আন্তর্জাতিক পানিসীমায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে যাত্রা করা মানবিক সহায়তাবাহী বেসামরিক বহর ‘গ্লোবাল সোমুদ ফ্লোটিলা’ (Global Sumud Flotilla)-য় সশস্ত্র হামলা ও গাজায় ক্রমাগত গণহত্যা চালানোর দায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে সুপারিশ করেছে তুর্কি সরকার।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানান, আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল ভিত্তিক আন্তর্জাতিক আদালতের নির্দেশনায় নেতানিয়াহুসহ ৩৫ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিচারমন্ত্রী বলেন, “আন্তর্জাতিক পানিসীমায় গাজার নিপীড়িত মানুষের কাছে খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র হামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধ, অপহরণ, নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগে গত ১৪ জুলাই নেতানিয়াহু এবং আফেক মস্কোভিচ নামক আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তুর্কি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এখন সেই অভ্যন্তরীণ পরোয়ানার ভিত্তিতে তাদের বিশ্বব্যাপী গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে 'রেড নোটিশ' জারির প্রক্রিয়া শুরু করতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।”উল্লেখ্য, গাজার ওপর দীর্ঘদিনের অবৈধ ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে প্রায় ৫০০ জন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ে মে মাসে তুরস্ক থেকে ৫০টিরও বেশি নৌযানের সমন্বয়ে ‘গ্লোবাল সোমুদ ফ্লোটিলা’ রওয়ানা হয়। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় পৌঁছালে ইসরায়েলি নৌবাহিনী মানবতাবাদী নাগরিকদের জাহাজে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় ও তাদের অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করে তুর্কি ও আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের বন্দি করে নির্যাতন চালায়। পরে বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের মুখে বন্দিদের বহিষ্কার করা হয়। এই বর্বর ঘটনার পর ফ্রান্স, ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিজস্ব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।তুর্কি বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “গাজায় সংঘটিত বর্বর অপরাধগুলো ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের বিচারে দায়মুক্তির কোনো সুযোগ রাখা হবে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সব শক্তি ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনকারীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।”এদিকে, তুরস্কের এই কঠোর আইনি পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে নেতানিয়াহুর কার্যালয়। নেতানিয়াহু উল্টো তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। জবাবে তুর্কি রাষ্ট্রপতির দপ্তর নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে "সস্তা রাজনীতি" ও "গণহত্যাকারী স্বৈরাচারের বানোয়াট কথা" হিসেবে আখ্যায়িত করে তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে।মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ সংবাদ সংস্থা হিসেবে 'কাওমি টাইমস্' মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেসামরিক সাধারণ জনগণ ও ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বন্ধে তুরস্কের এই বৈশ্বিক আইনি পদক্ষেপ একটি সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।