সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

কুয়েতে 'ফ্রেন্ডলি ফায়ারে' মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দাবি সেন্টকমের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ৪ মার্কিন সেনা নিহত, বিধ্বস্ত ৩টি যুদ্ধবিমান



ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ৪ মার্কিন সেনা নিহত, বিধ্বস্ত ৩টি যুদ্ধবিমান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের পাল্টা হামলায় ৪ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সোমবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে তাদের ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই আকস্মিক সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, ২ মার্চ পূর্ব উপকূলীয় সময় সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত যুদ্ধকালীন অভিযানে চারজন মার্কিন পরিষেবা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে রবিবার তিন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করা হলেও, সোমবার গুরুতর আহত চতুর্থ সেনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা চারে পৌঁছায়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সেন্টকম ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিমানগুলো সম্ভবত কোনো শত্রু বাহিনীর হামলায় নয়, বরং 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা নিজেদের বাহিনীর ভুল লক্ষ্যভেদের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েত ভিত্তিক এই দুর্ঘটনাটি মার্কিন সামরিক কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার থেকে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেয়ীসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও জিসিসি (GCC) দেশগুলো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই আক্রমণ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের পর এটি দ্বিতীয়বার যেখানে আলোচনার টেবিল উল্টে দিয়ে ইসরায়েল সরাসরি সামরিক পথ বেছে নিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি—ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি, যদিও ইরান বরাবরের মতোই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: ৪ মার্কিন সেনা নিহত, বিধ্বস্ত ৩টি যুদ্ধবিমান

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মুখে ইরানের পাল্টা হামলায় ৪ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সোমবার সকালে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় চলমান এই ভয়াবহ যুদ্ধে তাদের ৩টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও বিধ্বস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই আকস্মিক সংঘাত পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, ২ মার্চ পূর্ব উপকূলীয় সময় সকাল ৭:৩০ পর্যন্ত যুদ্ধকালীন অভিযানে চারজন মার্কিন পরিষেবা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে রবিবার তিন সেনা নিহতের খবর নিশ্চিত করা হলেও, সোমবার গুরুতর আহত চতুর্থ সেনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিহতের সংখ্যা চারে পৌঁছায়।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি F-15E Strike Eagle যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সেন্টকম ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিমানগুলো সম্ভবত কোনো শত্রু বাহিনীর হামলায় নয়, বরং 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা নিজেদের বাহিনীর ভুল লক্ষ্যভেদের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে। কুয়েত ভিত্তিক এই দুর্ঘটনাটি মার্কিন সামরিক কৌশলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত শনিবার থেকে ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেয়ীসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালায়। যদিও জিসিসি (GCC) দেশগুলো বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল, ঠিক তখনই এই আক্রমণ শুরু হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের পর এটি দ্বিতীয়বার যেখানে আলোচনার টেবিল উল্টে দিয়ে ইসরায়েল সরাসরি সামরিক পথ বেছে নিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি—ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি, যদিও ইরান বরাবরের মতোই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত