বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীর আপত্তির মুখে প্রাচীন মানচিত্র ও তথ্য বোর্ড থেকে ফিলিস্তিন নাম মুছে ফেলল কর্তৃপক্ষ

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকে সরানো হলো ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ; ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকে সরানো হলো ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ; ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গ্যালারিগুলোর প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীর অভিযোগ এবং আইনি চাপের মুখে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শব্দটি ‘বিভ্রান্তিকর’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তারা এই পরিবর্তন এনেছে।

বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ও সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিউজিয়ামের প্রাচীন মিশর ও ফিনিশীয় সভ্যতার গ্যালারিতে থাকা মানচিত্র এবং তথ্য বোর্ড থেকে ‘ফিলিস্তিন’ (Palestine) শব্দটি মুছে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইসরায়েলপন্থি আইনি সংস্থা ‘ব্রিটিশ লয়ার্স ফর ইসরায়েল’ (UKLFI) মিউজিয়ামের পরিচালক নিকোলাস কুলিনানকে একটি চিঠি পাঠায়। তাদের দাবি ছিল, খ্রিষ্টপূর্ব সময়কালের বর্ণনায় ‘ফিলিস্তিন’ শব্দের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবে ভুল বা ‘অ্যানাক্রোনিজম’ (কালানুক্রমিক ভুল)। তাদের মতে, এটি ওই অঞ্চলের প্রকৃত ঐতিহাসিক বিবর্তনকে আড়াল করে একটি ভুল ধারণা তৈরি করে।

তদন্তে দেখা গেছে, মিউজিয়ামের কিছু প্রদর্শনীতে আগে ‘ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত’ (of Palestinian origin) কথাটি উল্লেখ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, খ্রিষ্টপূর্ব ১৭০০-১৫০০ অব্দের মিশরীয় প্রদর্শনীতে নীল নদ বদ্বীপের ‘হিক্সোস’ (Hyksos) জনজাতিকে আগে ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত বলা হতো। এখন তা পরিবর্তন করে ‘কনানীয় বংশোদ্ভূত’ (of Canaanite origin) করা হয়েছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ লেভান্ট অঞ্চলের জন্য ‘কনান’ (Canaan) শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতেই তারা এই পরিবর্তন আনছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আধুনিক সীমানা নির্ধারণী মানচিত্রের ক্ষেত্রে তারা এখনও জাতিসংঘ (UN) স্বীকৃত পরিভাষা ব্যবহার করেন। এছাড়া সাংস্কৃতিক বা নৃতাত্ত্বিক বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে ‘ফিলিস্তিনি’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে।

এই সিদ্ধান্তটি ইতিহাসবিদ এবং ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে মুছে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এটি। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা অধিকাংশ সম্পদই ঔপনিবেশিক আমলে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা, যা নিয়ে আগে থেকেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে।

বিষয় : যুক্তরাজ্য ব্রিটিশ মিউজিয়াম

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


ব্রিটিশ মিউজিয়ামের প্রদর্শনী থেকে সরানো হলো ‘ফিলিস্তিন’ শব্দ; ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

লন্ডনের বিখ্যাত ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাদের প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গ্যালারিগুলোর প্রদর্শনী থেকে ‘ফিলিস্তিন’ শব্দটি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত বিভিন্ন ইসরায়েলপন্থি গোষ্ঠীর অভিযোগ এবং আইনি চাপের মুখে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শব্দটি ‘বিভ্রান্তিকর’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তারা এই পরিবর্তন এনেছে।

বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ও সমৃদ্ধ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিউজিয়ামের প্রাচীন মিশর ও ফিনিশীয় সভ্যতার গ্যালারিতে থাকা মানচিত্র এবং তথ্য বোর্ড থেকে ‘ফিলিস্তিন’ (Palestine) শব্দটি মুছে ফেলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইসরায়েলপন্থি আইনি সংস্থা ‘ব্রিটিশ লয়ার্স ফর ইসরায়েল’ (UKLFI) মিউজিয়ামের পরিচালক নিকোলাস কুলিনানকে একটি চিঠি পাঠায়। তাদের দাবি ছিল, খ্রিষ্টপূর্ব সময়কালের বর্ণনায় ‘ফিলিস্তিন’ শব্দের ব্যবহার ঐতিহাসিকভাবে ভুল বা ‘অ্যানাক্রোনিজম’ (কালানুক্রমিক ভুল)। তাদের মতে, এটি ওই অঞ্চলের প্রকৃত ঐতিহাসিক বিবর্তনকে আড়াল করে একটি ভুল ধারণা তৈরি করে।

তদন্তে দেখা গেছে, মিউজিয়ামের কিছু প্রদর্শনীতে আগে ‘ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত’ (of Palestinian origin) কথাটি উল্লেখ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, খ্রিষ্টপূর্ব ১৭০০-১৫০০ অব্দের মিশরীয় প্রদর্শনীতে নীল নদ বদ্বীপের ‘হিক্সোস’ (Hyksos) জনজাতিকে আগে ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত বলা হতো। এখন তা পরিবর্তন করে ‘কনানীয় বংশোদ্ভূত’ (of Canaanite origin) করা হয়েছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ লেভান্ট অঞ্চলের জন্য ‘কনান’ (Canaan) শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য।

ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক তথ্যের নির্ভুলতা বজায় রাখতেই তারা এই পরিবর্তন আনছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আধুনিক সীমানা নির্ধারণী মানচিত্রের ক্ষেত্রে তারা এখনও জাতিসংঘ (UN) স্বীকৃত পরিভাষা ব্যবহার করেন। এছাড়া সাংস্কৃতিক বা নৃতাত্ত্বিক বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে ‘ফিলিস্তিনি’ শব্দটি ব্যবহার করা হবে।

এই সিদ্ধান্তটি ইতিহাসবিদ এবং ফিলিস্তিনপন্থি কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক অস্তিত্বকে মুছে ফেলার এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ এটি। ব্রিটিশ মিউজিয়ামে থাকা অধিকাংশ সম্পদই ঔপনিবেশিক আমলে বিভিন্ন দেশ থেকে আনা, যা নিয়ে আগে থেকেই তীব্র বিতর্ক রয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত