আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনের টানা সংঘর্ষে অন্তত ২০ হাজার আফগান পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আকাশপথে বোমাবর্ষণ এবং স্থলপথে পাল্টাপাল্টি হামলায় নারী ও শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ায় ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ এখন তীব্র অপুষ্টি ও অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাগরামে অবস্থিত সাবেক মার্কিন বিমান ঘাঁটি, রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার অন্যতম। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ মিশন।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানও পাকিস্তানের হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিচ্ছে। আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কাবুল, যদিও পাকিস্তান এই সংখ্যাটি অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তাদের অভিযানে ৪৩০ জনেরও বেশি আফগান সেনা নিহত হয়েছে। তবে দুই পক্ষের এই হতাহতের সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুনার প্রদেশের সিরকানে গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল্লাহ এএফপি-কে জানান, "গ্রামের হাজার হাজার পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এখন প্রতিটি বাড়িতে কেবল একজন করে পুরুষ সদস্য পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছেন, বাকিরা সবাই জীবন বাঁচাতে পালিয়েছেন। বাজার-ঘাট সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।"
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা এই 'হুমকি' চিরতরে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। গত অক্টোবর মাসের সংঘাতের পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে তোর্খাম সীমান্তসহ প্রধান সীমান্ত সংযোগগুলো বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোও আটকা পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাত বন্ধে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানালেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
বিষয় : আফগানিস্তান

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনের টানা সংঘর্ষে অন্তত ২০ হাজার আফগান পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। আকাশপথে বোমাবর্ষণ এবং স্থলপথে পাল্টাপাল্টি হামলায় নারী ও শিশুসহ অসংখ্য বেসামরিক নাগরিক হতাহত হওয়ায় ওই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন পূর্ণমাত্রার সামরিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে জরুরি খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার মানুষ এখন তীব্র অপুষ্টি ও অনাহারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে বাগরামে অবস্থিত সাবেক মার্কিন বিমান ঘাঁটি, রাজধানী কাবুল এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহার অন্যতম। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১০৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘ মিশন।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানও পাকিস্তানের হামলার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিচ্ছে। আফগান বাহিনীর পাল্টা হামলায় প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কাবুল, যদিও পাকিস্তান এই সংখ্যাটি অস্বীকার করেছে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তাদের অভিযানে ৪৩০ জনেরও বেশি আফগান সেনা নিহত হয়েছে। তবে দুই পক্ষের এই হতাহতের সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কুনার প্রদেশের সিরকানে গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল্লাহ এএফপি-কে জানান, "গ্রামের হাজার হাজার পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। এখন প্রতিটি বাড়িতে কেবল একজন করে পুরুষ সদস্য পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছেন, বাকিরা সবাই জীবন বাঁচাতে পালিয়েছেন। বাজার-ঘাট সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।"
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা এই 'হুমকি' চিরতরে নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। গত অক্টোবর মাসের সংঘাতের পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে তোর্খাম সীমান্তসহ প্রধান সীমান্ত সংযোগগুলো বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী ট্রাকগুলোও আটকা পড়ে আছে। আন্তর্জাতিক মহল এই সংঘাত বন্ধে দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানালেও যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন