বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

আমেরিকান করদাতাদের অর্থায়নে ইসরাইলকে ৪০ হাজার অতি-ধ্বংসাত্মক মার্কিন বোমা দেওয়ার প্রস্তুতি, উদ্বেগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর।

ইসরাইলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের জন্য ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের এক বিশাল সামরিক অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রমতে, এই বিতর্কিত প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় তেল আবিবকে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ সহ মোট ৪০ হাজার অতি-ধ্বংসাত্মক ভারী বোমা প্রদান করা হবে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই অস্ত্র ক্রয়ের সিংহভাগ অর্থ যোগানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং' (FMF) কর্মসূচির মাধ্যমে, যার অর্থ সাধারণ মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে ফ্রিতে দান করা হচ্ছে।

গাজাজুড়ে অবরুদ্ধ ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান বর্বরতার মধ্যেই দখলদার ইসরাইলি বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের এক বিশাল অস্ত্র ও যুদ্ধোপকরণ প্যাকেজ অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বরাতে মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, মার্কিন কংগ্রেসকে ইতিমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবিত চুক্তি ও নথিপত্র সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

ভয়ানক ধ্বংসক্ষমতার দুই হাজার পাউন্ডের বোমা: প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের মূল চালিকাশক্তি হলো দুই হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ৪০ হাজারটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বিষ্ফোরকসমৃদ্ধ ভারী বোমা। এর মধ্যে রয়েছে ২০,০০০টি 'এমকে-৮৪' (MK-84) বোমা এবং ২০,০০০টি 'বিএলইউ-১১৭' (BLU-117) বোমা।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমকে-৮৪ বোমাটি পশ্চিমা অস্ত্রাগারের অন্যতম প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী সাধারণ বোমা, যা মাটি ও কংক্রিট ভেদ করে বিশালাকার গর্ত তৈরি করতে পারে এবং এর বিষ্ফোরক তরঙ্গ হাজার ফুট দূরেও মানবদেহের হাড়গোড় চূর্ণ করে দেয়। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহৃত বিএলইউ-১১৭ বোমা অত্যন্ত শক্তিশালী বিষ্ফোরক বহন করে, যা মূলত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, সুড়ঙ্গ এবং ভূমির ওপরের সাধারণ অবকাঠামো ও জনবসতি মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দিতে সক্ষম।

মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের টাকায় মুসলিম নিধনের আয়োজন: চুক্তিটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর সিংহভাগ অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের "ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং" (Foreign Military Financing - FMF) তহবিল থেকে সরাসরি অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কষ্টার্জিত করের টাকা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলকে এই বিধ্বংসী বোমাগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিনে দিচ্ছে, যা সরাসরি ফিলিস্তিনি নিরপরাধ নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষদের ওপর ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করবে।

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে দুই হাজার পাউন্ডের এসব মার্কিন তৈরি বোমার নির্বিচার ব্যবহারে হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তেল আবিবের হাতে আবারও একই ধরনের অতি-ধ্বংসাত্মক ৪০ হাজার ভারী বোমা তুলে দেওয়ার এই অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্ব শান্তির চরম লঙ্ঘন বলে গণ্য হচ্ছে।

বিষয় : ইসরাইল ডোনাল্ড ট্রাম্প

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইসরাইলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের জন্য ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের এক বিশাল সামরিক অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রমতে, এই বিতর্কিত প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় তেল আবিবকে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ সহ মোট ৪০ হাজার অতি-ধ্বংসাত্মক ভারী বোমা প্রদান করা হবে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই অস্ত্র ক্রয়ের সিংহভাগ অর্থ যোগানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং' (FMF) কর্মসূচির মাধ্যমে, যার অর্থ সাধারণ মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে ফ্রিতে দান করা হচ্ছে।

গাজাজুড়ে অবরুদ্ধ ও নিপীড়িত ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর চলমান বর্বরতার মধ্যেই দখলদার ইসরাইলি বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলারের এক বিশাল অস্ত্র ও যুদ্ধোপকরণ প্যাকেজ অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর বরাতে মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে জানা গেছে, মার্কিন কংগ্রেসকে ইতিমধ্যেই অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবিত চুক্তি ও নথিপত্র সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

ভয়ানক ধ্বংসক্ষমতার দুই হাজার পাউন্ডের বোমা: প্রতিবেদনে প্রকাশ, প্রস্তাবিত এই প্যাকেজের মূল চালিকাশক্তি হলো দুই হাজার পাউন্ড (প্রায় ৯০৭ কেজি) ওজনের ৪০ হাজারটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রার বিষ্ফোরকসমৃদ্ধ ভারী বোমা। এর মধ্যে রয়েছে ২০,০০০টি 'এমকে-৮৪' (MK-84) বোমা এবং ২০,০০০টি 'বিএলইউ-১১৭' (BLU-117) বোমা।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমকে-৮৪ বোমাটি পশ্চিমা অস্ত্রাগারের অন্যতম প্রাণঘাতী ও বিধ্বংসী সাধারণ বোমা, যা মাটি ও কংক্রিট ভেদ করে বিশালাকার গর্ত তৈরি করতে পারে এবং এর বিষ্ফোরক তরঙ্গ হাজার ফুট দূরেও মানবদেহের হাড়গোড় চূর্ণ করে দেয়। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনী ব্যবহৃত বিএলইউ-১১৭ বোমা অত্যন্ত শক্তিশালী বিষ্ফোরক বহন করে, যা মূলত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, সুড়ঙ্গ এবং ভূমির ওপরের সাধারণ অবকাঠামো ও জনবসতি মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দিতে সক্ষম।

মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের টাকায় মুসলিম নিধনের আয়োজন: চুক্তিটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এর সিংহভাগ অর্থ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের "ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং" (Foreign Military Financing - FMF) তহবিল থেকে সরাসরি অনুদান হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কষ্টার্জিত করের টাকা দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলকে এই বিধ্বংসী বোমাগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কিনে দিচ্ছে, যা সরাসরি ফিলিস্তিনি নিরপরাধ নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষদের ওপর ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করবে।

মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ গাজা ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে ইতোমধ্যে দুই হাজার পাউন্ডের এসব মার্কিন তৈরি বোমার নির্বিচার ব্যবহারে হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি শাহাদাত বরণ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তেল আবিবের হাতে আবারও একই ধরনের অতি-ধ্বংসাত্মক ৪০ হাজার ভারী বোমা তুলে দেওয়ার এই অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং বিশ্ব শান্তির চরম লঙ্ঘন বলে গণ্য হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ