গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চাপা পড়ে থাকা একশটিরও বেশি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশই কোমলমতি শিশুদের। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর টানা চেষ্টার পর এসব ক্ষতবিক্ষত দেহাবশেষ বের করে আনা সম্ভব হয়। বছরের পর বছর ধরে চলা ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় এসব আবাসিক ভবন ধসে পড়েছিল। মর্মান্তিক এই আবিষ্কারের পর পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া, বর্তমানে নিহতের স্মরণে শোকযাত্রা ও গণদাফনের প্রস্তুতি চলছে।
তিন বছরের বর্বরতা ও জেইতুনের ট্র্যাজেডি
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের জেইতুন এলাকাটি গত তিন বছর ধরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর অমানবিক ও ধারাবাহিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর জেইতুনের বেশ কয়েকটি জনবহুল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে ঘটনাস্থলেই ধসে পড়ে বহু তলা ভবন, যার নিচে চাপা পড়েন বেসামরিক বাসিন্দারা।
প্রথম দফার হামলা থেকে যারা অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা বাধ্য হয়ে এসব অর্ধেক ধ্বংস হওয়া ভবনেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু দখলদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা সেখানেই থেমে থাকেনি। পরবর্তীতে কয়েক মাসে এসব অস্থায়ী আশ্রয়স্থলেও পুনরায় হামলা চালানো হয়। ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চিরতরে চাপা পড়েন শত শত ফিলিস্তিনি।
উদ্ধার অভিযান ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বক্তব্য
দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সদস্যরা জেইতুনের ওই এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। উদ্ধারকারী দলের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ সময় পর উদ্ধার করা ১০০টি মরদেহের মধ্যে সিংহভাগই শিশুদের। নিছক সামরিক অভিযানের নামে নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের ওপর এই ধরনের গণহত্যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টার পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গণদাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনহারা সাধারণ ফিলিস্তিনিরা অশ্রুসিক্ত চোখে প্রিয়জনদের শেষবিদায় জানাতে একত্রিত হচ্ছেন।
মতামত