সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

"আমার বাবা কোন যোদ্ধা ছিলেন না, ছিলেন সাধারণ এক খামারী; দখলদার ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিতে চায়।"

ইসরায়েলি হামলায় শহীদ বাবার বিচারের দাবীতে জাতিসংঘে লেবাননের সাংবাদিক



ইসরায়েলি হামলায় শহীদ বাবার বিচারের দাবীতে জাতিসংঘে লেবাননের সাংবাদিক

দক্ষিণ লেবাননে নিজ পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার সময় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ৬৮ বছর বয়সী ইমাদ ইয়াসিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারে জাতিসংঘে আইনি লড়াই শুরু করেছেন তার মেয়ে ও লিবানানি সাংবাদিক জয়নাব ইমাদ ইয়াসিন। গত ৮ জুন জেনারেটর মেরামতকালে ইহুদিবাদী বাহিনীর ড্রোন থেকে ছোড়া রকেটে তিনি শহীদ হন। কোনো সামরিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসামরিক এই খামারীকে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জয়নাব বলেন, লেবাননের দক্ষিণে জীবনের চিহ্ন মুছে দিতেই ইসরায়েল এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের কারাদণ্ড দাবি করেছেন।

পবিত্র ভূখণ্ড ফিলিস্তিনে গণহত্যার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ লেবাননেও অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক মানুষদের টার্গেট করে হত্যা করে চলেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এ ধরনের নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়ে নিজ বাবাকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে বিচার চেয়েছেন লেবাননের বিশিষ্ট সাংবাদিক জয়নাব ইমাদ ইয়াসিন। দক্ষিণ লেবাননের নিজ খামারে সাধারণ কাজ করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শহীদ হন তার বাবা ৬৮ বছর বয়সী ইমাদ ইয়াসিন।

জয়নাব জানান, সীমান্ত অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা নিজের পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত খামার ছেড়ে বৈরুতে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। জয়নাব তার বাবার সাথে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "আমার বাবা সবসময় বলতেন—তিনি কোনো সৈনিক বা যোদ্ধা নন। তিনি কেবল একজন সাধারণ খামারী। আকাশে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ানো ইসরায়েলি ড্রোনগুলো খুব ভালো করেই জানতো তিনি কী করছেন। তবুও গত ৮ জুন ড্রোন হামলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।"

এই বর্বরোচিত ঘটনার কোনো বিচার না হওয়া এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিষদে (UNHRC) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন জয়নাব। তিনি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ হস্তান্তর করেছেন। জয়নাবের স্পষ্ট বক্তব্য, "আমার বাবা কেবল কোনো পরিসংখ্যানে থাকা একটি সংখ্যা নন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। যে বা যারা রকেটের বোতাম টিপে তাকে হত্যা করেছে, তাদের আদালতে দাঁড় করাতে হবে। আমি নেতানিয়াহুসহ সব অপরাধীকে কারাগারে দেখতে চাই।"

ইহুদিবাদী দখলদারদের এই নির্মম আচরণের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়নাব বলেন, "ইসরায়েল বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে কারণ তারা দক্ষিণ লেবাননে জীবনের সব স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস করে দিতে চায়। তারা বার্তা দিতে চায়—কেউ যেন নিজের জন্মভূমিতে ফিরে না আসে। লেবাননের দক্ষিণে যদি কেউ ফিরে আসে, সে যোদ্ধা না হলেও তাকে হত্যা করা হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে নিজ জন্মভূমির ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সীমান্ত এলাকার শত শত প্রাচীন জলপাই বাগান ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি দখলদাররা, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও বেসামরিক জীবনযাপনকে স্তব্ধ করার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত। এ ঘটনায় বিশ্ববাসীর নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে জয়নাব আহ্বান জানান, ইসরায়েলের প্রতিটি অপরাধ, রক্তপাত ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের হিসাব যেন বিশ্বমঞ্চে নথিবদ্ধ করা হয় এবং প্রতিটি মঞ্চে এর বিরুদ্ধে কথা বলা হয়।

বিষয় : লেবানন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


ইসরায়েলি হামলায় শহীদ বাবার বিচারের দাবীতে জাতিসংঘে লেবাননের সাংবাদিক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ লেবাননে নিজ পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করার সময় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো ৬৮ বছর বয়সী ইমাদ ইয়াসিনের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারে জাতিসংঘে আইনি লড়াই শুরু করেছেন তার মেয়ে ও লিবানানি সাংবাদিক জয়নাব ইমাদ ইয়াসিন। গত ৮ জুন জেনারেটর মেরামতকালে ইহুদিবাদী বাহিনীর ড্রোন থেকে ছোড়া রকেটে তিনি শহীদ হন। কোনো সামরিক সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসামরিক এই খামারীকে হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জয়নাব বলেন, লেবাননের দক্ষিণে জীবনের চিহ্ন মুছে দিতেই ইসরায়েল এ ধরনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুসহ সংশ্লিষ্ট হামলাকারীদের কারাদণ্ড দাবি করেছেন।

পবিত্র ভূখণ্ড ফিলিস্তিনে গণহত্যার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ লেবাননেও অব্যাহত ধ্বংসযজ্ঞ ও বেসামরিক মানুষদের টার্গেট করে হত্যা করে চলেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এ ধরনের নির্মম বাস্তবতার শিকার হয়ে নিজ বাবাকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক দরবারে বিচার চেয়েছেন লেবাননের বিশিষ্ট সাংবাদিক জয়নাব ইমাদ ইয়াসিন। দক্ষিণ লেবাননের নিজ খামারে সাধারণ কাজ করার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় শহীদ হন তার বাবা ৬৮ বছর বয়সী ইমাদ ইয়াসিন।

জয়নাব জানান, সীমান্ত অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা তীব্র হওয়া সত্ত্বেও তার বাবা নিজের পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত খামার ছেড়ে বৈরুতে চলে যেতে অস্বীকৃতি জানান। জয়নাব তার বাবার সাথে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, "আমার বাবা সবসময় বলতেন—তিনি কোনো সৈনিক বা যোদ্ধা নন। তিনি কেবল একজন সাধারণ খামারী। আকাশে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ানো ইসরায়েলি ড্রোনগুলো খুব ভালো করেই জানতো তিনি কী করছেন। তবুও গত ৮ জুন ড্রোন হামলায় তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।"

এই বর্বরোচিত ঘটনার কোনো বিচার না হওয়া এবং অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিষদে (UNHRC) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ জমা দিয়েছেন জয়নাব। তিনি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে বাবার নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য-প্রমাণ হস্তান্তর করেছেন। জয়নাবের স্পষ্ট বক্তব্য, "আমার বাবা কেবল কোনো পরিসংখ্যানে থাকা একটি সংখ্যা নন, তিনি একজন মানুষ ছিলেন। যে বা যারা রকেটের বোতাম টিপে তাকে হত্যা করেছে, তাদের আদালতে দাঁড় করাতে হবে। আমি নেতানিয়াহুসহ সব অপরাধীকে কারাগারে দেখতে চাই।"

ইহুদিবাদী দখলদারদের এই নির্মম আচরণের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়নাব বলেন, "ইসরায়েল বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে কারণ তারা দক্ষিণ লেবাননে জীবনের সব স্বাভাবিক পরিবেশ ধ্বংস করে দিতে চায়। তারা বার্তা দিতে চায়—কেউ যেন নিজের জন্মভূমিতে ফিরে না আসে। লেবাননের দক্ষিণে যদি কেউ ফিরে আসে, সে যোদ্ধা না হলেও তাকে হত্যা করা হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে নিজ জন্মভূমির ভিটেমাটিতে ফিরে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সীমান্ত এলাকার শত শত প্রাচীন জলপাই বাগান ধ্বংস করে দিচ্ছে ইসরায়েলি দখলদাররা, যা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও বেসামরিক জীবনযাপনকে স্তব্ধ করার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত। এ ঘটনায় বিশ্ববাসীর নীরবতার তীব্র সমালোচনা করে জয়নাব আহ্বান জানান, ইসরায়েলের প্রতিটি অপরাধ, রক্তপাত ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের হিসাব যেন বিশ্বমঞ্চে নথিবদ্ধ করা হয় এবং প্রতিটি মঞ্চে এর বিরুদ্ধে কথা বলা হয়।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ