ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কেন্দ্র আদেন। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে শহরটিতে জারি থাকা রাত্রীকালীন কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অনুগত বাহিনী ‘আলোইয়াত আল-আমালিকা’ (জায়ান্ট ব্রিগেডস) শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আদেন শহরের সব জেলায় জারি থাকা কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে নাগরিক ও যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
বাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য আবদুর রহমান সালেহ আল-মুহাররামি-এর নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদেনে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সেবা ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আদেনে রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করেছিল ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’। লক্ষ্য ছিল শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরকারি বাহিনী ‘দিরা আল-ওতান’ (শিল্ড অব দ্য নেশন) ফেসবুকের মাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি-এর নির্দেশে তারা আদেনে পৌঁছেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা।
এই প্রেক্ষাপটে ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’ ইতোমধ্যে আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ইয়েমেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। একদিকে ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (পরে আত্মবিলুপ্ত), অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বৈধতা-সমর্থনকারী জোট।
ডিসেম্বরের শুরুতে ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বাহিনী সৌদি আরব সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা মিলিয়ে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক আয়তনের (প্রায় ৫৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার) সমান। তবে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও তারা সেখান থেকে সরে না দাঁড়ানোয় একাধিক দিনের সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী ‘দিরা আল-ওতান’ ওই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
পরবর্তীতে আবইন, শাবওয়া ও লাহিজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরকারি বাহিনীকে স্বাগত জানায়। এতে করে আদেন ও আল-দালিয়া প্রদেশের কিছু অংশ ছাড়া ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে সংগঠনটি নিজেকে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
দক্ষিণ ইয়েমেনকে উত্তর থেকে আলাদা করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালালেও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে।
বিষয় : ইয়েমেন

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার অন্যতম কেন্দ্র আদেন। তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির ইঙ্গিত দিয়ে শহরটিতে জারি থাকা রাত্রীকালীন কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা এসেছে। এতে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফেরার পথ তৈরি হয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অনুগত বাহিনী ‘আলোইয়াত আল-আমালিকা’ (জায়ান্ট ব্রিগেডস) শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) আদেন শহরের সব জেলায় জারি থাকা কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে নাগরিক ও যানবাহন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
বাহিনীর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য আবদুর রহমান সালেহ আল-মুহাররামি-এর নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদেনে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং সেবা ও জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাময়িক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আদেনে রাত্রীকালীন কারফিউ জারি করেছিল ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’। লক্ষ্য ছিল শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধ।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সরকারি বাহিনী ‘দিরা আল-ওতান’ (শিল্ড অব দ্য নেশন) ফেসবুকের মাধ্যমে ঘোষণা দেয় যে, প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি-এর নির্দেশে তারা আদেনে পৌঁছেছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা।
এই প্রেক্ষাপটে ‘জায়ান্ট ব্রিগেডস’ ইতোমধ্যে আদেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ইয়েমেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে তীব্র সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। একদিকে ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (পরে আত্মবিলুপ্ত), অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার ও বৈধতা-সমর্থনকারী জোট।
ডিসেম্বরের শুরুতে ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বাহিনী সৌদি আরব সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা মিলিয়ে ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক আয়তনের (প্রায় ৫৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার) সমান। তবে স্থানীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও তারা সেখান থেকে সরে না দাঁড়ানোয় একাধিক দিনের সংঘর্ষের পর সরকারি বাহিনী ‘দিরা আল-ওতান’ ওই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে।
পরবর্তীতে আবইন, শাবওয়া ও লাহিজ প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরকারি বাহিনীকে স্বাগত জানায়। এতে করে আদেন ও আল-দালিয়া প্রদেশের কিছু অংশ ছাড়া ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং একপর্যায়ে সংগঠনটি নিজেকে ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
দক্ষিণ ইয়েমেনকে উত্তর থেকে আলাদা করার দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালালেও কেন্দ্রীয় সরকার বরাবরই দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও ঐক্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন