শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
কওমি টাইমস একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখতে আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। সহযোগিতা করুন
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬
কওমী টাইমস

উত্তরপ্রদেশের ৫৮৮টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কমিশনের তদন্তের নির্দেশকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে স্থগিতাদেশ আদালতের

মাদ্রাসা ইস্যুতে সরব, গণপিটুনিতে নীরব: মানবাধিকার কমিশনের দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ এলাহাবাদ হাইকোর্ট



মাদ্রাসা ইস্যুতে সরব, গণপিটুনিতে নীরব: মানবাধিকার কমিশনের দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ এলাহাবাদ হাইকোর্ট

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাই যখন তাদের অধিকার হরণে তৎপর হয়, তখন বিচারবিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। উত্তরপ্রদেশের ৫৮৮টি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় আর্থিক অপরাধ শাখার (EOW) তদন্ত করার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) দেওয়া নির্দেশকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মানবাধিকার কমিশন নিজের মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

বারাবাঁকির বাসিন্দা তালহা আনসারির এক অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উত্তরপ্রদেশের ৫৮৮টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ইকোনমিক অফেন্স উইং (EOW) বা আর্থিক অপরাধ শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কমিশনের দাবি ছিল, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

'টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন মাদারিস ইউপি'-র সাধারণ সম্পাদক হাজী দেওয়ান জামা খান এই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এই তদন্তের নির্দেশে কয়েক হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়েন। মাদ্রাসা পরিচালক ওয়াসিম আহমেদের মতে, মাদ্রাসা ভাঙা বা ধর্মীয় স্থান দখলের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকলেও নিয়মিত প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

হাইকোর্ট এর আগেই এই তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বর্তমানে আদালত কমিশনের দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছে।

আদালত শুনানির সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলে, "যখন মুসলমানদের মব লিঞ্চিং (পিটিয়ে হত্যা) করা হয়, তখন মানবাধিকার কমিশন নীরবতার চাদর মুড়ি দিয়ে থাকে। অথচ নিজের দায়িত্ব পালন না করে তারা মাদ্রাসার তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে, যা তাদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।" আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকার কমিশনের কাজ মূলত মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করা, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বা আর্থিক অডিট করা নয়। এটি কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবেই দেখছেন আদালত।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক ও অর্ধ-বিচারবিভাগীয় সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কেবল একটি আইনি রায় নয়, বরং এটি মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি আয়না, যা তাদের প্রকৃত দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বিষয় : ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


মাদ্রাসা ইস্যুতে সরব, গণপিটুনিতে নীরব: মানবাধিকার কমিশনের দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ এলাহাবাদ হাইকোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাই যখন তাদের অধিকার হরণে তৎপর হয়, তখন বিচারবিভাগকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। উত্তরপ্রদেশের ৫৮৮টি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় আর্থিক অপরাধ শাখার (EOW) তদন্ত করার জন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের (NHRC) দেওয়া নির্দেশকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মানবাধিকার কমিশন নিজের মূল দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।

বারাবাঁকির বাসিন্দা তালহা আনসারির এক অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন উত্তরপ্রদেশের ৫৮৮টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাজ্য সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে ইকোনমিক অফেন্স উইং (EOW) বা আর্থিক অপরাধ শাখাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কমিশনের দাবি ছিল, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।

'টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন মাদারিস ইউপি'-র সাধারণ সম্পাদক হাজী দেওয়ান জামা খান এই তদন্তের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। বিচারপতি অতুল শ্রীধরনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এই তদন্তের নির্দেশে কয়েক হাজার মাদ্রাসা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনিক হয়রানির মুখে পড়েন। মাদ্রাসা পরিচালক ওয়াসিম আহমেদের মতে, মাদ্রাসা ভাঙা বা ধর্মীয় স্থান দখলের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশন নিষ্ক্রিয় থাকলেও নিয়মিত প্রশাসনিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

হাইকোর্ট এর আগেই এই তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বর্তমানে আদালত কমিশনের দ্বিমুখী আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছে।

আদালত শুনানির সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলে, "যখন মুসলমানদের মব লিঞ্চিং (পিটিয়ে হত্যা) করা হয়, তখন মানবাধিকার কমিশন নীরবতার চাদর মুড়ি দিয়ে থাকে। অথচ নিজের দায়িত্ব পালন না করে তারা মাদ্রাসার তদন্তের নির্দেশ দিচ্ছে, যা তাদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।" আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকার কমিশনের কাজ মূলত মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করা, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক বা আর্থিক অডিট করা নয়। এটি কমিশনের ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবেই দেখছেন আদালত।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক ও অর্ধ-বিচারবিভাগীয় সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা অপরিহার্য। এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কেবল একটি আইনি রায় নয়, বরং এটি মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি আয়না, যা তাদের প্রকৃত দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত