শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিন সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ও মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরাতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রতি খোলা চিঠি

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধের দাবি: ৮০টি আরব-ইহুদি সংগঠনের যৌথ আলটিমেটাম



ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধের দাবি: ৮০টি আরব-ইহুদি সংগঠনের যৌথ আলটিমেটাম

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের ৮০টি আরব ও ইহুদি সংগঠন। সোমবার (১৬ মার্চ) এক যৌথ খোলা চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধ কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি জোট 'টাইম হ্যাজ কাম'-এর ব্যানারে এই দাবি তোলা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই যৌথ বিবৃতিটি এলো। শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন এই সংগঠনগুলো মনে করে, এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট প্রস্থান কৌশল (Exit Strategy) নেই এবং এর লক্ষ্যগুলো অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে গাজায় চলমান অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বর্তমানে গাজার অধিকাংশ সীমান্ত পথ বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফা পরিকল্পনা'ও এখন ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত ৬৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সংগঠনগুলো পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শুধুমাত্র চলতি মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, গত আড়াই বছর ধরে ইসরায়েলি নাগরিকরা বারবার সাইরেন শুনে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং তাদের সন্তানদের কবর দিচ্ছেন এমন সব যুদ্ধে, যা চাইলেই এড়ানো সম্ভব ছিল।

বিবৃতিতে কেবল যুদ্ধ বন্ধ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর মূল প্রস্তাবনাগুলো হলো:

  • গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।
  • পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধ করা।
  • একটি আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলন আয়োজন করা যা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে।

ইসরায়েলি বিরোধী দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে এই নাগরিক সমাজ জানিয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল তেল আবিবে 'পিপলস পিস কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ, যেখানে ইরান ও লেবাননের সাথে যুদ্ধ বন্ধের জোরালো দাবি তোলা হবে।

এই জোটে 'স্ট্যান্ডিং টুগেদার', 'উইমেন ওয়েজ পিস', এবং 'পিস নাউ'-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা দুই জাতির জন্য নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

বিষয় : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬


ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ বন্ধের দাবি: ৮০টি আরব-ইহুদি সংগঠনের যৌথ আলটিমেটাম

প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলের ৮০টি আরব ও ইহুদি সংগঠন। সোমবার (১৬ মার্চ) এক যৌথ খোলা চিঠিতে তারা সতর্ক করে বলেছে, এই যুদ্ধ কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত ধ্বংসযজ্ঞের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শান্তি জোট 'টাইম হ্যাজ কাম'-এর ব্যানারে এই দাবি তোলা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই যৌথ বিবৃতিটি এলো। শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন এই সংগঠনগুলো মনে করে, এই যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট প্রস্থান কৌশল (Exit Strategy) নেই এবং এর লক্ষ্যগুলো অর্জন করা প্রায় অসম্ভব।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে গাজায় চলমান অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বর্তমানে গাজার অধিকাংশ সীমান্ত পথ বন্ধ থাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত '২০ দফা পরিকল্পনা'ও এখন ভেস্তে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল বারবার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে এ পর্যন্ত ৬৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

সংগঠনগুলো পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শুধুমাত্র চলতি মাসেই বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, গত আড়াই বছর ধরে ইসরায়েলি নাগরিকরা বারবার সাইরেন শুনে বাঙ্কারে আশ্রয় নিচ্ছেন এবং তাদের সন্তানদের কবর দিচ্ছেন এমন সব যুদ্ধে, যা চাইলেই এড়ানো সম্ভব ছিল।

বিবৃতিতে কেবল যুদ্ধ বন্ধ নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর মূল প্রস্তাবনাগুলো হলো:

  • গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা।
  • পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধ করা।
  • একটি আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলন আয়োজন করা যা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে।

ইসরায়েলি বিরোধী দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে এই নাগরিক সমাজ জানিয়েছে, আগামী ৩০ এপ্রিল তেল আবিবে 'পিপলস পিস কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ, যেখানে ইরান ও লেবাননের সাথে যুদ্ধ বন্ধের জোরালো দাবি তোলা হবে।

এই জোটে 'স্ট্যান্ডিং টুগেদার', 'উইমেন ওয়েজ পিস', এবং 'পিস নাউ'-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যারা দুই জাতির জন্য নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত