বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

শেষবারের মতো মৃত বোনের মুখ দেখলেন বাংলাদেশি ভাই

কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে মানবতার জয়: ভারতীয় মৃত বোনের মুখ দেখলেন বাংলাদেশি ভাই, সুযোগ করে দিল বিজিবি–বিএসএফ


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে মানবতার জয়: ভারতীয় মৃত বোনের মুখ দেখলেন বাংলাদেশি ভাই, সুযোগ করে দিল বিজিবি–বিএসএফ

মানবতার কাছে আবারও হার মানলো সীমান্তের কাঁটাতার। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে এক ভারতীয় নারীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে পেলেন তাঁর বাংলাদেশে বসবাসরত স্বজনরা। শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যতিক্রমী সহযোগিতায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে সীমান্ত মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) আবারও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবতার কাছে হার মানলো দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় কাঁটাতারের বেড়া। সীমান্তের দুই দেশের মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারতীয় এক নারীর লাশ তার বাংলাদেশি স্বজনদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বাহিনীটি।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস-এর কাছে শূন্য লাইনে

বিজিবি জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার দুইছতরবিঘি গ্রামের বাসিন্দা ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর মরহুমার বাংলাদেশে বসবাসরত ভাই আতাউর রহমান (৬০) এবং তার পরিবারের সদস্যরা লাশ দেখার জন্য বিজিবির কাছে আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতিপক্ষ বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফের সম্মতিতে শুক্রবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস-এর কাছে শূন্য লাইনে বিজিবি–বিএসএফ উভয় বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

স্বজনদের শেষবারের মতো ফনি বেগমের মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য বিজিবির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

মৃতের ভাই আতাউর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে বোনের সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা করা সম্ভব হয়নি। আইনি জটিলতার কারণে বোন অসুস্থ থাকাকালে দেখতে যেতে পারিনি। তবে মানবতার দৃষ্টান্ত হিসেবে জীবিত দেখতে না পারলেও মৃত বোনের মুখখানা একবার দেখতে পেয়ে আমি শান্তি পেয়েছি।”

এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন,

“বিজিবি সব সময় মানবিক কর্মকাণ্ডে সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল। যেকোনো মানবিক কাজে বিজিবি মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে ভূমিকা রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, গত মাসেও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তে একই ধরনের মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

বিষয় : বাংলাদেশ ভারত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


কাঁটাতারের বাধা পেরিয়ে মানবতার জয়: ভারতীয় মৃত বোনের মুখ দেখলেন বাংলাদেশি ভাই, সুযোগ করে দিল বিজিবি–বিএসএফ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

মানবতার কাছে আবারও হার মানলো সীমান্তের কাঁটাতার। বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানবিক উদ্যোগে এক ভারতীয় নারীর মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে পেলেন তাঁর বাংলাদেশে বসবাসরত স্বজনরা। শিবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যতিক্রমী সহযোগিতায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে সীমান্ত মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) আবারও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। মানবতার কাছে হার মানলো দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহায়তায় কাঁটাতারের বেড়া। সীমান্তের দুই দেশের মানুষের আবেগ ও সম্পর্কের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ভারতীয় এক নারীর লাশ তার বাংলাদেশি স্বজনদের শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে বাহিনীটি।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস-এর কাছে শূন্য লাইনে

বিজিবি জানায়, গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের মালদা জেলার কালিয়াচক থানার দুইছতরবিঘি গ্রামের বাসিন্দা ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর মরহুমার বাংলাদেশে বসবাসরত ভাই আতাউর রহমান (৬০) এবং তার পরিবারের সদস্যরা লাশ দেখার জন্য বিজিবির কাছে আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে ভারতের প্রতিপক্ষ বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করা হয়। বিএসএফের সম্মতিতে শুক্রবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস-এর কাছে শূন্য লাইনে বিজিবি–বিএসএফ উভয় বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ দেখার ব্যবস্থা করা হয়।

স্বজনদের শেষবারের মতো ফনি বেগমের মুখ দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় তারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই মানবিক উদ্যোগের জন্য বিজিবির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

মৃতের ভাই আতাউর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কারণে বোনের সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখা করা সম্ভব হয়নি। আইনি জটিলতার কারণে বোন অসুস্থ থাকাকালে দেখতে যেতে পারিনি। তবে মানবতার দৃষ্টান্ত হিসেবে জীবিত দেখতে না পারলেও মৃত বোনের মুখখানা একবার দেখতে পেয়ে আমি শান্তি পেয়েছি।”

এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া বলেন,

“বিজিবি সব সময় মানবিক কর্মকাণ্ডে সংবেদনশীল ও সহানুভূতিশীল। যেকোনো মানবিক কাজে বিজিবি মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে ভূমিকা রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।”

উল্লেখ্য, গত মাসেও জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার আজমতপুর সীমান্তে একই ধরনের মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত