সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও প্রাণঘাতী সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের বরফ গলাতে কাবুলে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের ওলামা প্রতিনিধি দল। মাওলানা ফজলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদ নিরসন এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আফগান সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। স্পিন বোলডাকসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি পাকিস্তানের বিমান হামলা এবং এর জবাবে দু’পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত করতে মাওলানা ফজলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল কাবুলে অবস্থান করছেন। এই দলে আরও রয়েছেন মাওলানা আবদুল্লাহ শাহ মাজহার এবং মাওলানা সাজ্জাদ উসমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঈন গুল সামকানি এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, "আমরা এটিকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূত্রপাত হিসেবে বিবেচনা করছি। এটি শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সরকারি পর্যায়ে সরাসরি সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।"
তবে সব পক্ষই যে আশাবাদী, তা নয়। সাবেক কূটনীতিক আজিজ মারিজ মনে করেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, "যদি এই ওলামা প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কার্যকর গ্যারান্টি প্রদান করতে পারে যে ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হবে না, তবেই একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।" অন্য এক বিশ্লেষক সৈয়দ এবাদুল্লাহ সাদিক মনে করেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ তলোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানিস্তান গায়ে পড়ে যুদ্ধ করতে চায় না। তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইসলামিক আমিরাত পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। আমরা চাই প্রতিটি সমস্যা আলাপ-আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হোক।"
প্রতিনিধি দলটির এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে কতটা সক্ষম হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। কারণ একদিকে যেমন আলোচনার টেবিল প্রস্তুত হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিষয় : পাকিস্তান আফগানিস্তান

সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও প্রাণঘাতী সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের বরফ গলাতে কাবুলে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের ওলামা প্রতিনিধি দল। মাওলানা ফজলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদ নিরসন এবং শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন আফগান সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। স্পিন বোলডাকসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি পাকিস্তানের বিমান হামলা এবং এর জবাবে দু’পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের ফলে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি শান্ত করতে মাওলানা ফজলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল কাবুলে অবস্থান করছেন। এই দলে আরও রয়েছেন মাওলানা আবদুল্লাহ শাহ মাজহার এবং মাওলানা সাজ্জাদ উসমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঈন গুল সামকানি এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, "আমরা এটিকে আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূত্রপাত হিসেবে বিবেচনা করছি। এটি শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সরকারি পর্যায়ে সরাসরি সংলাপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।"
তবে সব পক্ষই যে আশাবাদী, তা নয়। সাবেক কূটনীতিক আজিজ মারিজ মনে করেন, কেবল মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, "যদি এই ওলামা প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কার্যকর গ্যারান্টি প্রদান করতে পারে যে ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হবে না, তবেই একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।" অন্য এক বিশ্লেষক সৈয়দ এবাদুল্লাহ সাদিক মনে করেন, দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য কোনো তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব মুজাহিদ তলোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, আফগানিস্তান গায়ে পড়ে যুদ্ধ করতে চায় না। তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ইসলামিক আমিরাত পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। আমরা চাই প্রতিটি সমস্যা আলাপ-আলোচনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হোক।"
প্রতিনিধি দলটির এই সফর দুই দেশের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে কতটা সক্ষম হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। কারণ একদিকে যেমন আলোচনার টেবিল প্রস্তুত হচ্ছে, অন্যদিকে সীমান্তে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন