সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত; রাডার সিস্টেম ও যুদ্ধবিমানসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পেন্টাগন

প্রথম ৪ দিনেই ওয়াশিংটনের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস



প্রথম ৪ দিনেই ওয়াশিংটনের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার মাত্র চার দিনের মাথায় অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় আর্থিক ও কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিশাল অংকের ক্ষয়ক্ষতির পেছনে প্রধানত তিনটি বড় ঘটনা দায়ী।

সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে অবস্থিত মার্কিন AN/FPS-132 আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেমটি শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার কর্তৃপক্ষ এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এককভাবে এই রাডার সিস্টেমটির মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

গত রবিবার কুয়েতের আকাশসীমায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' (মিত্রবাহিনীর ভুল লক্ষ্যভেদ) ঘটনায় তিনটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুলবশত বিমানগুলো ভূপাতিত করা হয়। যদিও ৬ জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে এই তিনটি বিমান প্রতিস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হবে অন্তত ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প নগরীতে মোতায়েন করা THAAD অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের AN/TPY-2 রাডার উপাদানটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও সেখানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্যাটেলাইট যোগাযোগ (SATCOM) টার্মিনাল ধ্বংস হয়েছে।

শনিবার থেকে ইরান অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বাহরাইন: পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর।
  • কুয়েত: ক্যাম্প আরিফজান (যেখানে ৬ মার্কিন সেনা নিহত), আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প বুহরিং।
  • ইরাক: এরবিল ঘাঁটি (এখানে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ৪টি স্থাপনা ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে)।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: জেবেল আলী বন্দর।

সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সৌদি আরব (রিয়াদ), কুয়েত এবং দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতর অবস্থিত সিআইএ (CIA) স্টেশনেও আঘাত লেগেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। কুয়েতের দূতাবাসটি বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬


প্রথম ৪ দিনেই ওয়াশিংটনের ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার মাত্র চার দিনের মাথায় অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কৌশলগত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ওপর ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় আর্থিক ও কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিশাল অংকের ক্ষয়ক্ষতির পেছনে প্রধানত তিনটি বড় ঘটনা দায়ী।

সবচেয়ে বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে অবস্থিত মার্কিন AN/FPS-132 আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেমটি শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাতার কর্তৃপক্ষ এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। এককভাবে এই রাডার সিস্টেমটির মূল্য প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার।

গত রবিবার কুয়েতের আকাশসীমায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' (মিত্রবাহিনীর ভুল লক্ষ্যভেদ) ঘটনায় তিনটি মার্কিন F-15E স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুলবশত বিমানগুলো ভূপাতিত করা হয়। যদিও ৬ জন ক্রু সদস্য প্রাণে বেঁচে গেছেন, তবে এই তিনটি বিমান প্রতিস্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হবে অন্তত ২৮২ মিলিয়ন ডলার।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প নগরীতে মোতায়েন করা THAAD অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের AN/TPY-2 রাডার উপাদানটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। স্যাটেলাইট ইমেজেও সেখানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে হামলায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের স্যাটেলাইট যোগাযোগ (SATCOM) টার্মিনাল ধ্বংস হয়েছে।

শনিবার থেকে ইরান অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • বাহরাইন: পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর।
  • কুয়েত: ক্যাম্প আরিফজান (যেখানে ৬ মার্কিন সেনা নিহত), আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং ক্যাম্প বুহরিং।
  • ইরাক: এরবিল ঘাঁটি (এখানে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও ৪টি স্থাপনা ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে)।
  • সংযুক্ত আরব আমিরাত: জেবেল আলী বন্দর।

সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সৌদি আরব (রিয়াদ), কুয়েত এবং দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের ভেতর অবস্থিত সিআইএ (CIA) স্টেশনেও আঘাত লেগেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে। কুয়েতের দূতাবাসটি বর্তমানে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত