শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
কওমী টাইমস

ছাত্রী, দুগ্ধদানকারী মা ও শালীনতা রক্ষা ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রাইভেসি রক্ষায় পর্দা ঘেরা বিশেষ কর্নার স্থাপন; প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন ও লিঙ্গ-পৃথকীকরণের বিতর্কে ক্যাম্পাস রাজনীতি

ঢাবি টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ডাকসুর 'ফিমেল জোন' চালু: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতের উদ্যোগ ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া



ঢাবি টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ডাকসুর 'ফিমেল জোন' চালু: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতের উদ্যোগ ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য একটি পৃথক 'ফিমেল জোন' (Female Zone) চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণে পর্দার মাধ্যমে ঘেরা একটি টেবিল নিয়ে এই স্থানটি তৈরি করা হয়, যাতে সাধারণ ছাত্রীরা তাঁদের পোশাক ঠিক করা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণের মতো ব্যক্তিগত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন। তবে এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসে নারী অধিকার, লিঙ্গ-পৃথকীকরণ ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম ফেসবুক লিখেছেন, ‘আমার কোনোভাবেই বুঝে আসলো না যে একটা কো-এড প্রতিষ্ঠানের ক্যাফেটেরিয়ায় কেন ফিমেইল জোন থাকবে। আজকে এইটা নিয়ে না বললে কালকে দেখবো ক্লাসরুমের মাঝখানে ফিমেইল জোন, স্বপন মামার দোকানেও ফিমেইল জোন তুলছে। জামাতি বুদ্ধি যতটুকু দেখাইলে মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলা যায়, এরা ততটুকুই করছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রী ও মায়েদের মৌলিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত প্রাইভেসির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। এটি বাস্তবায়নে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা।

ডাকসু নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত বা আগত নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও ব্যক্তিগত স্থান নিশ্চিত করা। সাধারণ ছাত্রীরা অনেক সময় ক্যাম্পাসের জনাকীর্ণ স্থানে পোশাক সামলানো, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়েন। বিশেষ করে শিশুসন্তান নিয়ে আসা মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ দানের কোনো একান্ত ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিনের এক ধরনের চাহিদা ছিল।

উদ্যোগটি সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন:

"যেসব ছাত্রী মনে করেন তাঁদের একটি নিরাপদ ও গোপনীয় স্থানের প্রয়োজন, এটি প্রধানত তাঁদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এখানে মায়েরা তাঁদের শিশুদের নিরাপদে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের পোশাক সামলে নিতে পারবেন, বিশ্রাম নিতে পারবেন কিংবা পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার খেতে পারবেন।"

তবে এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং ধর্মীয় শালীনতাকামী শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রী লাবিবা বিনতে ওয়ালী এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরিবিলি খাওয়ার জায়গা নেই। মায়েরা যাতে নিরাপদে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারেন এবং প্রাইভেসির প্রয়োজন বোধ করা ছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন—এমন ব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।

অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও কতিপয় শিক্ষাবিদ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, আলাদা জায়গা তৈরি না করে পুরো ক্যাম্পাসকে সব নারী ও পুরুষের জন্য সমানভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করা উচিত। বিপ্লবি ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা একে একটি 'সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট' বলে অভিহিত করেছেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন দাবি করেছেন, সহশিক্ষার ধারণার সাথে এমন পৃথকীকরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি 'পৃথকীকরণের রাজনীতি' নির্দেশ করে।

শিক্ষাবিদদের একটি অংশের এমন ভূমিকার বিপরীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত হলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে নারীদের পর্দা ও প্রাইভেসির অধিকার নিশ্চিত করা কোনো লিঙ্গ-বৈষম্য নয়, বরং এটি তাঁদের মৌলিক অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যেরই অংশ।

এ ছাড়া অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন উঠেছে। উম্মে সালমা স্বীকার করেছেন যে পরিবর্তনের পূর্বে আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়নি। টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফারজানা বাশার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকলেও আগে থেকে এই ধরনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি।

বিষয় : ঢাবি ফিমেল জোন টিএসসি

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


ঢাবি টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ায় ডাকসুর 'ফিমেল জোন' চালু: শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিতের উদ্যোগ ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় ছাত্রী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য একটি পৃথক 'ফিমেল জোন' (Female Zone) চালু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। টিএসসির ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণে পর্দার মাধ্যমে ঘেরা একটি টেবিল নিয়ে এই স্থানটি তৈরি করা হয়, যাতে সাধারণ ছাত্রীরা তাঁদের পোশাক ঠিক করা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণের মতো ব্যক্তিগত কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেন। তবে এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসে নারী অধিকার, লিঙ্গ-পৃথকীকরণ ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মানসুরা আলম ফেসবুক লিখেছেন, ‘আমার কোনোভাবেই বুঝে আসলো না যে একটা কো-এড প্রতিষ্ঠানের ক্যাফেটেরিয়ায় কেন ফিমেইল জোন থাকবে। আজকে এইটা নিয়ে না বললে কালকে দেখবো ক্লাসরুমের মাঝখানে ফিমেইল জোন, স্বপন মামার দোকানেও ফিমেইল জোন তুলছে। জামাতি বুদ্ধি যতটুকু দেখাইলে মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলা যায়, এরা ততটুকুই করছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রী ও মায়েদের মৌলিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত প্রাইভেসির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। এটি বাস্তবায়নে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা।

ডাকসু নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ক্যাম্পাসে অধ্যয়নরত বা আগত নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও ব্যক্তিগত স্থান নিশ্চিত করা। সাধারণ ছাত্রীরা অনেক সময় ক্যাম্পাসের জনাকীর্ণ স্থানে পোশাক সামলানো, বিশ্রাম নেওয়া কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্বস্তিতে পড়েন। বিশেষ করে শিশুসন্তান নিয়ে আসা মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ দানের কোনো একান্ত ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিনের এক ধরনের চাহিদা ছিল।

উদ্যোগটি সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা বলেন:

"যেসব ছাত্রী মনে করেন তাঁদের একটি নিরাপদ ও গোপনীয় স্থানের প্রয়োজন, এটি প্রধানত তাঁদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এখানে মায়েরা তাঁদের শিশুদের নিরাপদে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের পোশাক সামলে নিতে পারবেন, বিশ্রাম নিতে পারবেন কিংবা পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যে খাবার খেতে পারবেন।"

তবে এই উদ্যোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নারী শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং ধর্মীয় শালীনতাকামী শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্রী লাবিবা বিনতে ওয়ালী এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরিবিলি খাওয়ার জায়গা নেই। মায়েরা যাতে নিরাপদে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারেন এবং প্রাইভেসির প্রয়োজন বোধ করা ছাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন—এমন ব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।

অন্যদিকে, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও কতিপয় শিক্ষাবিদ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের দাবি, আলাদা জায়গা তৈরি না করে পুরো ক্যাম্পাসকে সব নারী ও পুরুষের জন্য সমানভাবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করা উচিত। বিপ্লবি ছাত্র মৈত্রী ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসিন রাশা একে একটি 'সস্তা পাবলিসিটি স্টান্ট' বলে অভিহিত করেছেন। নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন দাবি করেছেন, সহশিক্ষার ধারণার সাথে এমন পৃথকীকরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি 'পৃথকীকরণের রাজনীতি' নির্দেশ করে।

শিক্ষাবিদদের একটি অংশের এমন ভূমিকার বিপরীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত হলো, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে নারীদের পর্দা ও প্রাইভেসির অধিকার নিশ্চিত করা কোনো লিঙ্গ-বৈষম্য নয়, বরং এটি তাঁদের মৌলিক অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যেরই অংশ।

এ ছাড়া অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন উঠেছে। উম্মে সালমা স্বীকার করেছেন যে পরিবর্তনের পূর্বে আনুষ্ঠানিক লিখিত অনুমোদন নেওয়া হয়নি। টিএসসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ফারজানা বাশার জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকলেও আগে থেকে এই ধরনের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য কোনো অনুমতি চাওয়া হয়নি।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ