বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান।

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি পণ্যে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, স্বাগত জানাল ৮ মুসলিম দেশ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবৈধ ইসরায়েলি বসতি পণ্যে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, স্বাগত জানাল ৮ মুসলিম দেশ

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে যৌথভাবে স্বাগত জানিয়েছে আটটি প্রধান মুসলিম দেশ। বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অবস্থান ঘোষণা করে। দেশগুলো আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশও যুক্তরাজ্যের মতো কঠোর পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ হবে।

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল কর্তৃক অব্যাহত অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিযুক্ত এলাকা থেকে আসা পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা জারির পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন ও অভিবাদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর আটটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের সংহতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, 'আমরা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করছি যে, যুক্তরাজ্যের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করবে। একই সাথে অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত বা সাহায্যকারী সংস্থা ও ব্যক্তিবাচক সত্তাকে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এটি বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।'

এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ব্রিটেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের সব ধরণের আমদানি নিষিদ্ধ করবে। একই সাথে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে বসতি সম্প্রসারণে যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থা বা ব্যক্তি সহায়তা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের এই যুগান্তকারী আইনটি আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে রূপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আট দেশের এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক জোট যুক্তরাজ্যের উদ্যোগের পাশাপাশি কানাডা এবং ইউরোপের ১০টি দেশের যৌথ বিবৃতিকেও সাধুবাদ জানিয়েছে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—এই ১০টি ইউরোপীয় দেশ অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা জাতীয় ও আঞ্চলিক কার্যপ্রণালীর অধীনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নিপীড়ন ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। আট দেশের যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য সকল রাষ্ট্রকেও একই নীতি অনুসরণের আকুল আহ্বান জানানো হয়।

মুসলিম বিশ্বের মন্ত্রীরা জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের একাধিক সিকিউরিটি কাউন্সিল প্রস্তাবনা এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রদত্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক মতামতের সাথে এই সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। ফিলিস্তিনের নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানা ও জনতাত্ত্বিক কাঠামো জোরপূর্বক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরায়েল যেসব বেআইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাজায় চরম মানবিক সংকট নিরসন, দ্রুত পুনর্গঠন নিশ্চিতকরণ এবং স্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'গাজা সংঘাত নিরসনে ব্যাপক পরিকল্পনা'-র পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। পরিশেষে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনরুল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হলো ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের পূর্বের সীমানা মেনে পূর্ব জেরুজালেমকে (আল-কুদস) স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

বিষয় : ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ইন্দোনেশিয়া

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবৈধ ইসরায়েলি বসতি পণ্যে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, স্বাগত জানাল ৮ মুসলিম দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তকে যৌথভাবে স্বাগত জানিয়েছে আটটি প্রধান মুসলিম দেশ। বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অবস্থান ঘোষণা করে। দেশগুলো আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বের অন্যান্য দেশও যুক্তরাজ্যের মতো কঠোর পদক্ষেপে উদ্বুদ্ধ হবে।

আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নীতিমালাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল কর্তৃক অব্যাহত অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় অবৈধ ইসরায়েলি বসতিযুক্ত এলাকা থেকে আসা পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা জারির পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন ও অভিবাদন জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুসলিম উম্মাহর আটটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জাকার্তায় ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়া, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের সংহতি প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেন, 'আমরা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করছি যে, যুক্তরাজ্যের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অনুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করবে। একই সাথে অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত বা সাহায্যকারী সংস্থা ও ব্যক্তিবাচক সত্তাকে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে এটি বিশ্বব্যাপী একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।'

এর আগে গত মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট ঘোষণা দেন যে, ব্রিটেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের সব ধরণের আমদানি নিষিদ্ধ করবে। একই সাথে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দখল করে বসতি সম্প্রসারণে যেসব সেবা প্রদানকারী সংস্থা বা ব্যক্তি সহায়তা দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যুক্তরাজ্যের এই যুগান্তকারী আইনটি আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে রূপ নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আট দেশের এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক জোট যুক্তরাজ্যের উদ্যোগের পাশাপাশি কানাডা এবং ইউরোপের ১০টি দেশের যৌথ বিবৃতিকেও সাধুবাদ জানিয়েছে। ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন—এই ১০টি ইউরোপীয় দেশ অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তারা জাতীয় ও আঞ্চলিক কার্যপ্রণালীর অধীনে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা নিপীড়ন ও ভূমি দখলের বিরুদ্ধে সক্রিয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। আট দেশের যৌথ বিবৃতিতে এই পদক্ষেপে সাড়া দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য সকল রাষ্ট্রকেও একই নীতি অনুসরণের আকুল আহ্বান জানানো হয়।

মুসলিম বিশ্বের মন্ত্রীরা জোর দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের একাধিক সিকিউরিটি কাউন্সিল প্রস্তাবনা এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রদত্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) ঐতিহাসিক পরামর্শমূলক মতামতের সাথে এই সিদ্ধান্তগুলো পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। ফিলিস্তিনের নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানা ও জনতাত্ত্বিক কাঠামো জোরপূর্বক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইসরায়েল যেসব বেআইনি পদক্ষেপ নিয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাজায় চরম মানবিক সংকট নিরসন, দ্রুত পুনর্গঠন নিশ্চিতকরণ এবং স্থায়ী শান্তির ভিত্তি স্থাপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের 'গাজা সংঘাত নিরসনে ব্যাপক পরিকল্পনা'-র পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি। পরিশেষে আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পুনরুল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ হলো ১৯৬৭ সালের ৪ জুনের পূর্বের সীমানা মেনে পূর্ব জেরুজালেমকে (আল-কুদস) স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ