আফগানিস্তানের সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৩ জন আফগান সেনা নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কাবুল দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে ইসলামাবাদ ভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলেছে, তাদের অভিযানে ১৩৩ আফগান নিহত হয়েছেন।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ শুক্রবার জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা পাকিস্তানের দিক থেকেই হয়েছে।
আফগান সংবাদমাধ্যম টলো নিউজ–কে দেওয়া বক্তব্যে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে জালালাবাদ ও পাকতিকা অঞ্চলে আবাসিক এলাকাসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর ফলেই সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তার ঘটে।
তিনি আফগান পাল্টা হামলাকে “আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কাবুল এখনও সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
মুজাহিদ আরও দাবি করেন, গত রাত থেকে চলা সংঘর্ষে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও দুটি কমান্ড সদর দপ্তর দখল করা হয়েছে। এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আটক হয়েছেন বলে কাবুলের দাবি।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানান, আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের ২২টি এলাকায় সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮৩টি অবস্থান ধ্বংস করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব অভিযানে ২৭৪ জন “তালেবান যোদ্ধা” নিহত এবং ৪০০–এর বেশি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় আফগান হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গত রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাতটি স্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে “সন্ত্রাসী শিবির” বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানায় ইসলামাবাদ। এর জবাবে আফগান সরকার কাবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেয় এবং “উপযুক্ত ও বিবেচিত সময়ে” প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান কাবুল প্রশাসনের কাছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান–এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এই সংগঠনটি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায়।
কাবুল প্রশাসন অবশ্য তাদের ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করে।
উল্লেখ্য, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান মূলত দুই দেশের মধ্যবর্তী পশতু অধ্যুষিত অঞ্চলে সক্রিয়, যা ঐতিহাসিক ডুরান্ড লাইন বরাবর বিস্তৃত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত এই সীমারেখাই বর্তমানে কার্যত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের পথ খোলা রাখার কথা বলছে।
বিষয় : আফগানিস্তান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলায় ১৩ জন আফগান সেনা নিহত এবং ২২ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কাবুল দাবি করেছে, পাল্টা অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে ইসলামাবাদ ভিন্ন তথ্য তুলে ধরে বলেছে, তাদের অভিযানে ১৩৩ আফগান নিহত হয়েছেন।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ শুক্রবার জানান, সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূচনা পাকিস্তানের দিক থেকেই হয়েছে।
আফগান সংবাদমাধ্যম টলো নিউজ–কে দেওয়া বক্তব্যে মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তান আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘন করে জালালাবাদ ও পাকতিকা অঞ্চলে আবাসিক এলাকাসহ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। এর ফলেই সাম্প্রতিক সংঘাতের বিস্তার ঘটে।
তিনি আফগান পাল্টা হামলাকে “আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কাবুল এখনও সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়।
মুজাহিদ আরও দাবি করেন, গত রাত থেকে চলা সংঘর্ষে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান ও দুটি কমান্ড সদর দপ্তর দখল করা হয়েছে। এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আটক হয়েছেন বলে কাবুলের দাবি।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানান, আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের ২২টি এলাকায় সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮৩টি অবস্থান ধ্বংস করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব অভিযানে ২৭৪ জন “তালেবান যোদ্ধা” নিহত এবং ৪০০–এর বেশি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাতেই পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় আফগান হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গত রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী সাতটি স্থানে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে “সন্ত্রাসী শিবির” বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বিস্ফোরণের জেরে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানায় ইসলামাবাদ। এর জবাবে আফগান সরকার কাবুলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেয় এবং “উপযুক্ত ও বিবেচিত সময়ে” প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দেয়।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই পাকিস্তান কাবুল প্রশাসনের কাছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান–এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, এই সংগঠনটি আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালায়।
কাবুল প্রশাসন অবশ্য তাদের ভূখণ্ডে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সক্রিয় উপস্থিতির অভিযোগ অস্বীকার করে।
উল্লেখ্য, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান মূলত দুই দেশের মধ্যবর্তী পশতু অধ্যুষিত অঞ্চলে সক্রিয়, যা ঐতিহাসিক ডুরান্ড লাইন বরাবর বিস্তৃত। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত এই সীমারেখাই বর্তমানে কার্যত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের পথ খোলা রাখার কথা বলছে।

আপনার মতামত লিখুন