আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষে প্রাণহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদ (IUMS)। সংস্থাটি উভয় দেশকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সীমান্ত পেরিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ইসলামাবাদ এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড কারো বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে না। উল্টো পাকিস্তানের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণকে আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অন্যায় আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে কাবুল। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে দুই প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে এই সশস্ত্র সংঘাত এক দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোর শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আলী মুহিউদ্দিন আল-কারাদাগী এক বিবৃতিতে বলেন,
"মুসলিমদের একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা কবিরা গুনাহ। এক মুমিনের রক্ত অন্য মুমিনের কাছে পবিত্র কাবার চেয়েও বেশি সম্মানিত। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না, বরং উম্মাহর শক্তিক্ষয় হবে।"
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জনগণের রয়েছে অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আকিদাগত বন্ধন। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও নড়বড়ে করে দেবে।
আন্তর্জাতিক আইন এবং ইসলামি শরিয়াহর আলোকে এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো 'আদল' বা ইনসাফ কায়েম করা। বিশ্ব উলামা পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে:
সংস্থাটি মনে করে, পবিত্র রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক জেদ পরিহার করে সংলাপে বসা দেশ দুটির নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় ফিতনার কারণ হতে পারে।
বিষয় : পাকিস্তান কাতার আফগানিস্তান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সাম্প্রতিক সীমান্ত সংঘর্ষে প্রাণহানি ও রক্তপাতের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদ (IUMS)। সংস্থাটি উভয় দেশকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা এবং আলোচনার টেবিলে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সীমান্ত পেরিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, যা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ইসলামাবাদ এই আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের ভূখণ্ড কারো বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে না। উল্টো পাকিস্তানের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণকে আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অন্যায় আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে কাবুল। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পবিত্র রমজান মাসে দুই প্রতিবেশী মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে এই সশস্ত্র সংঘাত এক দুঃখজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকাগুলোর শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্ব মুসলিম উলামা পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. আলী মুহিউদ্দিন আল-কারাদাগী এক বিবৃতিতে বলেন,
"মুসলিমদের একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা কবিরা গুনাহ। এক মুমিনের রক্ত অন্য মুমিনের কাছে পবিত্র কাবার চেয়েও বেশি সম্মানিত। এই ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে কোনো পক্ষই জয়ী হবে না, বরং উম্মাহর শক্তিক্ষয় হবে।"
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের জনগণের রয়েছে অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আকিদাগত বন্ধন। এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেও নড়বড়ে করে দেবে।
আন্তর্জাতিক আইন এবং ইসলামি শরিয়াহর আলোকে এই সংকটের একমাত্র সমাধান হলো 'আদল' বা ইনসাফ কায়েম করা। বিশ্ব উলামা পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেছে:
সংস্থাটি মনে করে, পবিত্র রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক জেদ পরিহার করে সংলাপে বসা দেশ দুটির নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। ন্যায়বিচার এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় ফিতনার কারণ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন