উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে আত্রিয়া মন্দিরের নিকটবর্তী একটি খালি জায়গায় নামাজ আদায়ের অপরাধে এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একদল উগ্রবাদীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে কেবল শারীরিক নির্যাতনই করা হয়নি, বরং তাকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপুর জেলার জগৎপুরায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ শহিদ, যিনি রেশম বাড়ি এলাকার বাসিন্দা, তিনি পেশাগত কারণে আত্রিয়া মন্দিরের পাশের এলাকায় কাজ করছিলেন। পবিত্র রমজান মাস চলায় তিনি পাশের একটি খালি জায়গায় নামাজ আদায় করতে বসলে স্থানীয় একদল উগ্রবাদী যুবক তার ওপর চড়াও হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে বৃদ্ধ শহিদকে ঘিরে ধরেছে। তারা তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে। ভুক্তভোগী শহিদের দাবি, তিনি যেখানে নামাজ পড়ছিলেন তা মন্দির থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত এবং তিনি গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকাতেই কাজ করছিলেন।
ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ শহিদকে নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে একজন খুনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যে বর্তমানে প্যারোলে মুক্ত রয়েছে। এদিকে মন্দির কমিটির ম্যানেজার অরবিন্দ শর্মা কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, মন্দির এলাকায় অন্য কোনো ধর্মের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পৌর কাউন্সিলর পারভেজ কোরেশি এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "কারো আপত্তি থাকলে প্রশাসনকে জানানো যেত, কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে একজন বৃদ্ধকে মারধর করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।" অন্যদিকে কংগ্রেস নেত্রী সোফিয়া নাজ এই ঘটনাকে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয় : ভারত

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপুরে আত্রিয়া মন্দিরের নিকটবর্তী একটি খালি জায়গায় নামাজ আদায়ের অপরাধে এক বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে একদল উগ্রবাদীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধকে কেবল শারীরিক নির্যাতনই করা হয়নি, বরং তাকে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপুর জেলার জগৎপুরায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ শহিদ, যিনি রেশম বাড়ি এলাকার বাসিন্দা, তিনি পেশাগত কারণে আত্রিয়া মন্দিরের পাশের এলাকায় কাজ করছিলেন। পবিত্র রমজান মাস চলায় তিনি পাশের একটি খালি জায়গায় নামাজ আদায় করতে বসলে স্থানীয় একদল উগ্রবাদী যুবক তার ওপর চড়াও হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে বৃদ্ধ শহিদকে ঘিরে ধরেছে। তারা তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করে। ভুক্তভোগী শহিদের দাবি, তিনি যেখানে নামাজ পড়ছিলেন তা মন্দির থেকে যথেষ্ট দূরে অবস্থিত এবং তিনি গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকাতেই কাজ করছিলেন।
ঘটনার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ শহিদকে নিয়ে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে একজন খুনের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, যে বর্তমানে প্যারোলে মুক্ত রয়েছে। এদিকে মন্দির কমিটির ম্যানেজার অরবিন্দ শর্মা কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, মন্দির এলাকায় অন্য কোনো ধর্মের কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধের মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পৌর কাউন্সিলর পারভেজ কোরেশি এই ঘটনাকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "কারো আপত্তি থাকলে প্রশাসনকে জানানো যেত, কিন্তু আইন হাতে তুলে নিয়ে একজন বৃদ্ধকে মারধর করা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ।" অন্যদিকে কংগ্রেস নেত্রী সোফিয়া নাজ এই ঘটনাকে সামাজিক সম্প্রীতির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন