বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কওমী টাইমস

ইসরাইলি বর্ণবাদী শাসনের অধীনে ফিলিস্তিনিদের প্রাত্যহিক জীবন ও অধিকার কেড়ে নেওয়ার পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালনা করা হচ্ছে—বি’তসেলেমের সর্বশেষ প্রতিবেদন।

ফিলিস্তিনিদের প্রাত্যহিক জীবন ও অধিকার ধ্বংসের মুখে, ইসরাইলের উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনিদের প্রাত্যহিক জীবন ও অধিকার ধ্বংসের মুখে, ইসরাইলের উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। সংস্থাটির মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করে ইহুদি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ ও পরিবেশ সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকার সংগঠন ‘বি’তসেলেম’ (B'Tselem) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর ও তথ্যবহুল প্রতিবেদনে এ বিচ্ছিরি বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটির নতুন পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও সেনা সদস্যদের ধারাবাহিক ও সংগঠিত হামলা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, বরং ইসরাইলি সরকারের সরাসরি মদতপুষ্ট এক সর্বাত্মক ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনারই অংশ।

‘দ্য এলিমিনেশন প্রজেক্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বি’তসেলেম উল্লেখ করে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসরাইল তাদের আগ্রাসনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য কার্যক্রম—যেমন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পৌর সেবা গ্রহণ করা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, নিজেদের কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা কিংবা একটু অবকাশ যাপনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে ধ্বংসের মুখোমুখি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, পশ্চিম তীরের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কেবল সাময়িক কোনো সংকট বা বিচ্ছিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

বি’তসেলেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি মূলত ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব বিলোপ ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার একটি সুস্পষ্ট এবং ধারাবাহিক পর্যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হচ্ছে ইসরাইলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার (অ্যাপার্থেইড) অধীনে। এটি এমন একটি চরমপন্থী বসতি-উপনিবেশবাদী দর্শন দ্বারা পরিচালিত, যার মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার, সম্পদ ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে চিরতরে বঞ্চিত করা, তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা এবং সমগ্র এলাকায় ইহুদি-ইসরাইলি বর্ণবাদী সার্বভৌমত্ব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা।

বিষয় : ইসরাইল ফিলিস্তিনি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফিলিস্তিনিদের প্রাত্যহিক জীবন ও অধিকার ধ্বংসের মুখে, ইসরাইলের উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র নিন্দা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরাইল। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি করেছে ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেম। সংস্থাটির মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করে ইহুদি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ ও পরিবেশ সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করার জন্য সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মানবাধিকার সংগঠন ‘বি’তসেলেম’ (B'Tselem) প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর ও তথ্যবহুল প্রতিবেদনে এ বিচ্ছিরি বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে।

সংগঠনটির নতুন পর্যালোচনায় সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসরাইলি অবৈধ বসতি স্থাপনকারী ও সেনা সদস্যদের ধারাবাহিক ও সংগঠিত হামলা ফিলিস্তিনিদের জীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়, বরং ইসরাইলি সরকারের সরাসরি মদতপুষ্ট এক সর্বাত্মক ও রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনারই অংশ।

‘দ্য এলিমিনেশন প্রজেক্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বি’তসেলেম উল্লেখ করে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসরাইল তাদের আগ্রাসনের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য কার্যক্রম—যেমন স্বাভাবিকভাবে কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পৌর সেবা গ্রহণ করা, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, নিজেদের কৃষিজমিতে চাষাবাদ করা কিংবা একটু অবকাশ যাপনের মতো মৌলিক বিষয়গুলোকে ধ্বংসের মুখোমুখি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, পশ্চিম তীরের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কেবল সাময়িক কোনো সংকট বা বিচ্ছিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

বি’তসেলেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এটি মূলত ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব বিলোপ ও উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার একটি সুস্পষ্ট এবং ধারাবাহিক পর্যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করা হচ্ছে ইসরাইলি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার (অ্যাপার্থেইড) অধীনে। এটি এমন একটি চরমপন্থী বসতি-উপনিবেশবাদী দর্শন দ্বারা পরিচালিত, যার মূল লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার, সম্পদ ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে চিরতরে বঞ্চিত করা, তাদের নিজস্ব ভূমি থেকে বাস্তুচ্যুত করা এবং সমগ্র এলাকায় ইহুদি-ইসরাইলি বর্ণবাদী সার্বভৌমত্ব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ
সম্পাদক ও প্রকাশক : আহমাদ আওয়াহ