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে 'ফেমিনাইজেশন' বা নারীসুলভ শারীরিক পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে অকাল পরিপক্কতা বা দ্রুত বয়ঃসন্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।
ক্যানসার ও অঙ্গহানি: পরীক্ষায় থ্যালেটস (Phthalates), ক্লোরিনযুক্ত প্যারাফিন এবং অগ্নি প্রতিরোধক রাসায়নিক (Flame retardants) পাওয়া গেছে। এগুলো সরাসরি প্রজনন স্বাস্থ্য নষ্ট করা ছাড়াও যকৃৎ ও কিডনির ক্ষতি এবং ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
কেন এটি বেশি বিপজ্জনক?
গবেষকদের মতে, হেডফোন সরাসরি চামড়ার সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকে। কানের ঘাম এবং শরীরের তাপের কারণে প্লাস্টিক থেকে এই রাসায়নিকগুলো দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
প্রকল্পের বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিষয় : হেডফোন

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ডের হেডফোনে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পুরুষদের হরমোনজনিত পরিবর্তন বা ‘নারীসুলভ’ বৈশিষ্ট্য তৈরি এবং স্নায়বিক বিকাশে বাধা দেওয়ার মতো আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। বোস (Bose), স্যামসাং (Samsung), প্যানাসনিক (Panasonic) এবং সেনহাইজার (Sennheiser)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামও এই তালিকায় রয়েছে।
কী আছে আপনার হেডফোনে?
মধ্য ইউরোপভিত্তিক এনজিওগুলোর সমন্বয়ে পরিচালিত 'ToxFree' প্রকল্পের আওতায় মোট ৮১টি হেডফোন পরীক্ষা করা হয়। চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, স্লোভেনিয়া এবং অস্ট্রিয়া থেকে সংগ্রহ করা এই পণ্যগুলোর পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম শেইন (Shein) এবং টেমু (Temu) থেকে কেনা হেডফোনও ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল:
বিপিএ (BPA) ও বিপিএস (BPS): পরীক্ষার আওতায় থাকা ৯৮% হেডফোনের প্লাস্টিক অংশে বিসফেনল এ (BPA) পাওয়া গেছে। এমনকি বিপিএ-এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বিসফেনল এস (BPS) এর উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিপিএ এবং বিপিএস মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোনের অনুকরণ করে। এর ফলে পুরুষদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে 'ফেমিনাইজেশন' বা নারীসুলভ শারীরিক পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া মেয়েদের ক্ষেত্রে অকাল পরিপক্কতা বা দ্রুত বয়ঃসন্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।
ক্যানসার ও অঙ্গহানি: পরীক্ষায় থ্যালেটস (Phthalates), ক্লোরিনযুক্ত প্যারাফিন এবং অগ্নি প্রতিরোধক রাসায়নিক (Flame retardants) পাওয়া গেছে। এগুলো সরাসরি প্রজনন স্বাস্থ্য নষ্ট করা ছাড়াও যকৃৎ ও কিডনির ক্ষতি এবং ক্যানসারের কারণ হতে পারে।
কেন এটি বেশি বিপজ্জনক?
গবেষকদের মতে, হেডফোন সরাসরি চামড়ার সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকে। কানের ঘাম এবং শরীরের তাপের কারণে প্লাস্টিক থেকে এই রাসায়নিকগুলো দ্রুত রক্তে মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
প্রকল্পের বিশেষজ্ঞরা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দ্রুত এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার এবং ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন