বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কওমী টাইমস

শহীদি মর্যাদা কীভাবে মানুষের হৃদয়ে অমরত্ব এনে দেয়

জানাজাই বলে দেয় সফলতা: শহীদি মৃত্যু, জনভালোবাসা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক শিক্ষা


কওমী টাইমস ডেস্ক
কওমী টাইমস ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

জানাজাই বলে দেয় সফলতা: শহীদি মৃত্যু, জনভালোবাসা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক শিক্ষা

একজন মানুষের মৃত্যু নয়, তার জানাজাই বলে দেয় তিনি কতটা সফল ছিলেন—এমন মন্তব্য করে শহীদি মৃত্যু, জনভালোবাসা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা, কৃত্রিম জনপ্রিয়তা ও প্রকৃত ভালোবাসার পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন—“কেমন মরণ মরতে চান?” তিনি বলেন, একটি জানাজাই বলে দেয় মানুষটি কতটা সফল ছিলেন এবং একটি জীবন শহীদি মৃত্যুতে কতটা মহিমান্বিত হয়, তা শহীদের মর্যাদা ও মানুষের আবেগ থেকেই বোঝা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য তরুণ বয়সে শাহাদাতবরণকারী শরিফ ওসমান হাদি যিনি ঐঋ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, জাতীয় নেতা কিংবা ক্ষমতাবান কোনো পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন না। তবুও তার শাহাদাতে মানুষের ব্যাপক শোক, ভালোবাসা ও আবেগ প্রমাণ করে—তিনি দেশ ও জনগণের বাস্তবিক কল্যাণচিন্তা এবং সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে বিপ্লবী কর্মতৎপরতায় যুক্ত ছিলেন এবং বীরের মতো শহীদি মৃত্যু বরণ করেছেন।

মাওলানা নদভী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে আসমানে তা প্রচার করার নির্দেশ দেন। এর প্রভাব পৃথিবীতে পড়ে এবং মানুষের হৃদয়ে সেই বান্দার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, শত বছর ধরে রাষ্ট্র, সরকার ও সংগঠন মিলে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েও আন্তরিক ভালোবাসা ও নিখাদ মহব্বত তৈরি করা যায় না। কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া সম্মান ও শ্রদ্ধা বৃষ্টির পানিতে পাথরের ওপর জমে থাকা ধুলোর মতো ধুয়ে যায়। গত শতাব্দীজুড়ে বিশ্বজুড়ে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

বাংলাদেশের শাসনকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি তারা আল্লাহভীরু, স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক মানুষের ভালোবাসা পেতে চান, তবে শহীদ জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদির মতো আদর্শ ও কর্মপন্থা অনুসরণ করতে হবে—যার মাধ্যমে তারা দৃষ্টান্তমূলক জানাজা ও জনভালোবাসা অর্জন করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গণমানুষের পক্ষে রাজনীতি করলেই মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের মনে রাখা উচিত—মৃত্যুর দিনটি কেমন হবে এবং মৃত্যুর পর তাদের জীবন ও শাসনামল সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে। তারা কেবল মরে যাবেন, নাকি মরেও অমর হয়ে থাকবেন—এই সিদ্ধান্ত তাদের কর্ম ও নীতির ওপরই নির্ভর করে।

বিষয় : মতামত

আপনার মতামত লিখুন

কওমী টাইমস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


জানাজাই বলে দেয় সফলতা: শহীদি মৃত্যু, জনভালোবাসা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক শিক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

একজন মানুষের মৃত্যু নয়, তার জানাজাই বলে দেয় তিনি কতটা সফল ছিলেন—এমন মন্তব্য করে শহীদি মৃত্যু, জনভালোবাসা ও রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা, কৃত্রিম জনপ্রিয়তা ও প্রকৃত ভালোবাসার পার্থক্য ব্যাখ্যা করেন।

বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী তার ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন—“কেমন মরণ মরতে চান?” তিনি বলেন, একটি জানাজাই বলে দেয় মানুষটি কতটা সফল ছিলেন এবং একটি জীবন শহীদি মৃত্যুতে কতটা মহিমান্বিত হয়, তা শহীদের মর্যাদা ও মানুষের আবেগ থেকেই বোঝা যায়।

তিনি উল্লেখ করেন, সদ্য তরুণ বয়সে শাহাদাতবরণকারী শরিফ ওসমান হাদি যিনি ঐঋ রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, জাতীয় নেতা কিংবা ক্ষমতাবান কোনো পরিচয়ের অধিকারী ছিলেন না। তবুও তার শাহাদাতে মানুষের ব্যাপক শোক, ভালোবাসা ও আবেগ প্রমাণ করে—তিনি দেশ ও জনগণের বাস্তবিক কল্যাণচিন্তা এবং সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে বিপ্লবী কর্মতৎপরতায় যুক্ত ছিলেন এবং বীরের মতো শহীদি মৃত্যু বরণ করেছেন।

মাওলানা নদভী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে আসমানে তা প্রচার করার নির্দেশ দেন। এর প্রভাব পৃথিবীতে পড়ে এবং মানুষের হৃদয়ে সেই বান্দার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও বলেন, শত বছর ধরে রাষ্ট্র, সরকার ও সংগঠন মিলে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েও আন্তরিক ভালোবাসা ও নিখাদ মহব্বত তৈরি করা যায় না। কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া সম্মান ও শ্রদ্ধা বৃষ্টির পানিতে পাথরের ওপর জমে থাকা ধুলোর মতো ধুয়ে যায়। গত শতাব্দীজুড়ে বিশ্বজুড়ে এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

বাংলাদেশের শাসনকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যদি তারা আল্লাহভীরু, স্বাধীনচেতা ও দেশপ্রেমিক মানুষের ভালোবাসা পেতে চান, তবে শহীদ জিয়া ও শহীদ ওসমান হাদির মতো আদর্শ ও কর্মপন্থা অনুসরণ করতে হবে—যার মাধ্যমে তারা দৃষ্টান্তমূলক জানাজা ও জনভালোবাসা অর্জন করেছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের গণমানুষের পক্ষে রাজনীতি করলেই মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, তাদের মনে রাখা উচিত—মৃত্যুর দিনটি কেমন হবে এবং মৃত্যুর পর তাদের জীবন ও শাসনামল সম্পর্কে জনগণের প্রতিক্রিয়া কী হবে। তারা কেবল মরে যাবেন, নাকি মরেও অমর হয়ে থাকবেন—এই সিদ্ধান্ত তাদের কর্ম ও নীতির ওপরই নির্ভর করে।


কওমী টাইমস

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মুস্তাইন বিল্লাহ
কপিরাইট © ২০২৬ কওমী টাইমস । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত