সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ নগরীতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত এবং অপর দু’জন আহত হয়েছেন। দেশটির সিভিল ডিফেন্স এবং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি মাসে সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের হামলা জোরদারের পর এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা, যা এই অঞ্চলের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর তায়েফে হুথি বিদ্রোহীদের উৎক্ষেপণ করা একটি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন প্রতিহত করেছে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে ড্রোনটি আকাশেই ধ্বংস করার সময় এর ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে এক ইয়েমেনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দু'জন অসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা অসামরিক এলাকা তায়েফকে লক্ষ্য করে ড্রোনটি উৎক্ষেপণ করেছিল। ড্রোন প্রতিহত করার প্রক্রিয়ায় ইন্টারসেপ্টরের আঘাতে ড্রোনটি বিস্ফোরিত হলে এর জরুরি টুকরো পড়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। আহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হলেও তাদের পরিচয় বা বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবের অসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রতিবারই অধিকাংশ হামলা সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করে আসছে রিয়াদ। তাসত্ত্বেও এবারের ঘটনায় একজন নিরীহ প্রবাসীর প্রাণহানি অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ মেয়াদি এই সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্যাট্রিয়ট মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। প্রতিনিয়ত ড্রোন ও রকেট হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে রিয়াদের আকাশ সুরক্ষা খাতের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের অসামরিক নাগরিক ও ভূখণ্ড রক্ষায় বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জরুরি ভিত্তিতে পুনর্গঠন ও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ। বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মিসাইল প্রতিরক্ষা মজুত বাড়াতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর কাছে প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব। কওমি টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরীহ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।
মতামত