ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক মুসলিম যুবককে পৈশাচিক কায়দায় মারধর এবং জোরপূর্বক গোবর খাওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। গরু রক্ষার নামে তথাকথিত নজরদারি এবং ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগে অভিযুক্ত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত পক্ষ, বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী গরু রক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হিজড়া অ্যাক্টিভিস্ট বিপাশা মানিকম ও তার সহযোগীদের দাবি, ভুক্তভোগী যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া মন্দিরের পাশে তার মুরগির দোকান থাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, ওই যুবককে তারা "শাস্তি" দিচ্ছিলেন। ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে আক্রমণকারীদের বলতে শোনা যায়, "তোমরা রুটি দিয়ে মাংস খাও, আমরা তোমাদের রুটি দিয়ে গোবর খাওয়াব।" অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে পালটা অভিযোগ করার এবং এলাকায় এ জাতীয় ব্যবসা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটে। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক একটি গাড়িতে করে মহিষ পরিবহন করছিলেন। পথে বজরং দলের কর্মী ও বিপাশা মানিকমের নেতৃত্বাধীন একটি দল গাড়িটি আটকায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৩-৪ জন ব্যক্তি যুবককে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় মারছে এবং জোরপূর্বক তার মুখে গোবর গুঁজে দিচ্ছে। যুবকটি বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও আক্রমণকারীরা থামেনি, বরং যখন তিনি বমি করছিলেন, তখন তাকে আরও লাঞ্ছিত করা হয়।
সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (SDPI) পুনে শাখার সভাপতি আরিফ সাইয়েদ জানান, এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবক আতঙ্কে মুম্বাই ফিরে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে আম্বেগাঁও এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে হামলা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেও তারা একটি বিরিয়ানি দোকানে অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলেও এসডিপিআই প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের মুখে বিপাশা মানিকম, হেমন্ত গায়কওয়াদ এবং বিজয় সোলে নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৬, ২৯৯, ২৫২ এবং ৩৫১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অধিকার রাখে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক সুরক্ষা কাঠামোর নিরিখে এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি আজহার তাম্বোলি বলেন, "এটি কেবল একটি ধর্মের ওপর আঘাত নয়, বরং মানবতার ওপর কলঙ্ক।" পুলিশের প্রাথমিক গাফিলতি এবং উগ্রবাদীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।
বিষয় : ভারত

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক মুসলিম যুবককে পৈশাচিক কায়দায় মারধর এবং জোরপূর্বক গোবর খাওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। গরু রক্ষার নামে তথাকথিত নজরদারি এবং ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগে অভিযুক্ত একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত পক্ষ, বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী গরু রক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হিজড়া অ্যাক্টিভিস্ট বিপাশা মানিকম ও তার সহযোগীদের দাবি, ভুক্তভোগী যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিন্দু ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন। এছাড়া মন্দিরের পাশে তার মুরগির দোকান থাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে তারা অভিযোগ তোলেন। অভিযুক্তদের দাবি অনুযায়ী, ওই যুবককে তারা "শাস্তি" দিচ্ছিলেন। ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপে আক্রমণকারীদের বলতে শোনা যায়, "তোমরা রুটি দিয়ে মাংস খাও, আমরা তোমাদের রুটি দিয়ে গোবর খাওয়াব।" অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে পালটা অভিযোগ করার এবং এলাকায় এ জাতীয় ব্যবসা বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের পুনেতে এই পাশবিক ঘটনাটি ঘটে। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক একটি গাড়িতে করে মহিষ পরিবহন করছিলেন। পথে বজরং দলের কর্মী ও বিপাশা মানিকমের নেতৃত্বাধীন একটি দল গাড়িটি আটকায়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ৩-৪ জন ব্যক্তি যুবককে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় মারছে এবং জোরপূর্বক তার মুখে গোবর গুঁজে দিচ্ছে। যুবকটি বারবার প্রাণভিক্ষা চাইলেও আক্রমণকারীরা থামেনি, বরং যখন তিনি বমি করছিলেন, তখন তাকে আরও লাঞ্ছিত করা হয়।
সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (SDPI) পুনে শাখার সভাপতি আরিফ সাইয়েদ জানান, এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী যুবক আতঙ্কে মুম্বাই ফিরে গেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরে আম্বেগাঁও এলাকায় মুসলিম মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে হামলা ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেও তারা একটি বিরিয়ানি দোকানে অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকলেও এসডিপিআই প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের মুখে বিপাশা মানিকম, হেমন্ত গায়কওয়াদ এবং বিজয় সোলে নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯৬, ২৯৯, ২৫২ এবং ৩৫১ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অধিকার রাখে না।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও নাগরিক সুরক্ষা কাঠামোর নিরিখে এই ঘটনাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। এসডিপিআই-এর রাজ্য সভাপতি আজহার তাম্বোলি বলেন, "এটি কেবল একটি ধর্মের ওপর আঘাত নয়, বরং মানবতার ওপর কলঙ্ক।" পুলিশের প্রাথমিক গাফিলতি এবং উগ্রবাদীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনের বিষয়টিও তদন্তের দাবি রাখে।

আপনার মতামত লিখুন