সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
কওমী টাইমস

পিপলস্ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব)-এর মানবিক উদ্যোগে ৭ প্রকার ফল পেয়ে মুখে হাসি ফুটল জমিরিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের

ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের নিয়ে পিসব-এর মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬



ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের নিয়ে পিসব-এর মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জমিরিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হিফজ বিভাগের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে 'মৌসুমী ফল উৎসব–২০২৬' আয়োজন করেছে পিপলস্ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব)। আজ (২৯ জুন) দেশীয় ৭ প্রকারের সুস্বাদু মৌসুমী ফল দিয়ে এই কোমলমতি শিশুদের আপ্যায়ন করা হয়। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফোটানো এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই পিসব-এর এই ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগ।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, এতিম ও দরিদ্র শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই পিপলস্ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব) দেশজুড়ে পরিচালনা করছে "সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মৌসুমী ফল উৎসব–২০২৬"।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অন্তর্গত জমিরিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ ফল আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। মাদ্রাসার অবহেলিত, দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের পাতে তুলে দেওয়া হয় ৭ প্রকারের বৈচিত্র্যময় দেশী মৌসুমী ফল। ফলগুলোর তালিকায় ছিল— রসালো আম, জাতীয় ফল কাঁঠাল, পুষ্টিকর লটকন, জাম, আমলকি, আমড়া এবং কলা।

দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হরেক রকমের ফলের স্বাদ পেয়ে কোমলমতি শিশুদের মুখে এক নির্মল ও স্বর্গীয় হাসি ফুটে ওঠে। আয়োজকরা জানান, বিত্তবানদের ঘরের সন্তানরা নিয়মিত মৌসুমী ফলের স্বাদ পেলেও, সমাজের এই সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুরা অনেক সময় পুষ্টিকর ফলমূল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে এই আনন্দ ও তৃপ্তির হাসি ফোটানোই পিসব-এর সবচেয়ে বড় অর্জন।

ইসলামী মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় এতিমদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে একসঙ্গে থাকব।" এরপর তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল একত্র করে দেখিয়েছিলেন (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৩০৪)। এই হাদিসের আলোকেই পিসব সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করতে এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

আমাদের সামান্য একটু সহযোগিতা হয়তো আমাদের কাছে খুবই সাধারণ, কিন্তু একজন এতিম বা দরিদ্র শিশুর কাছে তা হতে পারে অনেক বড় আনন্দ, ভালোবাসা ও দোয়ার কারণ। পিসব-এর পক্ষ থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনার একটি ক্ষুদ্র অনুদান বা সহযোগিতা আরও অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে মৌসুমী ফলের হাসি উপহার দিতে পারে।

পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়— যারা মানবতার কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে খেদমত করছেন এবং পিসবের এই ধরনের সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, আল্লাহ যেন তাদের সকলকে সুস্থতা, হালাল রিজিকের বরকত, নিরাপদ জীবন এবং তাঁর চিরন্তন সন্তুষ্টি দান করেন। আমীন।

"মানবসেবায়, মানবতার পাশে" — এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে পিসব আগামীতেও পিছিয়ে পড়া মুসলিম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীসহ সকল অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।

বিষয় : মাদরাসা পিসব

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ে সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের নিয়ে পিসব-এর মৌসুমী ফল উৎসব-২০২৬

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার জমিরিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হিফজ বিভাগের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে 'মৌসুমী ফল উৎসব–২০২৬' আয়োজন করেছে পিপলস্ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব)। আজ (২৯ জুন) দেশীয় ৭ প্রকারের সুস্বাদু মৌসুমী ফল দিয়ে এই কোমলমতি শিশুদের আপ্যায়ন করা হয়। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফোটানো এবং পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই পিসব-এর এই ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগ।

সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, এতিম ও দরিদ্র শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মৌলিক ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের সকলের ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই পিপলস্ ইমপ্রুভমেন্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ (পিসব) দেশজুড়ে পরিচালনা করছে "সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মৌসুমী ফল উৎসব–২০২৬"।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অন্তর্গত জমিরিয়া মাদ্রাসার আবাসিক হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ ফল আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। মাদ্রাসার অবহেলিত, দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের পাতে তুলে দেওয়া হয় ৭ প্রকারের বৈচিত্র্যময় দেশী মৌসুমী ফল। ফলগুলোর তালিকায় ছিল— রসালো আম, জাতীয় ফল কাঁঠাল, পুষ্টিকর লটকন, জাম, আমলকি, আমড়া এবং কলা।

দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে হরেক রকমের ফলের স্বাদ পেয়ে কোমলমতি শিশুদের মুখে এক নির্মল ও স্বর্গীয় হাসি ফুটে ওঠে। আয়োজকরা জানান, বিত্তবানদের ঘরের সন্তানরা নিয়মিত মৌসুমী ফলের স্বাদ পেলেও, সমাজের এই সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুরা অনেক সময় পুষ্টিকর ফলমূল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে এই আনন্দ ও তৃপ্তির হাসি ফোটানোই পিসব-এর সবচেয়ে বড় অর্জন।

ইসলামী মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষায় এতিমদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার বিশেষ তাগিদ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমি ও এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে একসঙ্গে থাকব।" এরপর তিনি নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল একত্র করে দেখিয়েছিলেন (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৩০৪)। এই হাদিসের আলোকেই পিসব সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করতে এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

আমাদের সামান্য একটু সহযোগিতা হয়তো আমাদের কাছে খুবই সাধারণ, কিন্তু একজন এতিম বা দরিদ্র শিশুর কাছে তা হতে পারে অনেক বড় আনন্দ, ভালোবাসা ও দোয়ার কারণ। পিসব-এর পক্ষ থেকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আপনার একটি ক্ষুদ্র অনুদান বা সহযোগিতা আরও অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে মৌসুমী ফলের হাসি উপহার দিতে পারে।

পরিশেষে, আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়— যারা মানবতার কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে খেদমত করছেন এবং পিসবের এই ধরনের সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, আল্লাহ যেন তাদের সকলকে সুস্থতা, হালাল রিজিকের বরকত, নিরাপদ জীবন এবং তাঁর চিরন্তন সন্তুষ্টি দান করেন। আমীন।

"মানবসেবায়, মানবতার পাশে" — এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে পিসব আগামীতেও পিছিয়ে পড়া মুসলিম ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীসহ সকল অবহেলিত মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাবে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ