ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ১১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা ও পশ্চিম তীরে দখলদার বাহিনীর নৃশংসতা থামছে না। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিহতের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে অসংখ্য মরদেহ, যা এই জনপদের মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০১ জনে। গত বছরের ১০ অক্টোবর একটি তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,৭০৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন করে ৭৫৩টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এখনো হাজার হাজার মরদেহ নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও দমন-পীড়ন জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, জেনিন এবং রামাল্লাহসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা বহু ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে অস্থায়ী সামরিক সদর দপ্তরে পরিণত করেছে। এই অভিযানে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যদিও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রমজান মাস চলাকালীন ধর্মীয় অনুভূতির তোয়াক্কা না করে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদ গত পাঁচ দিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ইরানের সাথে যুদ্ধের অজুহাত এবং 'জরুরি অবস্থা' জারি করে মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে নামাজ ও তারাবি আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জেরুজালেম গভর্নরেটের মতে, ইসরায়েলি সেনারা উপাসকদের জোরপূর্বক মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দিচ্ছে এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর সামরিক বেষ্টনী গড়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গাজা ও পশ্চিম তীরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭২ হাজার ১১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নামমাত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা ও পশ্চিম তীরে দখলদার বাহিনীর নৃশংসতা থামছে না। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিহতের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে অসংখ্য মরদেহ, যা এই জনপদের মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইসরায়েলি হামলায় মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০১ জনে। গত বছরের ১০ অক্টোবর একটি তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় আরও ৬৩৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১,৭০৩ জন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন করে ৭৫৩টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে এখনো হাজার হাজার মরদেহ নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও দমন-পীড়ন জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। হেবরন, বেথলেহেম, নাবলুস, জেনিন এবং রামাল্লাহসহ একাধিক শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা বহু ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে অস্থায়ী সামরিক সদর দপ্তরে পরিণত করেছে। এই অভিযানে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যদিও তাদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রমজান মাস চলাকালীন ধর্মীয় অনুভূতির তোয়াক্কা না করে পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ এবং হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদ গত পাঁচ দিন ধরে বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ইরানের সাথে যুদ্ধের অজুহাত এবং 'জরুরি অবস্থা' জারি করে মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থানে নামাজ ও তারাবি আদায়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জেরুজালেম গভর্নরেটের মতে, ইসরায়েলি সেনারা উপাসকদের জোরপূর্বক মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দিচ্ছে এবং প্রবেশদ্বারগুলোতে কঠোর সামরিক বেষ্টনী গড়ে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির কথা বললেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গাজা ও পশ্চিম তীরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্বকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন