ইসরাইলের কাছে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের প্রায় ৬০ হাজার ক্ষতিকারক বোমা ও যুদ্ধাস্ত্র বিক্রির মার্কিন প্রস্তাব বাতিলের জন্য সিনেটের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। ১৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যার রসদ জোগান দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম মানবতাবিরোধী পদক্ষেপ সিনেটের অবিলম্বে রুখে দেওয়া উচিত।গাজায় অবরুদ্ধ ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসনে সরাসরি মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অস্ত্র চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সদস্য রাশিদা তালিব। ইসরাইলের কাছে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহের মার্কিন প্রস্তাবে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিনেটকে অবিলম্বে এটি প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা, রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলকে যে নতুন মিউনিশন প্যাকেজ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, তাতে রয়েছে ৬০ হাজার ভারী ওয়ারহেড। এর মধ্যে ধ্বংসাত্মক এমকে-৮৪ এবং বিএলও-১১৭ মডেলের ৪০ হাজার ২০০০-পাউন্ড ওজনের সাধারণ বোমা রয়েছে, যার প্রতিটির ওজন প্রায় ৯০৭ কেজি। এছাড়া আরও ২০ হাজার আই-২০০০ পেনেট্রেটর 'বাঙ্কার বাস্টার' ওয়ারহেড রয়েছে, যা মাটির নিচে থাকা সুদৃঢ় কাঠামো গুড়িয়ে দিতে সক্ষম।রাশিদা তালিব স্পষ্ট অভিযোগ করেন, মার্কিন নাগরিকদের রক্তের ঘামে অর্জিত করের টাকা 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং' (FMF) কর্মসূচির মাধ্যমে ইসরাইলকে বিনামূল্যে অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে, যা দিয়ে তারা আবার মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে এসব মরণাস্ত্র কিনে ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ফেলছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ২,০০০-পাউন্ডের বোমার সবচেয়ে বড় একক বিক্রি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও লেবাননে এসব ভারী বোমার ব্যবহার মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল, যা বিস্তীর্ণ অঞ্চল মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।এর আগে ২০২৪ সালে গাজায় অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয় ও বেসামরিক হতাহতের মুখে বাইডেন প্রশাসন কিছু ভারী বোমার চালান স্থগিত করেছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেন এবং জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে ইসরাইলে ৩৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি ভারী বোমার চালান পাঠান। ২০২৬ সালের শুরুতেও ৬.৬৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র অনুমোদনের পর এবার নতুন করে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের এই অস্ত্র চুক্তি সামনে আনা হলো। প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকসসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতাও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এই বিপুল মরণাস্ত্র ব্যবহারের আইনি ও নৈতিক দিক নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন।যদিও হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরাইলের 'আত্মরক্ষা'র চেনা অজুহাত দিয়ে এই সরবরাহকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উগ্রবাদী ইসরাইলি আগ্রাসনকে আরও জোরদার করার মার্কিন ষড়যন্ত্র। রাশিদা তালিবের এই আহ্বান কেবল মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, বরং ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলিমদের প্রাণের সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও রাজনৈতিক লড়াই।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।