আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিনের সীমান্ত সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান নাগরিক এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। উভয় দেশই একে অপরের ভূখণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের অস্থিরতা এখন এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ১৩৩ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কাবুলসহ পাক্তিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে এই অভিযান চালানো হয়।
তথ্যমন্ত্রী তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দাবি করেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ২৭টি সামরিক আস্তানা ধ্বংস করেছে এবং ৯টি কৌশলগত পয়েন্ট দখল করেছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, আফগান বাহিনীর ২টি কোর হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিগেড এবং ৮০টিরও বেশি সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই পরিস্থিতিকে 'উন্মুক্ত যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, "আফগানিস্তানকে ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে তালিবান। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।"
অন্যদিকে, আফগান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত পাকিস্তানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আফগান বাহিনীর প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। আফগান সূত্রমতে, তারা ২৩ জন পাকিস্তানি সেনার মরদেহ এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের একটি সামরিক সদর দপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখলের দাবিও করেছে তালিবান সরকার।
বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের সরকারি মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ঘোষণা করেছিলেন যে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে তারা সীমান্তের ওপারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এর পর থেকেই বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলায় কেঁপে উঠছে সীমান্ত অঞ্চল। দুই দেশের এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই সামরিক সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
বিষয় : পাকিস্তান আফগানিস্তান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন এক ভয়াবহ প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। গত কয়েকদিনের সীমান্ত সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান নাগরিক এবং ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহতের খবর পাওয়া গেছে। উভয় দেশই একে অপরের ভূখণ্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক দশকের অস্থিরতা এখন এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ১৩৩ জন নিহত এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কাবুলসহ পাক্তিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে এই অভিযান চালানো হয়।
তথ্যমন্ত্রী তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দাবি করেন যে, পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানের ২৭টি সামরিক আস্তানা ধ্বংস করেছে এবং ৯টি কৌশলগত পয়েন্ট দখল করেছে। এছাড়াও তিনি দাবি করেন, আফগান বাহিনীর ২টি কোর হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিগেড এবং ৮০টিরও বেশি সামরিক যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই পরিস্থিতিকে 'উন্মুক্ত যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, "আফগানিস্তানকে ভারতের উপনিবেশে পরিণত করেছে তালিবান। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।"
অন্যদিকে, আফগান প্রশাসনের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত পাকিস্তানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আফগান বাহিনীর প্রতিশোধমূলক হামলায় ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। আফগান সূত্রমতে, তারা ২৩ জন পাকিস্তানি সেনার মরদেহ এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের একটি সামরিক সদর দপ্তর ও ১৯টি চেকপোস্ট দখলের দাবিও করেছে তালিবান সরকার।
বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের সরকারি মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ ঘোষণা করেছিলেন যে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে তারা সীমান্তের ওপারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে। এর পর থেকেই বিমান হামলা ও ভারী কামানের গোলায় কেঁপে উঠছে সীমান্ত অঞ্চল। দুই দেশের এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই সামরিক সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন