বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

গাজা পুনর্গঠনে সর্বাত্মক সহায়তার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের

গাজা শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও মিশরের যৌথ উদ্যোগ: ইসরায়েলি হামলার নিন্দা এরদোয়ানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

গাজা শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও মিশরের যৌথ উদ্যোগ: ইসরায়েলি হামলার নিন্দা এরদোয়ানের

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং চলমান মানবিক সংকট নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। বুধবার কায়রোতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ও মিশরের যৌথ কর্মপরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এখন ফিলিস্তিন রক্ষা এবং গাজার বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বর্তমানে মিশর সফরে রয়েছেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। এরদোয়ান স্পষ্ট করে বলেন, "গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু তুরস্ক ও মিশরের অভিন্ন এজেন্ডা। আমরা দুই দেশ মিলে এমন সব উদ্যোগ নিচ্ছি যা গাজায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে।"

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর ২০২৫-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১,৫২০ বার তা লঙ্ঘন করেছে। গত ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত এক সপ্তাহেই প্রাণ হারিয়েছেন শিশুসহ ৩০ জন। এরদোয়ান বলেন, "আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যা মূলত 'শারম আল-শেখ ঘোষণা' বা শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্য চালানো হচ্ছে।"

দুই বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ধ্বংসলীলা কাটিয়ে উঠতে তুরস্ক সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরদোয়ান বলেন, "ইসরায়েলি হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজা পুনর্গঠনে তুরস্ক তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।" এছাড়া তুরস্ক থেকে পাঠানো মানবিক সহায়তা গাজায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য তিনি মিশরীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে গাজায় প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়ায় তুরস্ক ও মিশরের এই যৌথ উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : তুরস্ক মিশর

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


গাজা শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক ও মিশরের যৌথ উদ্যোগ: ইসরায়েলি হামলার নিন্দা এরদোয়ানের

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং চলমান মানবিক সংকট নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। বুধবার কায়রোতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক ও মিশরের যৌথ কর্মপরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু এখন ফিলিস্তিন রক্ষা এবং গাজার বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বর্তমানে মিশর সফরে রয়েছেন। সেখানে প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। এরদোয়ান স্পষ্ট করে বলেন, "গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যু তুরস্ক ও মিশরের অভিন্ন এজেন্ডা। আমরা দুই দেশ মিলে এমন সব উদ্যোগ নিচ্ছি যা গাজায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করবে।"

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর ২০২৫-এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ১,৫২০ বার তা লঙ্ঘন করেছে। গত ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫০০-র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত এক সপ্তাহেই প্রাণ হারিয়েছেন শিশুসহ ৩০ জন। এরদোয়ান বলেন, "আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই, যা মূলত 'শারম আল-শেখ ঘোষণা' বা শান্তি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্য চালানো হচ্ছে।"

দুই বছরের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর গাজা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এই ধ্বংসলীলা কাটিয়ে উঠতে তুরস্ক সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এরদোয়ান বলেন, "ইসরায়েলি হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া গাজা পুনর্গঠনে তুরস্ক তার সাধ্যের সবটুকু দিয়ে পাশে থাকবে।" এছাড়া তুরস্ক থেকে পাঠানো মানবিক সহায়তা গাজায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য তিনি মিশরীয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে গাজায় প্রায় ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। বর্তমানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়ায় তুরস্ক ও মিশরের এই যৌথ উদ্যোগকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত