বিহারের জুয়েলারি দোকানগুলোতে হিজাব, বোরকা ও মুখঢাকা পোশাক পরা ক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে দেশের আইনের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসলামী সেন্টার অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মহল্লি। তিনি বলেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। এই প্রথম বিহারে এমন রাজ্যব্যাপী সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মহল্লি বলেন, বিষয়টি মূলত হিজাবকে কেন্দ্র করেই সামনে এসেছে, যা মুসলিম নারীদের জন্য একটি স্বীকৃত ধর্মীয় পোশাক।
তিনি বলেন, “সবাই জানে যে হিজাব মুসলিম নারীদের একটি ধর্মীয় অনুশীলন। আমাদের দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ধর্মচর্চার মৌলিক অধিকার দিয়েছে। সুতরাং কেউই এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাথা বা মুখ ঢাকার রীতি কেবল মুসলিম নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
মাওলানা খালিদ রশিদ বলেন, “আজও গ্রামাঞ্চলে বহু অমুসলিম নারী ঘোমটা বা অনুরূপ রীতি অনুসরণ করেন। এসব আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। কোনো কিছু যদি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত হয়, তাহলে আইন দিয়েও সেখানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কারও অধিকার নয়।”
মাস্ক ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থেই মাস্ক ব্যবহার করছে।
তার ভাষায়, “দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন। এ কারণে প্রবেশে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। আমার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের আইনের বিরোধী।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ড ফেডারেশন (AIGJF) ঘোষণা দেয়, হিজাব, বোরকা, স্কার্ফ, হেলমেট বা অনুরূপ কোনো কিছু দিয়ে মুখ ঢাকা থাকলে ক্রেতাদের জুয়েলারি শোরুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবলমাত্র মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হলে এবং যথাযথ মুখ শনাক্তকরণের পরই ক্রেতাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ফেডারেশন বুধবার জানায়, বিহারই দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহী মসজিদের কাছে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান মাওলানা খালিদ রশিদ।
তিনি বলেন, “তুর্কমান গেটের কাছে যা ঘটেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। বিশেষ করে তীব্র শীতের মধ্যে সেখানকার মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে সংবেদনশীল হতে হবে।”
তিনি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত একসঙ্গে বসে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা।”
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তুর্কমান গেট এলাকায় পৌর করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সহিংসতার ঘটনায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১১ জনে।
বিষয় : ভারত ইসলামফোবিয়া হিজাব

শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬
বিহারের জুয়েলারি দোকানগুলোতে হিজাব, বোরকা ও মুখঢাকা পোশাক পরা ক্রেতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে দেশের আইনের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসলামী সেন্টার অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মহল্লি। তিনি বলেন, এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। এই প্রথম বিহারে এমন রাজ্যব্যাপী সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।
বৃহস্পতিবার সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা খালিদ রশিদ ফারাঙ্গি মহল্লি বলেন, বিষয়টি মূলত হিজাবকে কেন্দ্র করেই সামনে এসেছে, যা মুসলিম নারীদের জন্য একটি স্বীকৃত ধর্মীয় পোশাক।
তিনি বলেন, “সবাই জানে যে হিজাব মুসলিম নারীদের একটি ধর্মীয় অনুশীলন। আমাদের দেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে ধর্মচর্চার মৌলিক অধিকার দিয়েছে। সুতরাং কেউই এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার ক্ষমতা রাখে না।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাথা বা মুখ ঢাকার রীতি কেবল মুসলিম নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
মাওলানা খালিদ রশিদ বলেন, “আজও গ্রামাঞ্চলে বহু অমুসলিম নারী ঘোমটা বা অনুরূপ রীতি অনুসরণ করেন। এসব আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। কোনো কিছু যদি সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত হয়, তাহলে আইন দিয়েও সেখানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কারও অধিকার নয়।”
মাস্ক ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থেই মাস্ক ব্যবহার করছে।
তার ভাষায়, “দূষণের মাত্রা বেড়ে চলেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করেন। এ কারণে প্রবেশে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। আমার মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের আইনের বিরোধী।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ড ফেডারেশন (AIGJF) ঘোষণা দেয়, হিজাব, বোরকা, স্কার্ফ, হেলমেট বা অনুরূপ কোনো কিছু দিয়ে মুখ ঢাকা থাকলে ক্রেতাদের জুয়েলারি শোরুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবলমাত্র মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হলে এবং যথাযথ মুখ শনাক্তকরণের পরই ক্রেতাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ফেডারেশন বুধবার জানায়, বিহারই দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।
এছাড়া দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকায় ফয়েজ-ই-ইলাহী মসজিদের কাছে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান মাওলানা খালিদ রশিদ।
তিনি বলেন, “তুর্কমান গেটের কাছে যা ঘটেছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। বিশেষ করে তীব্র শীতের মধ্যে সেখানকার মানুষ যে দুর্ভোগের শিকার হয়েছে, সে বিষয়ে সবাইকে সংবেদনশীল হতে হবে।”
তিনি আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “হাইকোর্টের নির্দেশনা ও তা বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত একসঙ্গে বসে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান করা।”
এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তুর্কমান গেট এলাকায় পৌর করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সহিংসতার ঘটনায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১১ জনে।

আপনার মতামত লিখুন