ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার ধলাই জেলায় একটি মসজিদে হামলা ও অপবিত্র করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়কে ভীত-সন্ত্রস্ত করতে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, উগ্রবাদী স্লোগান সম্বলিত পতাকা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিপুরার ধলাই জেলার মনু-চওমনু রোডে অবস্থিত মাইনামা জামে মসজিদে গত ২৪ ডিসেম্বর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় মসজিদের ইমামসহ স্থানীয় মুসল্লিরা একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পানি সাগর এলাকায় গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ফিরে এসে তারা দেখতে পান মসজিদের নামাজের জায়গায় মদের বোতল পড়ে আছে। এছাড়া মসজিদের একটি অংশে আগুন ধরানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল, যা পরে নিভে যায়। তল্লাশি চালিয়ে সেখানে একটি হাতে লেখা চিরকুট এবং 'বজরং দল' ও 'জয় শ্রী রাম' লেখা একটি পতাকা পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত চিরকুটটিতে বাংলা ও ইংরেজিতে চরম উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, "এটিই প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা। আগামীতে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।" চিরকুটের নিচে বজরং দলের নাম উল্লেখ ছিল। ইমামের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দাঙ্গা বাধানোর একটি সুনিশ্চিত ছক।
ঘটনার পর মাইনামা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে চওমনু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি সচেতনভাবে এলাকাটির দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তারা আলামত হিসেবে পতাকা ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড তাদের সামাজিক বন্ধনে ফাটল ধরানোর চেষ্টা মাত্র। তারা অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয় : ভারত মসজিদ ইসলামফোবিয়া ত্রিপুরা

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার ধলাই জেলায় একটি মসজিদে হামলা ও অপবিত্র করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়কে ভীত-সন্ত্রস্ত করতে এবং এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মদের বোতল, উগ্রবাদী স্লোগান সম্বলিত পতাকা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।
ত্রিপুরার ধলাই জেলার মনু-চওমনু রোডে অবস্থিত মাইনামা জামে মসজিদে গত ২৪ ডিসেম্বর এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় মসজিদের ইমামসহ স্থানীয় মুসল্লিরা একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পানি সাগর এলাকায় গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ফিরে এসে তারা দেখতে পান মসজিদের নামাজের জায়গায় মদের বোতল পড়ে আছে। এছাড়া মসজিদের একটি অংশে আগুন ধরানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল, যা পরে নিভে যায়। তল্লাশি চালিয়ে সেখানে একটি হাতে লেখা চিরকুট এবং 'বজরং দল' ও 'জয় শ্রী রাম' লেখা একটি পতাকা পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত চিরকুটটিতে বাংলা ও ইংরেজিতে চরম উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, "এটিই প্রথম ও শেষ সতর্কবার্তা। আগামীতে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে।" চিরকুটের নিচে বজরং দলের নাম উল্লেখ ছিল। ইমামের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে দাঙ্গা বাধানোর একটি সুনিশ্চিত ছক।
ঘটনার পর মাইনামা মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে চওমনু থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীটি সচেতনভাবে এলাকাটির দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, তারা আলামত হিসেবে পতাকা ও চিরকুট উদ্ধার করেছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন। এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড তাদের সামাজিক বন্ধনে ফাটল ধরানোর চেষ্টা মাত্র। তারা অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন