শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
কওমী টাইমস

মা-বাবাকে হারানো শিশুদের মানসিক ক্ষত মুছতে নুসাইরাত উপকূলে বিশেষ উদ্যোগ

গাজায় এতিম শিশুদের কান্নাস্নাত আকাশ: ঘুড়িতে উড়ল হারানো শৈশব আর আগামীর স্বপ্ন



গাজায় এতিম শিশুদের কান্নাস্নাত আকাশ: ঘুড়িতে উড়ল হারানো শৈশব আর আগামীর স্বপ্ন
গাজায় এতিম শিশুরা স্বপ্ন লিখে kite উড়াচ্ছে সমুদ্রতীরে

বিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মা-বাবাকে হারানো শত শত এতিম শিশু তাদের লালিত স্বপ্নগুলোকে ঘুড়ির গায়ে লিখে আকাশে উড়িয়েছে। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের উপকূলে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি শিশুদের যুদ্ধকালীন ভয়াবহ স্মৃতি ভুলিয়ে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার লক্ষে আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও যে জীবন ও স্বপ্ন টিকে থাকে, এই ঘুড়িগুলো যেন তারই বার্তা দিচ্ছিল।

গাজা উপত্যকার মধ্যবর্তী অঞ্চল নুসাইরাত মülteci ক্যাম্পের সৈকতে সমবেত হয়েছিল একদল শিশু, যাদের কারোরই আজ মা কিংবা বাবা বেঁচে নেই। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা ‘হুসোমে’ (HuSoMe)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুরা রঙিন ঘুড়ির ওপর নিজেদের নাম এবং বড় হয়ে কী হতে চায়—সেই স্বপ্নগুলো লিখে নীল আকাশে উড়িয়ে দেয়।

সংস্থাটির গাজা প্রতিনিধি ফাহিমা আল-জাবারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া ‘দ্য ড্রিমস অফ দ্য ওনলি সারভাইভার’ (একমাত্র বেঁচে থাকা শিশুদের স্বপ্ন) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ জন শিশুকে নিয়ে এই দলটি গঠিত যারা পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজ একা। জাবারি বলেন, "এই শিশুদের প্রত্যেকের পেছনে এক একটি মর্মান্তিক গল্প রয়েছে। কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল, যেখান থেকে তাদের অলৌকিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।"

বর্তমানে এই শিশুদের আবাসন, খাবার এবং সবচেয়ে জরুরি মানসিক সহায়তা প্রদান করছে সংস্থাটি। জাবারি আরও যোগ করেন, "আমরা চেয়েছি ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে তারা যেন বিশ্বকে বার্তা দেয় যে—এত রক্তপাত আর ধ্বংসের মাঝেও গাজার শিশুদের মনে আশার প্রদীপ এখনো জ্বলছে।"

যুদ্ধে মা-বাবাকে হারিয়ে ৩ ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া লেমিস কাহিল জানায় তার যন্ত্রণার কথা। সে বলে, "বাবাকে হারানো কষ্টের, কিন্তু মাকে হারানো তার চেয়েও বেশি যন্ত্রণার। আমরা এখন এক কঠিন জীবন পার করছি। যুদ্ধবিরতি হলেও আমাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুব কঠিন। আমি শুধু চাই আমার ভাইদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ আর একটু খাবার।"

যদিও বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু গাজার এই শিশুদের চোখেমুখে এখনো যুদ্ধের আতঙ্ক স্পষ্ট। এই ঘুড়ি উৎসবটি তাদের কাছে কেবল একটি খেলা ছিল না, এটি ছিল বিশ্ববাসীর কাছে তাদের বেঁচে থাকার আকুতি।

বিষয় : গাজা

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


গাজায় এতিম শিশুদের কান্নাস্নাত আকাশ: ঘুড়িতে উড়ল হারানো শৈশব আর আগামীর স্বপ্ন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিধ্বস্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মা-বাবাকে হারানো শত শত এতিম শিশু তাদের লালিত স্বপ্নগুলোকে ঘুড়ির গায়ে লিখে আকাশে উড়িয়েছে। নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরের উপকূলে আয়োজিত এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি শিশুদের যুদ্ধকালীন ভয়াবহ স্মৃতি ভুলিয়ে কিছুটা মানসিক প্রশান্তি দেওয়ার লক্ষে আয়োজন করা হয়। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও যে জীবন ও স্বপ্ন টিকে থাকে, এই ঘুড়িগুলো যেন তারই বার্তা দিচ্ছিল।

গাজা উপত্যকার মধ্যবর্তী অঞ্চল নুসাইরাত মülteci ক্যাম্পের সৈকতে সমবেত হয়েছিল একদল শিশু, যাদের কারোরই আজ মা কিংবা বাবা বেঁচে নেই। ফ্রান্সভিত্তিক সংস্থা ‘হুসোমে’ (HuSoMe)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিশুরা রঙিন ঘুড়ির ওপর নিজেদের নাম এবং বড় হয়ে কী হতে চায়—সেই স্বপ্নগুলো লিখে নীল আকাশে উড়িয়ে দেয়।

সংস্থাটির গাজা প্রতিনিধি ফাহিমা আল-জাবারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া ‘দ্য ড্রিমস অফ দ্য ওনলি সারভাইভার’ (একমাত্র বেঁচে থাকা শিশুদের স্বপ্ন) প্রকল্পের আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৫ জন শিশুকে নিয়ে এই দলটি গঠিত যারা পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজ একা। জাবারি বলেন, "এই শিশুদের প্রত্যেকের পেছনে এক একটি মর্মান্তিক গল্প রয়েছে। কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল, যেখান থেকে তাদের অলৌকিকভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।"

বর্তমানে এই শিশুদের আবাসন, খাবার এবং সবচেয়ে জরুরি মানসিক সহায়তা প্রদান করছে সংস্থাটি। জাবারি আরও যোগ করেন, "আমরা চেয়েছি ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে তারা যেন বিশ্বকে বার্তা দেয় যে—এত রক্তপাত আর ধ্বংসের মাঝেও গাজার শিশুদের মনে আশার প্রদীপ এখনো জ্বলছে।"

যুদ্ধে মা-বাবাকে হারিয়ে ৩ ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া লেমিস কাহিল জানায় তার যন্ত্রণার কথা। সে বলে, "বাবাকে হারানো কষ্টের, কিন্তু মাকে হারানো তার চেয়েও বেশি যন্ত্রণার। আমরা এখন এক কঠিন জীবন পার করছি। যুদ্ধবিরতি হলেও আমাদের জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা খুব কঠিন। আমি শুধু চাই আমার ভাইদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ আর একটু খাবার।"

যদিও বর্তমানে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, কিন্তু গাজার এই শিশুদের চোখেমুখে এখনো যুদ্ধের আতঙ্ক স্পষ্ট। এই ঘুড়ি উৎসবটি তাদের কাছে কেবল একটি খেলা ছিল না, এটি ছিল বিশ্ববাসীর কাছে তাদের বেঁচে থাকার আকুতি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত