বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ভারতের উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতারা ক্রিকেট পিচ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনা দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতের উজ্জয়িনীর ঋণমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাবীর নাথসহ বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ঘোষণা দিয়েছেন যে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দিলে তারা স্টেডিয়ামে ঢুকে পিচ ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাই বাংলাদেশি কোনো ক্রিকেটারকে ভারতের মাটিতে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সম্প্রতি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদী প্রচারণাও শুরু হয়েছে।
মূলত বাংলাদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস এবং ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীতে অমৃত মন্ডল নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ময়মনসিংহের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে র্যাব দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এগুলো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয় বরং আইনশৃঙ্খলার অবনতিজনিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় নীতি নয়।
অন্যদিকে, ভারতের ধর্মীয় নেতা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীসহ অনেকে এসব ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের অভ্যন্তরে প্রায়ই সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র দেখা গেলেও, সেগুলোকে আড়াল করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আইপিএলের মতো একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে জড়ানোর এই চেষ্টা ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সরকার বারবার নিশ্চিত করেছে যে, দেশে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। একটি বিশেষ মহলের উসকানিতে প্রচারিত এসব তথ্যের ভিত্তি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতাকে কেন্দ্র করে ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণ ঠেকাতে ভারতের উজ্জয়িনীর ধর্মীয় নেতারা ক্রিকেট পিচ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন। এই ঘটনা দুই দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতের উজ্জয়িনীর ঋণমুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মহাবীর নাথসহ বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ঘোষণা দিয়েছেন যে, মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলে খেলতে দিলে তারা স্টেডিয়ামে ঢুকে পিচ ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। তাদের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তাই বাংলাদেশি কোনো ক্রিকেটারকে ভারতের মাটিতে খেলতে দেওয়া উচিত নয়। সম্প্রতি কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মোস্তাফিজকে ৯.২০ কোটি রুপিতে দলে নেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদী প্রচারণাও শুরু হয়েছে।
মূলত বাংলাদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস এবং ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীতে অমৃত মন্ডল নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ময়মনসিংহের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে র্যাব দ্রুত গ্রেপ্তার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এগুলো কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা নয় বরং আইনশৃঙ্খলার অবনতিজনিত বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় নীতি নয়।
অন্যদিকে, ভারতের ধর্মীয় নেতা ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীসহ অনেকে এসব ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের অভ্যন্তরে প্রায়ই সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র দেখা গেলেও, সেগুলোকে আড়াল করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আইপিএলের মতো একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইস্যুতে জড়ানোর এই চেষ্টা ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ সরকার বারবার নিশ্চিত করেছে যে, দেশে সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন বদ্ধপরিকর। একটি বিশেষ মহলের উসকানিতে প্রচারিত এসব তথ্যের ভিত্তি নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে।

আপনার মতামত লিখুন