একটি ভিডিও লাইভস্ট্রিমে কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিচয়ধারী এক নারীর চরম উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারী মুসলিম নারী ও শিশুদের হত্যার প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন যে, এটি তাদের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল। যদিও পরে তিনি তার বক্তব্যের কিছুটা পরিবর্তন করেন, তবে ততক্ষণে তার ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
উক্ত লাইভস্ট্রিমে অংশগ্রহণকারী নারী নিজেকে কাশ্মীরি পণ্ডিত হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের পেছনে কারণ দর্শানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা অতীতে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, "আমাদের শুরু থেকেই মারা হয়েছে, তাই আমাদের চিন্তাধারা এখন এমন হয়ে গেছে।"
তিনি মূলত এই 'ভিক্টিমাইজেশন' বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার যুক্তিতে মুসলিম শিশুদের হত্যার মতো অমানবিক চিন্তাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি নির্দিষ্টভাবে 'জিহাদি মানসিকতা' সম্পন্ন ব্যক্তিদের দায়ী করলেও তার প্রাথমিক বক্তব্যে সকল মুসলিম নারী ও শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী পক্ষগুলো প্রায়শই নিজেদের অতীতের ট্র্যাজেডিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানের সহিংসতার উস্কানিকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে থাকে।
'কিক' (Kick) নামক লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি ঘটে। জনৈক পাকিস্তানি ব্যবহারকারী (@Janjuatalks) নিজেকে ইসরায়েলি নাগরিক পরিচয় দিয়ে একটি লাইভ কথোপকথন শুরু করেন। সেখানে দুইজন ভারতীয় নারী যুক্ত ছিলেন—যাদের একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং অন্যজন মুসলিম (ফারহীন)।
আলোচনার এক পর্যায়ে সঞ্চালক যখন দাবি করেন যে তিনি পৃথিবী থেকে সমস্ত মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে চান এবং এ জন্য ঘৃণার শিকার হন, তখন ওই পণ্ডিত নারী পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, "অবশ্যই আমরাও এটা সমর্থন করি।" তিনি আরও যোগ করেন যে তারা কেবল এটি করার সুযোগ বা সক্ষমতা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, তার পাশে বসে থাকা তার মুসলিম বান্ধবী ফারহীনকেও তিনি এই হত্যাকাণ্ডের আওতায় ফেলার বিষয়ে দ্বিমত করেননি, যা সঞ্চালক কর্তৃক 'ভণ্ডামি' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর মুসলিম এবং সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ভারতের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা শিশুদের হত্যার উস্কানি দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাত বা আদর্শিক দ্বন্দ্বে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মৌলিক দায়িত্ব।
যুদ্ধ বা সংঘাতের সময়ও নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা প্রদান বাধ্যতামূলক। কোনো ঐতিহাসিক ক্ষোভ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিরপরাধ শিশুদের ওপর হামলার বৈধতা দিতে পারে না।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের ঘৃণ্য বক্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে গণহত্যার উস্কানিকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা কীভাবে মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে।
মানবিক বিচারবুদ্ধি সর্বদা নিরপরাধের জীবন রক্ষার নির্দেশ দেয়। এই ধরণের চরমপন্থা কেবল একটি সমাজকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যায়। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।
বিষয় : জম্মু কাশ্মীর

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
একটি ভিডিও লাইভস্ট্রিমে কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিচয়ধারী এক নারীর চরম উস্কানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই নারী মুসলিম নারী ও শিশুদের হত্যার প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে দাবি করেছেন যে, এটি তাদের অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার ফল। যদিও পরে তিনি তার বক্তব্যের কিছুটা পরিবর্তন করেন, তবে ততক্ষণে তার ঘৃণা ছড়ানো বক্তব্যটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।
উক্ত লাইভস্ট্রিমে অংশগ্রহণকারী নারী নিজেকে কাশ্মীরি পণ্ডিত হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের পেছনে কারণ দর্শানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, কাশ্মীরি পণ্ডিতরা অতীতে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, "আমাদের শুরু থেকেই মারা হয়েছে, তাই আমাদের চিন্তাধারা এখন এমন হয়ে গেছে।"
তিনি মূলত এই 'ভিক্টিমাইজেশন' বা নিপীড়নের শিকার হওয়ার যুক্তিতে মুসলিম শিশুদের হত্যার মতো অমানবিক চিন্তাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি নির্দিষ্টভাবে 'জিহাদি মানসিকতা' সম্পন্ন ব্যক্তিদের দায়ী করলেও তার প্রাথমিক বক্তব্যে সকল মুসলিম নারী ও শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। সংশ্লিষ্ট উগ্রবাদী পক্ষগুলো প্রায়শই নিজেদের অতীতের ট্র্যাজেডিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানের সহিংসতার উস্কানিকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করে থাকে।
'কিক' (Kick) নামক লাইভস্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ঘটনাটি ঘটে। জনৈক পাকিস্তানি ব্যবহারকারী (@Janjuatalks) নিজেকে ইসরায়েলি নাগরিক পরিচয় দিয়ে একটি লাইভ কথোপকথন শুরু করেন। সেখানে দুইজন ভারতীয় নারী যুক্ত ছিলেন—যাদের একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং অন্যজন মুসলিম (ফারহীন)।
আলোচনার এক পর্যায়ে সঞ্চালক যখন দাবি করেন যে তিনি পৃথিবী থেকে সমস্ত মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করতে চান এবং এ জন্য ঘৃণার শিকার হন, তখন ওই পণ্ডিত নারী পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, "অবশ্যই আমরাও এটা সমর্থন করি।" তিনি আরও যোগ করেন যে তারা কেবল এটি করার সুযোগ বা সক্ষমতা পাচ্ছেন না। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, তার পাশে বসে থাকা তার মুসলিম বান্ধবী ফারহীনকেও তিনি এই হত্যাকাণ্ডের আওতায় ফেলার বিষয়ে দ্বিমত করেননি, যা সঞ্চালক কর্তৃক 'ভণ্ডামি' হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এই ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর মুসলিম এবং সাধারণ নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং ভারতের দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো বা শিশুদের হত্যার উস্কানি দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ (UNCRC) অনুযায়ী, সশস্ত্র সংঘাত বা আদর্শিক দ্বন্দ্বে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মৌলিক দায়িত্ব।
যুদ্ধ বা সংঘাতের সময়ও নারী ও শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা প্রদান বাধ্যতামূলক। কোনো ঐতিহাসিক ক্ষোভ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নিরপরাধ শিশুদের ওপর হামলার বৈধতা দিতে পারে না।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এই ধরণের ঘৃণ্য বক্তব্য প্রচারের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাক-স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে গণহত্যার উস্কানিকে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।
এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা কীভাবে মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে দিচ্ছে।
মানবিক বিচারবুদ্ধি সর্বদা নিরপরাধের জীবন রক্ষার নির্দেশ দেয়। এই ধরণের চরমপন্থা কেবল একটি সমাজকে ধ্বংসের দিকেই নিয়ে যায়। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা।

আপনার মতামত লিখুন