গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতা যখন গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে, তখন এক অনন্য যুদ্ধের ময়দানে রয়েছেন ৩১ বছর বয়সী সাংবাদিক বাসিম আল-হাবিল। তিনি শুনতে পান না, বলতেও পারেন না; কিন্তু তার ক্যামেরা আর ইশারা ভাষা হয়ে উঠেছে গাজার লাখো মানুষের আর্তনাদের কণ্ঠস্বর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে হাসপাতালের করিডোর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন সত্যের বার্তা।
বাসিম আল-হাবিল এমন এক পরিস্থিতিতে কাজ করছেন যেখানে সাধারণ সাংবাদিকদের জন্যও টিকে থাকা দায়। তিনি জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ তার কানে পৌঁছায় না, কেবল পায়ের নিচের মাটির কম্পন তাকে সতর্ক করে। তিনি যখন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনতে পান না, তখন মানুষের দৌড়াদৌড়ি দেখে বিপদের আঁচ করেন। শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভিডিও ও ইশারা ভাষার মাধ্যমে প্রতিবেদন পাঠিয়ে গাজার মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরছেন।
গাজায় আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাসিমের জীবন আমূল বদলে গেছে।
উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। তিনি জানান, বাড়ি ছাড়ার সময় ক্ষুধার্ত কন্যা যখন খাবার চেয়েছিল, তখন তাকে দেওয়ার মতো কিছুই তার কাছে ছিল না।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রিয়জনকে খোঁজা মানুষের হাহাকার এবং হাসপাতালের করিডোরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া শিশুদের নীরব যন্ত্রণাকে তিনি ক্যামেরাবন্দি করছেন।
তার ধারণকৃত ভিডিওগুলো ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তার দাবি, "আমি শব্দ শুনতে না পেলেও মানুষের চোখে যে ভয় আর ঘৃণা দেখেছি, তা বিশ্বকে জানানো আমার দায়িত্ব।"
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাজায় সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে। বাসিমের মতো একজন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করেন, তখন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (IHL) অনুযায়ী তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তার এই লড়াই কেবল সাংবাদিকতা নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং যুদ্ধের ময়দানে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার এক অনন্য উদাহরণ। বাসিম তুর্কি জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি অবরোধ ও কয়েক দশকের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গাজা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল। বাসিমের আগে গাজার সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে পুরোপুরি ‘যুদ্ধ সাংবাদিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বাসিম আল-হাবিল প্রমাণ করেছেন যে, সত্য প্রকাশের জন্য শব্দের প্রয়োজন হয় না; সাহস আর লক্ষ্যই যথেষ্ট। তার নীরব ক্যামেরা আজ গাজার সবচেয়ে শক্তিশালী চিৎকার।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলার ভয়াবহতা যখন গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে, তখন এক অনন্য যুদ্ধের ময়দানে রয়েছেন ৩১ বছর বয়সী সাংবাদিক বাসিম আল-হাবিল। তিনি শুনতে পান না, বলতেও পারেন না; কিন্তু তার ক্যামেরা আর ইশারা ভাষা হয়ে উঠেছে গাজার লাখো মানুষের আর্তনাদের কণ্ঠস্বর। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে হাসপাতালের করিডোর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছেন সত্যের বার্তা।
বাসিম আল-হাবিল এমন এক পরিস্থিতিতে কাজ করছেন যেখানে সাধারণ সাংবাদিকদের জন্যও টিকে থাকা দায়। তিনি জানান, বিস্ফোরণের বিকট শব্দ তার কানে পৌঁছায় না, কেবল পায়ের নিচের মাটির কম্পন তাকে সতর্ক করে। তিনি যখন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনতে পান না, তখন মানুষের দৌড়াদৌড়ি দেখে বিপদের আঁচ করেন। শ্রবণ ও বাক-প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও তিনি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভিডিও ও ইশারা ভাষার মাধ্যমে প্রতিবেদন পাঠিয়ে গাজার মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরছেন।
গাজায় আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাসিমের জীবন আমূল বদলে গেছে।
উত্তর গাজা থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। তিনি জানান, বাড়ি ছাড়ার সময় ক্ষুধার্ত কন্যা যখন খাবার চেয়েছিল, তখন তাকে দেওয়ার মতো কিছুই তার কাছে ছিল না।
ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রিয়জনকে খোঁজা মানুষের হাহাকার এবং হাসপাতালের করিডোরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া শিশুদের নীরব যন্ত্রণাকে তিনি ক্যামেরাবন্দি করছেন।
তার ধারণকৃত ভিডিওগুলো ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ন মানুষের কাছে পৌঁছেছে। তার দাবি, "আমি শব্দ শুনতে না পেলেও মানুষের চোখে যে ভয় আর ঘৃণা দেখেছি, তা বিশ্বকে জানানো আমার দায়িত্ব।"
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গাজায় সাংবাদিকদের টার্গেট করে হামলা চালানো হচ্ছে। বাসিমের মতো একজন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি যখন যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করেন, তখন আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (IHL) অনুযায়ী তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। তার এই লড়াই কেবল সাংবাদিকতা নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার এবং যুদ্ধের ময়দানে তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার এক অনন্য উদাহরণ। বাসিম তুর্কি জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি অবরোধ ও কয়েক দশকের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গাজা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অঞ্চল। বাসিমের আগে গাজার সৌন্দর্য নিয়ে কাজ করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে পুরোপুরি ‘যুদ্ধ সাংবাদিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
বাসিম আল-হাবিল প্রমাণ করেছেন যে, সত্য প্রকাশের জন্য শব্দের প্রয়োজন হয় না; সাহস আর লক্ষ্যই যথেষ্ট। তার নীরব ক্যামেরা আজ গাজার সবচেয়ে শক্তিশালী চিৎকার।

আপনার মতামত লিখুন