ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরে আসাম থেকে আগত কয়েকটি পরিবারের বিরুদ্ধে “বাংলাদেশি” ও “রোহিঙ্গা” তকমা লাগানোর ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মেয়র সুষমা খারকওয়াল এলাকাবাসীকে ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। তবে কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন—এসব পরিবার সম্পূর্ণ বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লখনৌর বাহাদুরপুর এলাকার শঙ্করপুরভায় বসবাসরত আসামি পরিবারগুলোকে “অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা” বলে অভিযোগ তোলেন লখনৌর মেয়র সুষমা খারকওয়াল। বৃহস্পতিবার অভিযানে গিয়ে তিনি দাবি করেন—বাসিন্দারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, এবং সেখান থেকে ২৫টি অবৈধ তেলের ট্যাংকার ও দুটি টাটা ম্যাজিক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে কংগ্রেস। দলের জাতীয় সম্পাদক ড. শাহজাদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সকল বাসিন্দার কাছেই আছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি, এনআরসি সম্পর্কিত নথি—যা নিশ্চিতভাবে তাদের আসামের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করে। তাঁর ভাষায়, “আসামের মানুষ ভারতেরই নাগরিক—তাদের ভাষার কারণে বিদেশি বলা সম্পূর্ণ দৌরাত্ম্য।”
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ড. শাহজাদ আলম জানান, বরপেটা ও গোলপাড়া জেলার নথি-সহ পূর্ণাঙ্গ পরিচয়পত্র বাসিন্দারা উপস্থাপন করেছেন। তাদের ওপর জোর করে “বাংলাদেশি” তকমা চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা গণমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ১৮ বছর ধরে লখনৌতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করা ইমতিয়াজ বলেন, অভিযানের সময় পুলিশ তার তালা ভেঙে মালপত্র তছনছ করে এবং জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হাতগাড়িটি জব্দ করে। আরেকজন, আলিমউদ্দিন, বলেন—১৫ বছর ধরে ভাড়া দেওয়া ব্যক্তিগত প্লটে বসবাস করছেন; তবুও তাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের রাজ্য উপ-সভাপতি দীনেশ সিং দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের “সকল জেলায় অনুপ্রবেশকারী আটক কেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণাকে বাস্তবায়নের চাপে মেয়র এমন কর্মকাণ্ড করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন—ভাষাভিত্তিক এ ধরনের তকমা ছড়িয়ে পড়লে আন্তঃসম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে পারে, যার দায় বিজেপিরই।
বিষয় : ভারত আসাম ইসলামফোবিয়া

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনৌ শহরে আসাম থেকে আগত কয়েকটি পরিবারের বিরুদ্ধে “বাংলাদেশি” ও “রোহিঙ্গা” তকমা লাগানোর ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মেয়র সুষমা খারকওয়াল এলাকাবাসীকে ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। তবে কংগ্রেস নেতারা দাবি করেছেন—এসব পরিবার সম্পূর্ণ বৈধ ভারতীয় নাগরিক এবং অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লখনৌর বাহাদুরপুর এলাকার শঙ্করপুরভায় বসবাসরত আসামি পরিবারগুলোকে “অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা” বলে অভিযোগ তোলেন লখনৌর মেয়র সুষমা খারকওয়াল। বৃহস্পতিবার অভিযানে গিয়ে তিনি দাবি করেন—বাসিন্দারা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, এবং সেখান থেকে ২৫টি অবৈধ তেলের ট্যাংকার ও দুটি টাটা ম্যাজিক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন এবং ১৫ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে কংগ্রেস। দলের জাতীয় সম্পাদক ড. শাহজাদ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, সকল বাসিন্দার কাছেই আছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি, এনআরসি সম্পর্কিত নথি—যা নিশ্চিতভাবে তাদের আসামের নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করে। তাঁর ভাষায়, “আসামের মানুষ ভারতেরই নাগরিক—তাদের ভাষার কারণে বিদেশি বলা সম্পূর্ণ দৌরাত্ম্য।”
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি ড. শাহজাদ আলম জানান, বরপেটা ও গোলপাড়া জেলার নথি-সহ পূর্ণাঙ্গ পরিচয়পত্র বাসিন্দারা উপস্থাপন করেছেন। তাদের ওপর জোর করে “বাংলাদেশি” তকমা চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা গণমাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ১৮ বছর ধরে লখনৌতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করা ইমতিয়াজ বলেন, অভিযানের সময় পুলিশ তার তালা ভেঙে মালপত্র তছনছ করে এবং জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হাতগাড়িটি জব্দ করে। আরেকজন, আলিমউদ্দিন, বলেন—১৫ বছর ধরে ভাড়া দেওয়া ব্যক্তিগত প্লটে বসবাস করছেন; তবুও তাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের রাজ্য উপ-সভাপতি দীনেশ সিং দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের “সকল জেলায় অনুপ্রবেশকারী আটক কেন্দ্র” স্থাপনের ঘোষণাকে বাস্তবায়নের চাপে মেয়র এমন কর্মকাণ্ড করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন—ভাষাভিত্তিক এ ধরনের তকমা ছড়িয়ে পড়লে আন্তঃসম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে পারে, যার দায় বিজেপিরই।

আপনার মতামত লিখুন