বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

মৌসুমেও খালি হাতে ফিরছেন খলিলের সাঈর এলাকার কৃষকেরা; সেনাবাহিনী দাবি করছে সামরিক নিষিদ্ধ এলাকা

ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বাধায় শতাধিক ফিলিস্তিনি কৃষক বঞ্চিত নিজেদের জমি থেকে


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বাধায় শতাধিক ফিলিস্তিনি কৃষক বঞ্চিত নিজেদের জমি থেকে

পশ্চিম তীরের খলিলের উত্তরের সাঈর গ্রামে বৃহস্পতিবার শতাধিক ফিলিস্তিনি কৃষককে নিজেদের জমিতে প্রবেশ ও জলপাই সংগ্রহে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা ও বসতি স্থাপনকারীরা। দাবি করা হয়েছে, এলাকা ‘সামরিক নিষিদ্ধ অঞ্চল’।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা একযোগে ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাঈর এলাকার প্রায় ৫০০ দোনম (প্রায় ৫ লক্ষ বর্গমিটার) জমিতে প্রবেশ করতে দেয়নি। ওই জমিগুলিতে হাজারো প্রাচীন জলপাইগাছ রয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের একমাত্র জীবিকার উৎস।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ তুরওয়া জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে তাদের জমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই মর্মে যে, জমিগুলো বসতি এলাকার কাছাকাছি। তার ভাষায়, “এই এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ জলপাইগাছ হয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো ফল চুরি করেছে বসতি স্থাপনকারীরা।”

তুরওয়া অভিযোগ করেন, “সেনাদের পাহারায় বসতি স্থাপনকারীরা আমাদের চোখের সামনেই ফসল লুট করছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না—এ এক অসহনীয় বেদনা।”

চলতি অক্টোবরের শুরুতে বসতি স্থাপনকারীরা সাঈর এলাকার ২০০টিরও বেশি গাছ কেটে ফেলে এবং গত মাসে ডজন ডজন দোনম জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মুইয়্যদ শাবান জানান, শুধু চলতি অক্টোবর মাসেই পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ মৌসুমে সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা মোট ১৫৮টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ঘটিয়েছে সেনারা, আর বাকি ১৪১টি ঘটিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা—যেখানে রয়েছে শারীরিক হামলা, গ্রেপ্তার, জমিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ও সরাসরি গুলি ছোড়ার ঘটনা।

এই হামলাগুলো বৃহত্তর ইসরায়েলি দমন অভিযানের অংশ, যার ফলে গত দুই বছরে পশ্চিম তীরে ১,০৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১০,০০০ জন এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যাদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১,৬০০ শিশু।

বিষয় : ফিলিস্তিন

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বাধায় শতাধিক ফিলিস্তিনি কৃষক বঞ্চিত নিজেদের জমি থেকে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৫

featured Image

পশ্চিম তীরের খলিলের উত্তরের সাঈর গ্রামে বৃহস্পতিবার শতাধিক ফিলিস্তিনি কৃষককে নিজেদের জমিতে প্রবেশ ও জলপাই সংগ্রহে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা ও বসতি স্থাপনকারীরা। দাবি করা হয়েছে, এলাকা ‘সামরিক নিষিদ্ধ অঞ্চল’।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা ও সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীরা একযোগে ফিলিস্তিনি কৃষকদের সাঈর এলাকার প্রায় ৫০০ দোনম (প্রায় ৫ লক্ষ বর্গমিটার) জমিতে প্রবেশ করতে দেয়নি। ওই জমিগুলিতে হাজারো প্রাচীন জলপাইগাছ রয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের একমাত্র জীবিকার উৎস।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ তুরওয়া জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে তাদের জমিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এই মর্মে যে, জমিগুলো বসতি এলাকার কাছাকাছি। তার ভাষায়, “এই এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ জলপাইগাছ হয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো ফল চুরি করেছে বসতি স্থাপনকারীরা।”

তুরওয়া অভিযোগ করেন, “সেনাদের পাহারায় বসতি স্থাপনকারীরা আমাদের চোখের সামনেই ফসল লুট করছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না—এ এক অসহনীয় বেদনা।”

চলতি অক্টোবরের শুরুতে বসতি স্থাপনকারীরা সাঈর এলাকার ২০০টিরও বেশি গাছ কেটে ফেলে এবং গত মাসে ডজন ডজন দোনম জমি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মুইয়্যদ শাবান জানান, শুধু চলতি অক্টোবর মাসেই পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহ মৌসুমে সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা মোট ১৫৮টি হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ঘটিয়েছে সেনারা, আর বাকি ১৪১টি ঘটিয়েছে বসতি স্থাপনকারীরা—যেখানে রয়েছে শারীরিক হামলা, গ্রেপ্তার, জমিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা ও সরাসরি গুলি ছোড়ার ঘটনা।

এই হামলাগুলো বৃহত্তর ইসরায়েলি দমন অভিযানের অংশ, যার ফলে গত দুই বছরে পশ্চিম তীরে ১,০৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১০,০০০ জন এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যাদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১,৬০০ শিশু।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত