বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
কওমী টাইমস

চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে কামান ও বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ; বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে নিচু দিয়ে উড়েছে ইসরায়েলি ড্রোন।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, বাড়িঘরে আগুন ও বিস্ফোরণ



দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, বাড়িঘরে আগুন ও বিস্ফোরণ

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা ও তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদ সংস্থা। এসব হামলার মধ্যে কামান ও বিমান হামলা, বিস্ফোরণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। একই সময়ে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর ওপর দিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন নিচু দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এসব হামলার ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বুধবার আরও বেড়েছে। লেবাননের সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় কামান ও বিমান হামলা, বিস্ফোরণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনকে নিচু দিয়ে উড়তে দেখা যায়।

গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে লেবাননের পুরো ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের শর্ত রাখা হয়েছিল। তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

লেবানিজ নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো দক্ষিণ বৈরুতের উপশহরগুলোর ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ছিল।

দক্ষিণ লেবাননের টায়র জেলার দক্ষিণে অবস্থিত মানসুরি শহরের আকাশে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ইসরায়েলি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে একটি মেরকাভা ট্যাংক শহরটির দিকে বেশ কয়েকটি গোলা নিক্ষেপ করে।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী বেইত আল-সায়াদ শহরে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং টায়র জেলার মাজদাল জৌন শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিন্ট জেবেইল জেলায় সারবিন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলাকালে শহরটির উপকণ্ঠে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, হাদাথা শহরের উপকণ্ঠে ভোরের দিকে থেমে থেমে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ করা হয়।

এদিকে মারজেয়ুন জেলায় ইসরায়েলি বিমান রাতে কানতারা শহরে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদ সংস্থা।

লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের বিরুদ্ধে এসব হামলা ও সামরিক তৎপরতাকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্রাসন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লেবাননের কয়েকটি এলাকা দখলে রাখা এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সময় দেশটির ভূখণ্ডের ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর অনুপ্রবেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩০৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের তথ্য।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে দখলে রেখেছে। আবার কিছু এলাকা ২০২৩-২৪ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান সামরিক অভিযানের সময়ও লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয় : ইসরায়েল হামলা লেবানন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, বাড়িঘরে আগুন ও বিস্ফোরণ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা ও তৎপরতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদ সংস্থা। এসব হামলার মধ্যে কামান ও বিমান হামলা, বিস্ফোরণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। একই সময়ে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর ওপর দিয়ে ইসরায়েলি ড্রোন নিচু দিয়ে উড়তে দেখা গেছে। গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও এসব হামলার ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তৎপরতা বুধবার আরও বেড়েছে। লেবাননের সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকায় কামান ও বিমান হামলা, বিস্ফোরণ এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোর আকাশে ইসরায়েলি ড্রোনকে নিচু দিয়ে উড়তে দেখা যায়।

গত ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে লেবাননের পুরো ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের শর্ত রাখা হয়েছিল। তবে চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

লেবানিজ নিউজ এজেন্সি জানায়, ইসরায়েলি ড্রোনগুলো দক্ষিণ বৈরুতের উপশহরগুলোর ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় উড়ছিল।

দক্ষিণ লেবাননের টায়র জেলার দক্ষিণে অবস্থিত মানসুরি শহরের আকাশে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ইসরায়েলি ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে একটি মেরকাভা ট্যাংক শহরটির দিকে বেশ কয়েকটি গোলা নিক্ষেপ করে।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী বেইত আল-সায়াদ শহরে কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং টায়র জেলার মাজদাল জৌন শহরে বোমা হামলা চালিয়েছে বলে সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিন্ট জেবেইল জেলায় সারবিন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলাকালে শহরটির উপকণ্ঠে বোমা হামলার ঘটনাও ঘটে। একই সূত্রে বলা হয়েছে, হাদাথা শহরের উপকণ্ঠে ভোরের দিকে থেমে থেমে ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ করা হয়।

এদিকে মারজেয়ুন জেলায় ইসরায়েলি বিমান রাতে কানতারা শহরে হামলা চালায় বলে জানিয়েছে লেবাননের সংবাদ সংস্থা।

লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের বিরুদ্ধে এসব হামলা ও সামরিক তৎপরতাকে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি আগ্রাসন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি লেবাননের কয়েকটি এলাকা দখলে রাখা এবং সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সময় দেশটির ভূখণ্ডের ১০ কিলোমিটারেরও বেশি ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর অনুপ্রবেশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৫০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩০৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষের তথ্য।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা ইসরায়েল কয়েক দশক ধরে দখলে রেখেছে। আবার কিছু এলাকা ২০২৩-২৪ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান সামরিক অভিযানের সময়ও লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ